করোনা সংক্রমিত হওয়ার কতদিন পর লক্ষণ প্রকাশ পায়?

95

করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা একদিকে যেমন বাড়ছে, অন্যদিকে দ্রুত সুস্থও হয়ে উঠছেন বেশিরভাগই। তবে করোনামুক্তির পরও নানা উপসর্গ থেকেই যাচ্ছে রোগীর শরীরে। যাকে বিশেষজ্ঞরা লং কোভিড বলছেন।

বর্তমানে করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে অনেকে অজান্তেই সংক্রমিত হচ্ছেন। মৃদু উপসর্গ হওয়ার কারণেই বেশিরভাগ মানুষ সাধারণ সমস্যা ভেবে টের পাচ্ছেন না। আবার অনেকেই সংক্রমিত হলেও উপসর্গহীন।

করোনাভাইরাস শরীরে প্রবেশের কতদিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়? এ বিষয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণা জানাচ্ছে, করোনা শরীরে প্রবেশের মাত্র ২ দিনের মধ্যেই লক্ষণ প্রকাশ পায়।

এই গবেষণার মাধ্যমে এই প্রথম কোনো হিউম্যান ইনফেকশন স্টাডি করা হলো। এই গবেষণাকে হিউম্যান চ্যালেঞ্জ গবেষণাও বলে। গবেষণাটি করেছে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন।

এই গবেষণার কাজে আরও যুক্ত ছিলো টাস্কফোর্স অ্যান্ড ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার, এইচভিআইভিও ও রয়্যাল ফ্রি লন্ডন এনএইচএস ট্রাস্ট।

গবেষণাটির জন্য বিশাল পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীরা যখন করোনায় আক্রান্ত হন তখন থেকেই তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। বিজ্ঞানীরা দেখেন, কখন ও কীভাবে এই ব্যক্তিদের শরীরে ফুটে উঠছে রোগের লক্ষণ।

এভাবেই গবেষকরা দেখেন, করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর ঠিক কতদিনের মাথায় ইনফেকশন হয়। গবেষণায় উঠে এসেছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই গবেষণা জানায়, ইনফেকশন শুরু হয় গলা থেকে। এর ৫ দিনের মাথায় ইনফেকশন সবেচেয়ে গুরুতর স্থানে পৌঁছায়।

গবেষণায় দেখা যায়, করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচার সবেচেয়ে ভালো উপায় হলো মুখ ও নাক মাস্ক দিয়ে ঢেকে রাখা। তাহলেই সুস্থ থাকতে পারবেন। এ ছাড়াও গবেষণায় জানানো হয়েছে, ল্যাটেরাল ফ্লো টেস্টের মাধ্যমেও জানা যায় যে, এই ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষ অন্যদের মধ্যেও রোগ ছড়িয়ে দিতে পারেন কি না।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ইনফেকশন ডিজিজ অ্যান্ড দ্য ইনস্টিটিউট অব ইনফেকশন ডিজিজ বিভাগের অধ্যাপক ও এই গবেষণার প্রধান ক্রিস্টোফার চিউ বলেন, করোনাভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড নিয়ে এই গবেষণায় অনেক তথ্য মিলেছে।

এরই মধ্যে ওমিক্রন নিজেকে বদলে ফেলেছে। চলে এসেছে স্টেলথ ওমিক্রন রূপে। এই ওমিক্রনের উপপ্রজাতি বা বিএ.২ সাব ভ্যারিয়েন্ট শরীরে নানা রকম সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। এই ভ্যারিয়েন্ট সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট/এএফআর/বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড