ইতালি যাওয়ার পথে ভুমধ্য সাগরে ঠান্ডায় প্রাণ হারালো মাদারীপুরের ৫ যুবক

154

ইতালী যাওয়ার সময় ঝড়োবাতাসে প্রচন্ড ঠান্ডায় তিউনিউসিয়ার ভুমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছে বাংলাদেশের সাত যুবক। এমন একটি জরুরী নোটিশ ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সাত জনের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি মাদারীপুরে। একজনের বাড়ি সুনামগঞ্জে ও অন্য আরেকজনের বাড়ি কিশোরগ্রঞ্জ। নিহত পাঁচজনের মধ্যে চার জনের নাম—ঠিকানা জানা গেছে। ইতালির বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ২৯ জানুয়ারী এক অতি জরুরী নোটিশের মাধ্যমে সাত জনের নাম জানা গেছে। নিহতের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। সব স্বপ্নই যেন নিমিশে শেষ হয়ে গেছে এসব পরিবারের।
সরেজমিন সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে জানা গেছে, ইতালী যাওয়ার সময় ঝড়োবাতাসে প্রচন্ড ঠান্ডায় তিউনিউসিয়ার ভুমধ্যসাগরে নিহতরা হলো মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম পেয়ারপুর গ্রামের শাজাহান হাওলাদারের ছেলে ইমরান হোসেন (২২), মস্তফাপুর ইউনিয়নের চতুরপাড় গ্রামের শাহাজালাল এর ছেলে জহিরুল (২০), ঘটকচর এলাকার কাশেম মোল্লার ছেলে সাফায়েত (১৯), পেয়ারপুর ইউনিয়নের বড়াইলবাড়ি গ্রামের প্রেমানন্দ তালুকদারের ছেলে জয় তালুকদার রতন (২০)। নিহত আরেকজন বাপ্পী সদর উপজেলা ঠিকানা লেখা থাকায় এখন পর্যন্ত সন্ধ্যান পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের কেউ এখন পর্যন্ত বাপ্পীর সন্ধ্যান পায়নি। যাদের পরিবার নিহতের খবর জানতে পেরেছে সেই পরিবারে বইছে শোকের মাতম।
পশ্চিম পেয়ারপুর গ্রামের নিহত ইমরান বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে। তবুও একটু সুখের আশায় বাবা মা ঝুকি নিয়ে ইতালির উদ্দেশ্যে পাঠায় অবৈধ পথে। ইমরান একা হলেও ইমরানের রয়েছে তিনটি বোন। দুই বোনের বিয়ে দিলেও ছোট বোন নাসরিন সবে এসএসসি পাশ করেছে। বড় ভাইয়ের কাছে অনেক আবদারের স্মৃতি ই নাসরিনকে কাদায় বার বার। বাবা শাজাহান হাওলাদার শুধু অপলক তাকিয়ে থাকে কোন একদিকে। তার মুখ থেকে যেন কোন কথাই বের হতে চায় না। সব স্বপ্নই যেন তার মিথ্যে হয়ে গেছে।

ইতালি যাওয়ার পথে ভুমধ্য সাগরে ঠান্ডায় প্রাণ হারালো মাদারীপুরের ৫ যুবক


নিহত জহিরুলের পিতা শাহাজালাল বলেন, আমার সন্তানের মারা যাওয়ার খবর আমরা সরকারি চিঠির মাধ্যমে জানতে পারলাম। প্রায় ১০/১২ দিন ধরে আমার ছেলের সাথে ফোনে কথা হয় না। দালালরা আমাদের কাছে ফোন করে বলেছে জহিরুল হাসপাতালের আইসিইউতে আছে। যদি আমার সন্তান মারা যায় তা হলে তার লাশ যেন সরকার আমাদের কাছে এনে দেয়।
আরেক নিহত ইমরান হোসেন বোন নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, গত ২১ জানুয়ারীর পূর্বে ভয়েস ম্যাসেজের মাধ্যমে ইমরানের কথা শুনি। তার পর থেকে আরো কোন যোগাযোগ নেই। আমার ভাই মারা যাওয়ার কথা সরকারি চিঠির মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমার বাবা—মা এখন পর্যন্ত জানে না।
নিহত সাফায়েত এর বোনের জামাই রাসেল বলেন, সাফায়েত মারা যাওয়ার কথা আমি শুনেছি। সাফায়েতের সাথে যাওয়া বাড়ির পাশের দুইজন জীবীত আছে। তারা ফোন করে আমাদের বলেছে সাফায়েত মারা গেছে।
দূতাবাসের চিঠি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জানুয়ারী ২০২২ লিবিয়া হতে ইতালি আসার পথে অতিরিক্ত ঠান্ডায় মৃত্যুবরণকারী অভিবাসী প্রত্যাশী ৭ জন বাংলাদেশির পরিচয় নিরুপনের জন্য ইতালির বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর, শ্রমকল্যাণ মো. এরফানুল হক এর নেতৃত্বে দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। মৃত্যুবরণকারীদের সাথে জীবিত উদ্ধার হওয়া অভিবাসী প্রত্যাশীদের সাথে কথা বলে সাত জনের নাম জানতে পারে। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া। মৃতদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার জন্য এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যরা যাতে জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করার জন্য চিঠিতে অনুরোধ করা হয়। ইতালি দূতাবাসের একটি ইমেল এর ঠিকানা দেয়া হয়।
জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, যে সকল অভিবাসী প্রত্যাশী মারা গেছে তাদের লাশ যাতে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা যায় আমরা তার জন্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।