গত এক বছরে আত্মহত্যা করেছে ১০১ শিক্ষার্থী

328
জবির ছয় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা
জবির ছয় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

২০২১ সালে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ১০১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন; এ তথ্য দিয়েছে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আঁচল ফাউন্ডেশন’। এর মধ্যে ছাত্রই ৬৫ জন। যার হার ৬৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অর্থাৎ, মেয়েদের থেকে ছেলেদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে। এসব ঘটনার প্রায় ২৫ শতাংশই প্রেমঘটিত।

দেশের প্রায় ৫০টি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার আত্মহত্যার সংবাদ বিশ্লেষণ করে ‘আঁচল ফাউন্ডেশন’ এ তথ্য পায়। আজ শনিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বছর সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়জন শিক্ষার্থী, এরপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চারজন।

বা থেকে ইমরুল কায়েস, মাসুদ আল মাহাদী অপু, অমিতোষ হালদার ও তাহমিদুর রহমান জামিল, ফাইল ছবি

সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আত্মহত্যাকারীদের একটা বড় অংশই ছিল ছাত্র। মোট ৬৫ জন ছাত্র আত্মহত্যা করেন, যা মোট শিক্ষার্থীর ৬৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এ সংখ্যাটা ছিল ৩৬ জন, হার ৩৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে। যার সংখ্যা তিনজন।

আত্মহত্যার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্পর্ক বা প্রেমঘটিত কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। যার হার ২৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

এছাড়া পারিবারিক সমস্যা ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ, মানসিক যন্ত্রণা ১৫ দশমিক ৮৪, পড়াশোনার জন্য ১০ দশমিক ৮৯ এবং আর্থিক সমস্যার জন্য আত্মহত্যা করেছেন চার দশমিক ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী।

বয়সের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ২২-২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করেছেন বেশি, যা ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। ৬০টি আত্মহত্যার ঘটনা বিশ্লেষণে বয়সসীমার এ তথ্য পাওয়া যায়।

অনার্সপড়ুয়া তৃতীয় এবং চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার তুলনামূলক বেশি, যা ৩৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

‘আঁচল ফাউন্ডেশন’ বলছে, মহামারির মধ্যে সামাজিক-আর্থিক ও পারিবারিক চাপ ছাত্রদের আত্মহত্যার পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।