কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম সাজে সেজেছে গোয়ালন্দ রেলস্টেশন

0
95
কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম সাজে সেজেছে গোয়ালন্দ রেলস্টেশন
কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম সাজে সেজেছে গোয়ালন্দ রেলস্টেশন
Spread the love

গোয়ালন্দ প্রতিনিধি: পঞ্জিকা অনুসারে প্রকৃতিতে এখন গ্রীষ্মকাল। এ ঋতুতে কখনও কালবৈশাখীর রুদ্র তাণ্ডব, কখনও রোদের খরতাপ। এখন কৃষ্ণচূড়া ফোটার সময়। আজ গাছজুড়ে লাল রঙের ফুলের সমারোহ। এই লাল রঙ গাছের সবুজ পাতাকে ঢেকে দিয়েছে নীরবে সৌন্দর্য্য বিলাচ্ছে কৃষ্ণচূড়া।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ শহর এখন কৃষ্ণচূড়ার রঙে রঙিন, বিশেষ করে গোয়ালন্দ রেলস্টেশন সংলগ্ন রেললাইন এর পাশ দিয়ে প্রায় শতাধিক গাছে শোভা পাচ্ছে কৃষ্ণচূড়া ফুল। আর এগুলো রোপন করেছে স্থানীয় কিছু সৌন্দর্য প্রেমি যুবক। তাদের রয়েছে একটি সামাজিক সংগঠন যার নাম ‘একজ জাগরণে’।

খোজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ১১ বছর আগে রেললাইনের রাস্তার দু’পাশসহ গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বাজার এলাকায় রোপণ করে অন্তত ১হাজারেরও বেশি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা। আজ সে সব চারা বড় গাছে রূপান্তর হয়েছে, শোভা ও সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে এলাকার। তাদের বিষয়ে আরো জানা যায় তারা পাখি সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন কাজ করে থাকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য তাদের রোপিত গাছে মাটির হাড়ি বেধে দেয়া। এ ছাড়াও তারা প্রান ও প্রকৃতি নিয়ে কাজ করে থাকে।

একজ সদস্যরা গাছ রোপন, পরিচর্যা ও এর রক্ষনাবেক্ষণ কাজে তারা উল্লেখযোগ্য কারও কাছ থেকে কোন সহযোগিতা গ্রহণ করেনি। সংগঠনের নিজেদের মধ্য থেকে টাকা তুলে গায়ে খেটে তারা চারাগুলো রোপণসহ পরিচর্যা করেছেন তারা। কয়েক বছর আগে একবার গাছগুলো কেটে ফেলার উদ্যোগ নেয় রেলওয়ে। সে সময় একজের তরুণরা রেললাইনের মধ্যে শুয়ে পড়ে রেল অবরোধ করেন। আসেন রেল কর্মকর্তারা। এতে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। রক্ষা পায় সারি সারি কৃষ্ণচূড়া গাছ।

সরজমিন গোয়ালন্দ রেলস্টেশন ও তার পাশে অবস্থিত সড়ক দেখা যায় সড়কের পাশ রোপিত কৃষ্ণচূড়া গাছে ব্যাপকভাবে ফুল ফুটেছে এবছর, এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন এসে গাছের নিচে দাড়িয়ে ছবি তুলছে, অনেককেই দেখে গেছে পরিবার নিয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করতে, অনেককেই আবার নিচে পরে যাওয়া ফুল কুড়িয়ে

নিচ্ছে।স্থানীয় এলাকাবাসীদের সাথে একজ রোপিত গাছ নিয়ে কথা হলে তারা জানায়, ১০-১১ বছর আগে কিছু ছেলে পেলেদের দেখেছিলাম এই গাছ গুলো রোপন করতে, আমরা ভেবেছিলাম হয়তোবা রেলের পাশে বলে গাছ গুলো কাটা পরবে, একবার কাটার চেষ্টা চালালেও তা হয়নি। গাছ গুলো যখন আগে ছিলোনা, তখন রাস্তা দিয়ে দিনের বেলায়

প্রচন্ড রোদে হাটা কষ্ট হয়ে যেত, এই গাছ গুলোর জন্য এখন আমাদের চলাচল অনেক সহজ হয়েছে, আমরা এখন গাছের নিচে বসতে পারি, গাছ গুলো রোদে ছাতার মত কাজ করে তাছাড়াও বিকেলের দিকে এই গাছের নিচে বসে আড্ডা দেই, এছাড় এলাকার অনেক হাট এই গাছের নিচেই বসে।

একজ সদস্য শামীম আহমেদ বলেন, গাছ গুলো যখন আমরা রেললাইনের পাশ দিয়ে রোপন করি তখন আমাদের উন্মাদ, পাগল সহ আরো অনেক কিছু বলেছে অনেকেই, কিন্তু আমরা এই সব কানে দেইনি, আমরা আমাদের কাজ করে গিয়েছি, ১১ বছর পর যখন গাছ গুলো বড় হয়েছে ও তাতে  ফুল ফুটছে, তখন কতখুশি লাগে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায়না। তবে আবার কষ্টও লাগে যখন দেখি কতিপয় কিছু লোক তাদের বিভিন্ন ব্যানার পোষ্টার পেড়েক ঠুকে গাছে ঝোলায়।

একজ জাগরণের আহ্বায়ক সুজন সরওয়ার বলেন, এলাকার সৌন্দর্য ও পরিবেশের কথা বিবেচনা করে আমরা প্রতিবছর গাছ রোপন করে থাকি, এ পর্যন্ত আমরা কয়েক হাজার গাছ রোপন করেছি।  কৃষ্ণচূড়া ও হাজারখানেক তালগাছ বিভিন্ন স্থানে রোপণ করা হয়েছে। আমরা সব সময় প্রান ও প্রকৃতি নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করি, আমরা

আমাদের নিজ অর্থায়নে এ ধরনের কর্মকাণ্ড গুলো পরিচালনা করে থাকি। তিনি আরো বলেন, গাছ ও ফুল শোভাবর্ধন করলেও এ সৌন্দর্যে ভাটা ফেলছে বিভিন্ন ব্যানার ও পোষ্টার, আমাদের অসচেতনতা কারনে প্রান ও প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে যা আমাদের বোঝা উচিত, এ নিয়ে আমাদের আরো বেশি সচেতন হতে হবে।