কমিশন গঠন করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হোক – মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন

118
কমিশন গঠন করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হোক - মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন
কমিশন গঠন করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হোক - মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন

আজ বুধবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) নাগরিক ঐক্যের আয়োজনে ‘গুম হওয়া পরিবারের ওপর সরকারি নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান’ শীর্ষক প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেছেন, গুম হওয়া মানুষগুলোকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেয়নি সরকার। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা এবং সরকারি কিছু কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ইস্যুতে সরকার সেখানে লবিস্ট নিয়োগ করছে।

বক্তারা বলেন, লবিস্ট নিয়োগ না করে তদন্ত কমিশন গঠন করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হোক।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘কারও বাসায় চুরি হলেও মানুষ থানাতেই যাবে। এখানে মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে। থানাতেই মানুষ যাবে। কিন্তু থানা বয়ান নেবে না, জিডি নেবে না। নিষ্ঠুর, অমানবিক দেশে বাস করি আমরা।’ তিনি আরও বলেন, দেশ যদি ডিজিটাল হয়, তাহলে আগের জিডি পুলিশের কাছে কেন থাকবে না।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান ঘটনা প্রসঙ্গে মান্না বলেন, শিক্ষার্থীরা পুলিশকে ফুল দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তা নেয়নি। পুলিশ, প্রশাসন, সরকার ফুলকে পায়ের নিচে পিষে ফেলে। তারা টাকা চেনে। এই সরকার ও পুলিশকে ফুল দিয়ে বশে আনা যাবে না।

নির্বাচন কমিশন গঠন আইন নিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, মানুষ কিছু জানে না, সাংসদেরা কিছু জানেন না। আইন এর মধ্যে মন্ত্রিসভায় উঠে গেছে। সরকার সবকিছু আইন করেই করছে, তা কাউকে দেখানোর জন্যই হঠাৎ করে আইন করা হচ্ছে।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন কিছু ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, গুমের ঘটনার সাক্ষ্যের প্রয়োজন কী? পরিবারের সামনেই তো তুলে নিয়েছে অনেককে। সরকারের যদি আন্তরিক ইচ্ছা থাকে এবং এসব অপরাধের বিচার করতে চায়, তাহলে তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে, যে কমিশনের ওপর আস্থা থাকবে পরিবারগুলোর। এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে পরিবারগুলো কথা বলতে পারে। এখন অনেকেই কথা বলতে পারেন না। তিনি নিজেও সব কথা বলতে পারেন না বলে জানান।

নূর খান বলেন, বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ কেন লাগবে! দেশেই সে পরিবেশ তৈরি করুন, যাতে জনগণই দেশের পক্ষে লবিস্ট হয়। যাঁরা এই ধরনের অপরাধ করেছেন, তাঁদের বিচারের আওতায় আনুন। লবিস্ট নিয়োগ করে, ধানাইপানাই করে লাভ নেই।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে গুম হওয়া সালাহউদ্দিনকে পরে ভারতের রাস্তা থেকে ধরে সেদেশের কারাগারে পাঠানো হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলার নিখোঁজ সাক্ষিকে পাওয়ায় কলকাতার কারাগারে। সাংবাদিক কাজল নিখোঁজ হওয়ার পর ভারতীয় নম্বর থেকে তাঁর পরিবারের কাছে কল আসে। এর মধ্যদিয়ে গুমের ঘটনায় প্রতিবেশি দেশের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও অনেকে সন্দেহ করেন।

মায়ের ডাক সংগঠনের সমন্বয়ক আফরোজা ইসলাম বলেন, সহায়তা করার পরিবর্তে পুলিশ হয়রানি করছে। তারা কেন এমন করবে। স্বজনেরা যখন গুম হন, তখন সহজে থানায় জিডি নিতে চাইত না বলে জানান।

সভায় আরও বক্তব্য দেন গণফোরামের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম প্রমুখ।