আদিতমারীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা ফনি’র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

86

লালমনিরহাট থেকে : লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের সর্দ্দার পাড়া এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মোঃ গোলাম মোস্তফা ফনি আজ রবিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৯ মার্চ) বেলা ১১.৩০ মিনিটে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো (৭২) বছর। 

তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। দেশ স্বাধীনের পর থেকে মানুষের সেবা দেয়ার জন্য পল্লি চিকিৎসক ছিলেন। গরীবের ডা. নামেই তিনি পরিচিত। তিনি ১ ছেলে ও ৪ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রবিবার রাত সাড়ে ৯ টায়, রণাঙ্গনের এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মহিষখোচা বহুমূখী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

তার মৃত্যুতে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও রুহের মাগফেরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করেছেন গুডলাক নিউজের প্রকাশক ও তরুণ উদ্যেক্তা মোঃ মমতাজ আলী শান্ত।

তাঁর মৃত্যুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আজিজুল হক বলেন, আজ আমার একজন সহযোদ্ধাকে হারালাম। আমরা ১৯৭১ সালে এই দেশের মানুষের জন্য যুদ্ধ করতে গেছিলাম। সেই সময় আমার আরও অনেক সহযোদ্ধা হারিয়েছি। ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীন দেশটি পেয়েছি। তিনি অনেক ভালো মনের মানুষ ছিলেন আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। আমিন।

মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জে আর সারোয়ার ও আদিতমারী থানা পুলিশের একটি দল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধারা ও তাদের সন্তানগণ সহ স্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ।

মহিষখোচা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী বলেন, তিনি অত্যান্ত ধর্মভীরু মানুষ ছিলেন। তিনি মাতৃভূমি রক্ষার জন্য তৎকালীন ভারতে ট্রেনিং নিয়ে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। এমন গুনের মানুষ বর্তমান মহিষখোঁচায় খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।  তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।