ঘুষের ভিডিও ফাঁস করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা (ভিডিও)

180

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : সেবা গ্রহীতার কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও প্রকাশ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার ইউপি সচিব ফিরোজ আলম।

ফিরোজ আলম লক্ষ্মীপুরে মামলা না করে চট্রগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সাইবার ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিক রনওন হোসেন তাসকিনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৯ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন- পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৪ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

সাংবাদিক তাসকিন হোসেন রবিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে তার নামে হয়রানিমূলক মামলাটি করেছেন ইউপি সচিব ফিরোজ আলম।

এদিকে মামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। অনিয়মের ভিডিও প্রকাশ করায় তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন লক্ষ্মীপুরের সংবাদকর্মীরা।

রবিন ”Lakshmipur News 24. Net” নামে একটি ফেজবুক পেজের এডমিন। সম্প্রতি তার পেজে ইউপি সচিব ফিরোজ আলমের একটি ভিডিওচিত্র পোস্ট করেন। এর সূত্র ধরে ফিরোজ আলমকে দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের আদেশ দেন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ারা হোসাইন আকন্দ। এর পরপরই ইউপি সচিব ফিরোজ আলমের বিরুদ্ধে ভিডিওচিত্রে দেখানো ঘুষ গ্রহণের ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয় যা এখনও চলমান।

ইউপি সচিব ফিরোজ আলম সাইবার ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করেন, রবিন ”Lakshmipur News 24. Net” নামের একটি পেজবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এতে তার সন্মান ক্ষুন্ন হয়েছে।

ফিরোজ আলমের দাবি, ভিডিওটি ঘুষ লেনদেনের ভিডিও নয়। পরিষদের খালি বস্তা বিক্রির জন্য তিনি একজনের সাথে ৫ হাজার টাকা লেনদেনের কথা বলেছেন। সেটাকে জন্মনিবন্ধনের সনদের জন্য ঘুষ গ্রহণের কথোপকথন হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। এজন্য তাকে ইউপি সচিবের পদ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অন্যদিকে জন্মনিবন্ধনে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী আনোয়ার হোসেন জানান, ৩ মাস ইউনিয়ন পরিষদে ধর্না দিয়ে সচিবকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে জন্মনিবন্ধন নিতে হয়েছে। এতে ৫০০ টাকা কম দিলে সচিব দাবি করেন, এগুলো তিনি ভক্ষণ করবে না, উধ্বর্তন কর্মকর্তারা নেবেন। এভাবে এই ইউপি সচিব শুধু আমার কাছ থেকে না, অনেক মানুষের কাছ থেকেই ৫/১০ হাজার টাকার বিনিময়ে জন্মনিবন্ধনসহ সরকারি সেবা প্রদান করে সরকারের মান ক্ষুন্ন করছে।