কলেজ অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা : পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন (ভিডিও)

131

জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে : রাসূল (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তিকারী ভারতের বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার ছবি দিয়ে এক ছাত্রের ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে কলেজ অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে নড়াইলজুড়ে।

এই ঘটনায় নড়াইল জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে কেউ কেউ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি অভিযুক্ত ছাত্র রাহুল দেব ও কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরিয়ে দেওয়ার ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, দুজনের গলায় জুতার মালা পরানো হয়েছে। কয়েকজন পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনাটি নড়াইলের টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।
ঘটনাটির পক্ষে-বিপক্ষে নানা ধরনের দাবি তুলছেন অনেকে। তবে সবাই প্রকৃত কারণ উদঘাটনের পক্ষে।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনাকে ছাড় দেয়া হবে না বলে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাম্প্রদায়িক সম্পৃতি রক্ষার্থে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসার ঈমাম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খৃষ্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষরা অংশ নেন।

সভায় জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার দিন তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল সহিংসতা এড়িয়ে সবাইকে নিরাপদে বাঁচিয়ে আনা। তারা সেটিই করেছেন।

সভায় জানানো হয়, তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জুবায়ের হোসেন চৌধুরীর ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর সার্বিক বিষয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের উস্কানি তারা মেনে নেবেন না।

সভায় অধিকাংশ বক্তা অভিযুক্ত ছাত্রের বিচার দাবি করেছেন। তবে আইন হাতে তুলে নিয়ে তিন শিক্ষকের মোটরসাইকেল পোড়ানো এবং নিরপরাধ অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা পরানোর বিষয়টি নিয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অন্যদিকে কয়েকজন বক্তা সরাসরি বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে দাবি করেন। তারা বলেন, ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে শিক্ষক আক্তার হোসেন টিংকু। তার উদ্দেশ্য স্বপনকে সরিয়ে ওই পদ দখল করা।

এদিকে মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের প্রভাষক আক্তার হোসেন টিংকু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনা শুরুর আগে একটি ক্লাস নিই। পরে অপর ক্লাস নেওয়ার সময় অধ্যক্ষ আমাকে ডাকলে সেখানে যাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি। এখানে অধ্যক্ষ হওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই।

মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও সদর উপজেলা আ.লীগ সভাপতি অচিন চক্রবর্তী বলেন, ঘটনার দিন আমি ঢাকায় ছিলাম। শুনেছি কলেজের অধ্যক্ষকে জুতার মালা পরানো হয়েছে যা দুঃজনক। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর কলেজ বন্ধ রয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশে পরিস্থিতি বিবেচনায় ঈদের পর কলেজ খুলবে।

প্রসঙ্গত, মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাহুল দেব রায় নিজের ফেসবুক আইডিতে নূপুর শর্মার ছবি দিয়ে মন্তব্য করেন, প্রণাম নিও বস নূপুর শর্মা, জয় শ্রীরাম।

গত ১৮ জুন রাহুল কলেজে আসার পর তার সহপাঠীরা বিষয়টি কলেজ অধ্যক্ষকে জানালে তিনি উপস্থিত শিক্ষকদের পরামর্শক্রমে রাহুলকে স্থানীয় বিছালী পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এরইমধ্যে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে ফেলে। একপর্যায়ে পুলিশের লাঠিচার্জ ও এলাকাবাসীর ইটপাটকেল নিক্ষেপে কলেজ শিক্ষক, পুলিশসহ ১২ জন আহত হয়। বিকেলে পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়সহ অন্যান্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় অভিযুক্ত রাহুলকে পুলিশ আটক করে। পরে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়।