গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বাঁধে ফাটল

55

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধের ২২টি পয়েন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে। গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ২০ ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লবিত হয়ে ১০ হাজার পরিবারের অন্তত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত বিঘা জমির পাট, বাদাম, তিল, কাউনসহ বিভিন্ন ফসল।

বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় মানুষ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। ইতিমধ্যে সদর উপজেলায় ২টি ও সাঘাটা উপজেলার ১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র ৪ শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

বন্যা কবলিত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দুর্গত এলাকার মানুষ তাদের গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কন্ট্রোল রুম সুত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঘাঘট নদীর পানি শহরের ব্রীজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ও যমুনার পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন জেলার চার উপজেলার বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ৮০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও ৮ হাজার শুকনা খাবারের প্যাকেট মজুতের পাশাপাশি ৪ শতাধিক তাঁবু, স্থায়ী ১০টিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র, মেডিকেল টিম এবং বেশ কিছু নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির অবনতির ফলে ব্রহ্মপুত্র সাত কোটি টাকা দিয়ে নির্মিত বাঁধের অন্তত ২২টি পয়েন্টে ফাটল দেখা হয়েছে। দ্রুত বাঁধ রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বাঁধটি ধসেপড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর অভিযোগ মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কথা থাকলেও বালু দিয়ে দায়সাড়া গোছের কাজ করেছে কর্তৃপক্ষ। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার বালাসীঘাট থেকে কেতকির হাট পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পাশ দিয়ে ১৩ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। দরপত্র ও ঠিকাদারের মাধ্যমে ২০২০ সালে শুরু হওয়া বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হয় ২০২২ সালে। কাজে ব্যয় করা হয় সাত কোটি টাকা।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বাঁধের কাজে বালি ও মাটি মিশ্রিত আছে। ফাটল দেখা দেওয়া স্থানগুলো দ্রুত মেরামত করা হবে।

গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বাঁধে ফাটল