গান গাইতে গাইতে মঞ্চের ওপর ঢলে পড়েন ফিরোজ সাঁই : তসলিমা

112

ভারতের জনপ্রিয় প্লেব্যাক গায়ক কেকে চলে গেছেন মাত্র ৫৪ বছর বয়সে। কলকাতা নজরুল মঞ্চে পারফর্ম করতে করতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সুঠাম, ছিমছাম গড়নের কেকে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার মৃত্যু নিয়ে রহস্যও তৈরি হয়েছে। বলা হচ্ছে, কেকের মাথা ও মুখে নাকি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এজন্য কলকাতা নিউমার্কেট থানায় অপমৃত্যুর মামলাও হয়েছে। তদন্ত করছে পুলিশ।

কেকের মৃত্যুর কয়েকদিন আগেই মঞ্চে গান গাইতে গাইতে মঞ্চের ওপরই মৃত্যুবরণ করেন করেন মালায়ালি শিল্পী এদাভা বশির।

এছাড়া ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশের বিখ্যাত সংগীতশিল্পী ফিরোজ সাঁইও তুমুল জনপ্রিয় ‘এক সেকেন্ডের নাই ভরসা’ গানটি গাইতে গাইতে ঢলে পড়েছিলেন মঞ্চের ওপর। কেকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করতে গিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

পৃথিবীর অনেক শিল্পী মঞ্চে পারফর্ম করতে করতে মারা গেছেন জানিয়ে বুধবার, ১ জুন ফেসবুক পোস্টে তসলিমা নাসরিন লেখেন, বাংলাদেশের বিখ্যাত সংগীতশিল্পী ফিরোজ সাঁই ১৯৯৫ সালে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে এক সেকেন্ডের নাই ভরসা গানটি গাইতে গাইতে মঞ্চের ওপর ঢলে পড়েন। কী হয়েছিল? স্ট্রোক। স্ট্রোক থেকে মৃত্যু।

তসলিমা নাসরিন আরও লেখেন, সত্যিই তো। এক সেকেণ্ডের নাই ভরসা। গতকাল (মঙ্গলবার) কলকাতার নজরুল মঞ্চে গান গাইতে গাইতে ঠিক নয়, তবে গানের অনুষ্ঠান থেকে হোটেলে পৌঁছেই সংগীতশিল্পী কেকের মৃত্যু হলো। মালায়ালি শিল্পী এদাভা বশিরও তিন দিন আগে গান গাইতে গাইতে মঞ্চের ওপরই মৃত্যুবরণ করেন। আসল সত্যটা হলো, এক সেকেণ্ডের নাই ভরসা।

সদ্যপ্রয়াত প্লেব্যাক শিল্পী সময়ের অনেক আগেই চলে গেছেন ইঙ্গিত করে তসলিমা তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, কেকের বয়স এমন কিছু নয়। দেখলে মনে হয়, নিয়মিত শরীরচর্চা করা শরীর। স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন।

ফেসবুক পোস্টে তসলিমা প্রশ্ন করেন, (স্বাস্থ্য সচেতন) হলে কী হবে? ওই যে ফিরোজ সাঁই গেয়েছিলেন, এক সেকেণ্ডের নাই ভরসা। কেউ চমৎকার জীবনযাপন পদ্ধতি মেনে চলেও হুট করে চলে যান। কেউ আবার কিছুই না করে ৯৯ বছর বেঁচে থাকেন।

জিনে রোগ শোক থাকে। ওটির আরেক নাম হয়তো নিয়তি। ওটিকে খুব একটা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা যায় না।

আমার মনে হয়, দীর্ঘদিন শারীরিক কষ্ট যন্ত্রণায় ভুগে মরার চেয়ে এমন হঠাৎ করে মরে যাওয়া অনেক ভালো।

কেকের শেষ মঞ্চ পরিবেশনার কথা উল্লেখ করে তসলিমা তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, কেকের অনুষ্ঠানে প্রচুর শ্রোতা এসেছিল। প্রচুর সমর্থন তিনি পেয়েছেন। প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছেন। মন তখন নিশ্চয়ই তার ভালোলাগায় ভরে ছিল। আনন্দে নেচেছিল হৃদয়। এই সুখানুভূতি নিয়ে যদি মৃত্যু হয়, তবে সেই মৃত্যু সওয়া যায়।

ফেসবুক পোস্টের শেষদিকে আক্ষেপ প্রকাশ করে তসলিমা লেখেন, কেউ ভালোবাসে না, কেউ কাছে আসে না, কেউ নেই কোথাও, শুধু বেদনা, শুধু হতাশা, শুধু দীর্ঘশ্বাস- এমন দুঃখ নিয়ে পৃথিবী থেকে চলে যাওয়া- এমন মৃত্যু সওয়া যায় না।