গাজীপুরে নদী দূষণ বন্ধ করলো প্রশাসন 

গাজীপুরে নদী দূষণ বন্ধ করলো প্রশাসন
গাজীপুরে নদী দূষণ বন্ধ করলো প্রশাসন

প্যারাগন অ্যাগ্রো লিমিটেড অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর করে নিশ্চয়তা প্রদান করে আর ড্রেন করা হবে না,পরিবেশ দূষণ হয় এমন পদক্ষেপ নিবনা।প্রশাসন, স্হানীয় জনগণ, নদী পরিব্রাজক দল এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় প্যারাগন কর্তৃপক্ষ। 

গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের বাউনি গ্রামে অবস্থিত সেরার খালটি সরাসরি গিয়ে পড়েছে পারুলী নদীতে । এখনও কোনো ধরণের ইন্ডাস্ট্রির দূষণের কবলে না পড়া পারুলী নদীর স্বচ্ছ জল মিঠা পানির প্রাকৃতিক একমাত্র আধার বলা যেতে পারে । অনেকদিন থেকেই প্যারাগন অ্যাগ্রো লিমিটেড তাদের দূষিত বর্জ্য সেরার খালে ফেলে আসছিলো । সেই দূষিত বর্জ্য ফেলার জন্য কিছুদিন আগে ভেকু দিয়ে গভীর ড্রেন খনন করা শুরু করে প্যারাগন অ্যাগ্রো লিমিটেড । 

এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে আরও বেশী শঙ্কিত হয়ে পড়ে । তখন এ বিষয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশিত করে । বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল স্থানটি পরিদর্শন করে । তৎক্ষনাত শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম পরিদর্শন করেন এ জায়গাটি । তিনি বলেন এভাবে কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান কোনো খালে ময়লা বা বর্জ্য পানি ফেলতে পারেনা । 

সাথে সাথে তৃতীয় মাত্রা  সহ অনেকগুলো জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয় । বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের শ্রীপুর শাখার পক্ষ থেকে প্রশাসনকে বার বার জানানো হয় এবং এলাকাবাসী এই ড্রেন খননের বিরুদ্ধে  স্মারকলিপি প্রদান করে । 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাউনী গ্রামের জনসাধারণকে সাথে নিয়ে প্যারাগন অ্যাগ্রো লিমিটেডের সাথে মত বিনিময় সভায় বসে সিদ্ধান্ত নেন যে এই খালে বর্জ্য পানি ফেলা যাবেনা । এ মর্মে প্যারাগন অ্যাগ্রো লিমিটেড অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর করে আর ড্রেন করা হবে না বলে অঙ্গীকার করেন । 

এ সময় প্যারাগন অ্যাগ্রো লিমিটিডের প্রকৌশলী ইটিপির প্লান উপস্থাপন করেন বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন । 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন আমরা টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে কোনো ধরণের ছাড় দেবো না । লবলং খালও যাতে দখল ও দূষণ মুক্ত করা যায় সে ব্যপারে দ্রুতই পদক্ষেপ নেবো । এই ড্রেন না করার ব্যপারে প্রথম থেকে কাজ করা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একজন সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত খামারী ও সমাজ সেবক আকরাম হোসেন বাদশা বলেন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যা করেছেন তাতে তাকে ধন্যবাদ । আমরা সবাই খাল ও জলাশয়ের স্বচ্ছ জল চাই, বিশুদ্ধ খাবার চাই এবং নিয়মতান্ত্রিক শিল্প প্রতিষ্ঠান চাই । 

বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল শ্রীপুর শাখার উপদেষ্টা পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান আহাম্মাদুল কবীর বলেন যতদিন দূষণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে ততদিনই আমরা কথা বলে যাবো । তিনিও উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ প্রদান করেন । 

এলাকাবাসীর চাওয়া এ খাল কৃষির উপযোগী থাক । মাছের ও মিঠাপানির উৎস সেরার খালটি বিশুদ্ধ রাখা গেলে এ অঞ্চলের পানির যে ধারক তা প্রাকৃতিক ভাবেই পানি ধরে রাখতে সক্ষম হবে এবং পানির অভাব মেটাতে সহায়তা করবে । 

বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন এ খাল ও নদী রক্ষায় সবার সম্মিলিত একটি প্রয়াস থাকতে হবে । পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সরকারের সকল দপ্তর যাতে এ বিষয়ে তাদের দৃষ্টি দেয় সেজন্য কাজ করতে হবে । খাল ও জলাশয় বাঁচাতে পারলেই আমরা বাঁচবো বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন ।