কেরানীগঞ্জে মীম হত্যার অভিযুক্ত পলাতক আসামি আলাউদ্দিন গ্রেফতার

ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিজের দেড় বছরের আপন ভাতিজিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযুক্ত পলাতক থাকা চাচাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কুমিল্লার বড়ুরা থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক মাসুদ মিয়াসহ পুলিশের একটি চৌকস দল। চট্রগ্রাম থেকে বেড়াতে আসা ভাতিজিকে হত্যার পর জংগলে ফেলে পালিয়ে যায় চাচা আলাউদ্দিন(৫২)। পরদিন মীমের দাদা মতিন বাদী হয়ে আপন ছেলের নামে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করলে দীর্ঘ এক মাস পর তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ । মীমের পিতার নাম রিয়াজুল ইসলাম। নিহত এবং ঘাতক উভচর বাড়ী উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়নের মধুরচর গ্রামে।

মীমের মা মালেকা বেগম কে ঘায়েল করতে এবং তাকে কু প্রস্তাবে রাজি করতে মেয়েকে প্রথমে অপহরণ এবং পরবর্তীতে হত্যা করে চাচা আলাউদ্দিন। তবে আলাউদ্দিন জানিয়েছে মারতে নয়, ভয় দেখিয়ে তার মাকে গায়েল করতে অসাবধানতাবসত শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায় মীম।

মামলা এবং পরিবার সূত্রে জনা গেছে, মীমের বাবা-মা এবং ভাই মিরাজ(৮)সহ স্ব – পরিবারে চট্টগ্রাম বসবাস করেন । গত ৮ জুলাই ঈদুল আযহা উপলক্ষে দাদা বাড়ীতে বেড়াতে আসে । ১৫ জুলাই দুপুর অনুমান সাড়ে ১২ টার দিকে বাদীর স্ত্রী মালেকা বেগম এর নিকট হতে আসামী মোঃ আলাউদ্দিন ভাতিজি মীম কে নিয়ে এলাকায় ঘুরতে বেড় হন। পরবর্তীতে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ার পরও আলাউদ্দিন ভাতিজিকে নিয়ে বাসায় ফেরায় পরিবারের লোকজন তাহাদেরকে খোঁজাখুজি শুরু করে।

পরবর্তীতে তাদেরকে কোথাও না পেয়ে মীমের দাদা মোঃ মতিউর রহমান মতিন কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় হাজির হয়ে ছেলে আলাউদ্দিনের নামে একটি সাধারন ডায়রী করেন।

এর ধারাবাহিকতায় গত ১৭ আগস্ট আসামী তার শশুর বাড়ী কুমিল্লা জেলার বড়ুরা থানাধীন ডাউকসার গ্রামে বেড়তে গেলে আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা আসামীর স্ত্রী রুকসানা বেগম তার নিকট মীম এর কথা জানতে চাইলে সে জানায়, সাত্তার মৃধার ধনচে খেতের ভিতর মীমকে গলাটিপে হত্যা করে পাশের পুকুর সংলগ্ন ঘন জংগলে ফেলে দিয়েছে।

আসামীর শশুর বাড়ীর লোকজন উক্ত ঘটনার বিষয় থানাকে অবহিত করিলে বড়ুরা থানা পুলিশের সহায়তায় কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে তাকে আটক করে।

আসামীর দেখানো মতে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল হইতে নিহতের মাথার খুলির বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে । উদ্ধারকৃত মাথার খুলির অংশবিশেষ সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করিয়া ময়না তদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রেরন করা হয়েছে ।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মামুন আর রশীদ জানিয়েছে, আসামি গ্রেফতারের পর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে আসামি স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এবং তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।