গাইবান্ধায় বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি

67

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধায় বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ চরম খাদ্য সংকটে জীবনযাপন করছে। এছাড়াও গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়ে বানভাসি মানুষ। বিশুদ্ধ পানির অভাবে নানা ধরনের পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে। খাবার, ঔষধ, বিশুদ্ধ পানি ও পয়নিঃষ্কাশনের দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। বন্যা কবলিত গ্রামে সরকারি ত্রাণের জন্য হাহাকার চলছে।

আশ্রয়কেন্দ্র ও উঁচু বাঁধে ঠাঁই নেয়া লোকজন বলেন, গ্রামের প্রতিটি ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। অনেকের বাড়িঘরে গলা সমান পানি। তারা নিজ বসতবাড়ি ছেড়ে পরিবার ও গৃহপালিত পশু নিয়ে বাঁধসহ উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকেই আত্নীয় স্বজনের বাড়িতে চলে গেছে। কেউ কেউ পানির মধ্যেই কষ্ট করে বাড়ীতে অবস্থান করছে। রান্নার জন্য শুকনো চুলা, খড়ি এবং গো-খাদ্যের অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লারচর ও কামারজানি, সুন্দরগঞ্জের হরিপুর ও বেলকা, কাপাসিয়া, ফুলছড়ির কঞ্চিপাড়া, এরেন্ডাবাড়ি ও ফজলুপুর ইউনিয়ন এবং সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের ১০ ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যা কবলিত অনেক মানুষের ঘরে এখনও সরকারি খাদ্য পৌঁছেনি। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে বানভাসিরা।

বন্যার পানিতে পাট, বাদাম, কাউন, মরিচসহ বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একই সাথে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার অন্তত ২৩টি পয়েন্টে নদী ভাঙনে অনেক বসতবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমিসহ নানা স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। বন্যার্ত মানুষের জন্য ১৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে ৮ শত ৫জন পুরুষ, ৬শত ৬১ জন মহিলা, ৪শত ৫৪ জন শিশু এবং ২শত ১০টি গরু আশ্রিত রয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য ২৯টি মেডিকেল টিম গঠন করা হলেও ১০টি মেডিকেল টিম চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে।