করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ : মসজিদে যেতে পারবে না শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তি

132

দেশে হঠাৎ করেই করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেছে। গত বেশ কয়েকদিন ধরে ক্রমাগত বাড়ছে করোনাভাইরাসের দৈনিক সংক্রমণ। দৈনিক করোনা সংক্রমণ দুই সহস্রাধিক ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে করোনায় মৃত্যুর ঘটনা।

এ অবস্থায় দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিতদের মসজিদে জামাতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকা, বাসা থেকে ওজু ও সুন্নত নামাজ আদায় করে মসজিদে যাওয়াসহ নয়টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ক্ষেত্রেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার, ২৮ জুন এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনার কথা জানায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনা প্রাদুর্ভাব বেড়েছে সারাদেশে। করোনায় আক্রান্তের হার দ্রুত বাড়ছে।করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের গত ২৬ জুনের ডিওপত্রে কতিপয় বিধিনিষেধ আরোপ করে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ধর্ম মন্ত্রণালয় সব ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মসজিদে জামাতে নামাজের জন্য আবশ্যিকভাবে নয়টি নির্দেশনা পালনের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছে। সেগুলো হলো :

১. মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে। আগত মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে।

২. প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে, সুন্নত নামাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে আসতে হবে। ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

৩. মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসতে হবে।

৪. কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

৫. শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশগ্রহণ করা হতে বিরত থাকবে।

৬. সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতে মসজিদের ওজুখানায় সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

৭. সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

৮. করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে খতিব, ইমাম ও মুসল্লিরা দোয়া করবেন।

৯. খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন।

এসব নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

এদিকে করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে মাস্ক পরা, যথাসম্ভব জনসমাগম বর্জন, কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি পালনসহ ছয়টি নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এ ছয়টি নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সব মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে মঙ্গলবার চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।