আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর শেষ ইচ্ছা (ভিডিও)

70

সদ্যপ্রয়াত আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ শুক্রবার, ২০ মে বাদ জুমা। পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেন মসজিদে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার মরদেহ বাংলাদেশে আনা হবে সোমবার, ২৩ মে।

সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর গাফ্ফার চৌধুরীর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার মরদেহ বাংলাদেশে এনে রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার স্ত্রীর পাশে সমাহিত করা হবে।

ইতোমধ্যে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ হাই কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরহুম আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর মরদেহ আগামী সোমবার, ২৩ মে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ঢাকায় প্রেরণের জন্য বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম জানিয়েছেন, দেশে আনার পর ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের রচয়িতা, বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামলেখক গীতিকার, সাহিত্যিক ও ভাষাসৈনিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে।

উল্লেখ্য, লন্ডনের বার্নেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী। বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েক মাস ধরেই শয্যাশায়ী ছিলেন গাফ্ফার চৌধুরী। এর মধ্যেই গত এপ্রিল মাসে তার করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া গত মাসে ছোট মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে মানসিকভাবে প্রচণ্ড ভেঙে পড়েন তিনি।

গত ১৩ এপ্রিল লন্ডনের ইউসিএল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মারা যান গাফ্ফার চৌধুরীর ছোট মেয়ে বিনীতা চৌধুরী। তিনি কয়েক মাস ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। গাফ্ফার চৌধুরীর চার মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে বিনীতা ছিলেন সবার ছোট। তিনি জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে নামী-দামী বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করতেন। বাবার সঙ্গে একই বাড়িতে থাকতেন বিনীতা চৌধুরী।

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর জন্ম ১৯৩৪ সালে। বরিশাল জেলার উলানিয়া গ্রামের চৌধুরী বাড়িতে জন্ম হয়েছিল তার। তিনি ছিলেন একাধারে সাংবাদিক, কলাম লেখক, গীতিকার, সাহিত্যিক ও গ্রন্থকার।

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন নিয়ে অমর গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ রচনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির হৃদয়ের মণিকোঠায় ঠাঁই পেয়েছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারে মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা সাপ্তাহিক জয় বাংলার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন তিনি। নিজের সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।