চকরিয়ায় সড়কে নিহত ৫ ভাইয়ের পরিবার পেলেন আরো ১ লাখ টাকা, ঘাতক ড্রাইভার আটক

184

মোঃশাহ আলম, চকরিয়াঃ ক্সবাজারের চকরিয়ায় পিকআপ ভ্যান চাপায় নিহত পাঁচ ভাইয়ের পরিবারকে নগদ এক লাখ টাকা ১০ বস্তা চাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী অনুদান দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

শুক্রবার বিকাল ৪ টায় সরেজমিনে নিহতের পরিবারের হাতে অনুদান তুলে দেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আমিন আল পারভেজ। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ান, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী উপজেলা সহকারী কর্মকর্তা (ভুমি) রাহাত উজ্জামান, ডুলাহাজারা ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর সহ হিন্দু ও বৌদ্ধ পরিষদের নেতৃবৃন্দরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এদিকে ঢাকা থেকে ঘাতক ড্রাইভার শহিদুল ইসলাম সাইফুলকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আমিন আল পারভেজ জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। পাশপাশি জব্দ করা হয়েছে ঘাতক পিকআপ ভ্যানও।
মঙ্গলবার রাতে পিকআপ ভ্যান চালককে অজ্ঞাত আসামি করে চকরিয়া থানায় নিহতদের ছোট ভাই প্লাবন চন্দ্র সুশীল বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। এ ছাড়াও তাদেরকে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য সুপারিশের আশ্বাস দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আমিন আল পারভেজ।

এর আগে চকরিয়া পেকুয়ার সাংসদ জাফর আলম বিএ (অনার্স) এমএ’র পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা, চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে এক লক্ষ ২৫ হাজার টাকা, স্থানীয় চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর ২০ হাজার টাকা, পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
চকরিয়া থানার ওসি ওসমান গণি জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টার সময় নিহতদের ছোট ভাই প্লাবন চন্দ্র সুশীল বাদি হয়ে মামলা করেছেন। তার আগে ডুলাহাজরা থেকে পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়। চালককে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি ।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে কক্সবাজার—চট্টগ্রাম মহাসড়কের মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালের অদূরে পিকআপ ভ্যানচাপায় ঘটনাস্থলেই চার ভাই নিহত হন। এ সময় গুরুতর আহত হন আরও ৫ জন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হাওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের আরেক ভাই সরণ শীল মারা যান। নিহত অন্য চারজন হলেন চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের সগীর শাহ কাটা গ্রামের মৃত সুরুজ চন্দ্র শীলের ছেলে নিরুপম শীল, অনুপম শীল, দীপক শীল ও চম্পক শীল।

ডুলাহাজরা ইউনিয়নের সগীর শাহ কাটা গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী সুরেশচন্দ্র মারা যান ১০ দিন আগে। মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) তার অন্তে্যষ্টিক্রিয়ার অংশ হিসেবে মাথা মোড়ানোর জন্য যান তার সন্তানরা। এই কাজের জন্য তারা মহাসড়কের পূর্ব পাশের বনে গিয়েছিলেন। কাজ শেষে মালুমঘাটের হাসিনা পাড়া এলাকায় রাস্তার পার হচ্ছিলেন তারা। পিকআপ চাপা দিয়ে পালিয়ে যাবার ৪ দিন পর ঢাকা থেকে ঘাতক ড্রাইভার শহিদুল ইসলাম সাইফুলকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।