কেয়ামতের দিন কোরআন যার জন্য শাফায়াত করবে

93

পবিত্র কোরআন আমাদের জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এক বিশেষ নেয়ামত। এটি মানুষকে পবিত্র করে আর সবকিছুর সমাধানও এর মাঝেই নিহিত। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন-
وَ اِنَّهٗ لَهُدًی وَّ رَحۡمَۃٌ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ اِنَّ رَبَّکَ یَقۡضِیۡ بَیۡنَهُمۡ بِحُکۡمِهٖ ۚ وَ هُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡعَلِیۡمُ
‘আর নিশ্চয়ই এটি বিশ্বাসীদের জন্য পথনির্দেশ ও করুণা। তোমার প্রতিপালক অবশ্যই নিজ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওদের মধ্যে মীমাংসা করে দেবেন। তিনি পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা নমল : আয়াত ৭৭-৭৮)

পবিত্র কোরআন এমন এক ঐশীগ্রন্থ যার কোনো স্ববিরোধিতা নেই। যেভাবে আল্লাহ তাআলা বলেন-
اَفَلَا یَتَدَبَّرُوۡنَ الۡقُرۡاٰنَ ؕ وَ لَوۡ کَانَ مِنۡ عِنۡدِ غَیۡرِ اللّٰهِ لَوَجَدُوۡا فِیۡهِ اخۡتِلَافًا کَثِیۡرًا
‘তারা কি কোরআন সম্বন্ধে চিন্তা-ভাবনা করে না? এ (কুরআন) যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে (অবতীর্ণ) হতো, তাহলে নিশ্চয়ই তারা তাতে অনেক পরস্পর-বিরোধী কথা পেত।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৮২)

এ আয়াতের অর্থ এটাই যে, যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ এ পবিত্র কোরআনের প্রণেতা হতো তাহলে মানুষ এর মাঝে নিশ্চয়ই অনেক স্ববিরোধী শিক্ষা ও কথা দেখতে পেত কিন্তু পবিত্র কোরআনে কোনো ধরনের স্ববিরোধিতা নেই।

আমরা যেন নিয়মিত পবিত্র কোরআন পাঠ করতে থাকি সে বিষয়েও আল্লাহ তাআলা আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ পাক বলেন-
اَقِمِ الصَّلٰوۃَ لِدُلُوۡکِ الشَّمۡسِ اِلٰی غَسَقِ الَّیۡلِ وَ قُرۡاٰنَ الۡفَجۡرِ ؕ اِنَّ قُرۡاٰنَ الۡفَجۡرِ کَانَ مَشۡهُوۡدًا
সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ার সময় থেকে রাতের গাঢ় অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ প্রতিষ্ঠা কর, আর ফাজরের নামাজে কোরআন পাঠ (করার নীতি অবলম্বন কর); নিশ্চয়ই ফাজরের নামাজের কোরআন পাঠ (ফেরেশতাগণের) সরাসরি সাক্ষ্য হয়।’ (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ৭৮)

পবিত্র কোরআন মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক। মানবজীবনের সব সমস্যার সমাধান কোরআনে বিদ্যমান। কোরআন এমন এক পরিপূর্ণ কিতাব; যার মাঝে আধ্যাত্মিক ব্যাধি থেকে মুক্তিদানকারী ব্যবস্থাপত্রও রয়েছে।

হজরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘তোমরা কোরআন পড়ো, কারণ কোরআন কেয়ামতের দিন তার পাঠকের জন্য শাফায়াত করবে।’ (মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোরআন (তার) পাঠকারীর জন্য কেয়ামতের দিন শাফায়াতকারী হবে। এ থেকে বুঝা যায়, কোরআন পাঠের গুরুত্ব অনেক বেশি।

কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা প্রভাতের তেলাওয়াতের মহিমা বর্ণনা করেছেন। এর অর্থ কি? এর দুটি অর্থ হতে পারে। প্রথমত- তাহাজ্জুদের নামাজে দাঁড়িয়ে কোরআন পাঠ আর দ্বিতীয়ত- ফজরের নামাজ আদায়ের পর কোরআন পাঠ। এরূপ আমল আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়। তাই যে ব্যক্তি আল্লাহর স্মরণে তার প্রতিদিনের কর্ম সূচনা করে দিনের বাকী অংশটুকু তার উত্তমভাবে কাটানোটাই স্বাভাবিক।

সুতরাং সবার উচিত, প্রতিদিন সকালে কোরআন তেলাওয়াতে অভ্যস্ত হওয়া। কেননা এরই মাঝে সব কল্যাণ নিহিত। আমরা যদি পবিত্র কোরআন স্বচ্ছ হৃদয় নিয়ে পাঠ করি আর এর নির্দেশাবলীর ওপর আমল করে চলি তাহলে অবশ্যই আমরা সব ধরণের পাপ এবং সমস্যা থেকে দূরে থাকব ইন শা আল্লাহ।

মনে রাখতে হবে
শুধু পবিত্র কোরআন পাঠ করলেই হবে না, এর অর্থও বুঝতে হবে এবং এর নির্দেশাবলীর ওপর আমল করতে হবে। কেননা এই কোরআন মুত্তাকিদের জন্য হেদায়াত। যারা সৎ নিয়তে এ কোরআন পাঠ করবে এবং এর ওপর আমল করবে তারা অবশ্যই হেদায়াত লাভ করবে, এটা আল্লাহ পাকের ওয়াদা।

তাই আসুন, আমরা সবাই পবিত্র কোরআন নিয়মিত পাঠ করি এবং কোরআনে আলোয় নিজেদের জীবন গড়ি আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আগুনের হাত থেকে রক্ষা করি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তার পবিত্র কালাম প্রতিনিয়ত পড়ার, বুঝার এবং আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।