আগাম হজে শিহাবের পদযাত্রা

4592

হজের প্রাথমিক যুগে বিশ্বের বি‌ভিন্ন দেশের মুসলিমরা পাঁয়ে হেঁটে হজে যেতেন। তাই বলে আধুনিক যুগে পায়ে হেঁটে হজযাত্রা! ‍অবিশ্বাস্য শোনালেও ঘটনা সত্য। শিহাব নামের একজন ভারতীয় মুসলিম পায়ে হেঁটে হজ যাত্রা শুরু করেছেন। গত ২ জুন ভারতের কেরালা থেকে শিহাব হাঁটা শুরু করেন। শিহাবের বাড়ি থেকে প্রায় ৮,৬৪০ কিলোমিটার দূরে মক্কা। দীর্ঘ এই পথ পায়ে হেঁটে মক্কায় গিয়েই পবিত্র হজ আদায় করবেন শিহাব।

শিহাবের পরিচয়:

শিহাব পায়ে হেঁটে হজযাত্রা শুরু করেন গত ২ জুন। সাথে সাথে সংবাদটি নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। সবাই জানতে চান, কে এই শিহাব? তার বাড়ি কোথায়? এই যুবকের পুরো নাম শিহাব ছিত্তুর। তার বয়স ৩০ বছর। তিনি ভারতের কেরালার মালাপ্পুরাম জেলার আথাভানাদ এলাকার বাসিন্দা।

শিহাবের বাড়ি থেকে সৌদি আরবের দূরত্ব :

শিহাব দৃঢ় সংকল্প করেছেন পায়ে হেঁটে হজ করবেন। তাই তিনি পায়ে হেঁটে হজযাত্রা শুরু করেছেন। তিনি এখন হজযাত্রায় রাস্তায় আছেন। প্রতিনিয়ত হাঁটছেন, হজযাত্রা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বাড়ি থেকে সৌদি আরবের দূরত্ব প্রায় ৮৬৪০ কিলোমিটার।

শিহাব যেসব বর্ডার দিয়ে হজযাত্রা চালিয়ে যাচ্ছেন :

শিহাব পায়ে হেঁটে হজযাত্রা শুরু করেছেন। তিনি ভারতের কেরালা থেকে হজযাত্রা শুরু করেছেন। তিনি প্রথমে ভারত থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পাকিস্তান গিয়েছেন। এই মুহূর্তে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। এরপর যাবেন ইরান। ইরান থেকে ইরাক ও কুয়েত হয়ে সৌদি আরবে পৌঁছাবেন। শিহাবের ধারণা, ছয়টি দেশের সীমানা অতিক্রম করার অনুমতি তাকে দেওয়া হবে।

শিহাব কতদিনে মক্কায় পৌঁছাবেন :

অতীতে অনেক ভারতীয় পায়ে হেঁটে হজ করতেন। কিন্তু তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ছিল না। পথ ছিল বিপদসংকুল। শিহাব ছিত্তুর পায়ে হেঁটে হজ করার সংকল্প আঁটেন মক্কায় অবস্থানকালে। শিহাবের পায়ে হেঁটে মক্কায় পৌঁছাতে সময় লাগবে ২৮০ দিন।

শিহাব প্রতিদিন কত কিলোমিটার হাঁটেন:

শিহাব এই আধুনিক যুগেও ভারত থেকে পায়ে হেঁটে মক্কায় গিয়ে হজ করবেন যেখানে খুব সহজেই কম সময়ের মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায় সৌদি আরবে। শিহাবের দীর্ঘদিনের আশা, তিনি পায়ে হেঁটে হজ করবেন। সেজন্য প্রস্তুতিও নিয়েছেন। গত ২ জুন থেকে তিনি হাঁটা শুরু করেন। তিনি প্রতিদিন ২৫ কিলোমিটার হাঁটতে পারেন।

উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার এই যুগে পায়ে হেঁটে হজ যাত্রার বিষয়টি ইসলাম কীভাবে দেখে?  

এ বিষয়ে গবেষক আলেম মুফতি হাফিজুদ্দীন ও মুফতি আব্দুল মাজিদ বলেন, হজ সামর্থবান ধনী ব্যক্তিদের উপরই ফরজ হয়ে থাকে। যাতায়াত খরচ যার কাছে থাকবে তার ওপর হজ ফরজ। যে ব্যক্তির যাতায়াত খরচ নাই তার জন্য হজ ফরজ নয়। সুতরাং বর্তমান সময়ে পায়ে হেঁটে কারো হজে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই কিংবা কেউ পায়ে হেঁটে মক্কা যেতে পারলেই তার ওপর হজ ফরজ হবে না। কেননা বিশ্বব্যাপী এখন অনেক প্রশাসনিক নিয়মকানুন রয়েছে যা অতীতে ছিল না। তবে কেউ যদি গরীব হয় এবং তার হৃদয়ে যদি বাইতুল্লার অঢেল প্রেম জন্মে, সে যদি বাইতুল্লাহকে ছুঁয়ে দেখার আশায় পায়ে হেঁটে মক্কায় রওনা দেয় তাহলে এতে দোষের কিছু নেই। এটি গভীর প্রণয়ের বিষয়। এ বিষয়টিকে ইসলাম নেতিবাচকভাবে দেখে না।

মুফতি হাফিজুদ্দীন যোগ করেন, আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারীমে বলেছেন, ‘আর মানুষের নিকট হজের ঘোষণা দাও, তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং কৃশকায় উটে চড়ে দূর পথ পাড়ি দিয়ে’ সুরা হজ: ২৭। এখানে পায়ে হেঁটে হজের কথা বলা হয়েছে। সুতরাং কেউ যদি প্রশাসনিক সব বিষয় সমাধান করে পায়ে হেঁটে হজে যেতে পারে তাহলে সে যাবে। এজন্য ওই ব্যক্তিকে নিয়ে কোনো বাজে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। পাশাপাশি এ আয়াতে যেহেতু বাহন ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে, সামর্থ থাকলে বাহন ব্যবহার করতে হবে। কেননা পায়ে হেঁটে হজযাত্রা বর্তমান সময়ে ততোটা নিরাপদ নয়।

এদিকে মুফতি আব্দুল মাজিদ পায়ে হেঁটে হজের বৈধতার বিষয়টি উল্লেখ করার পাশাপাশি সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি নিজের নাম ডাক চারদিকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য, গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানোর জন্য অথবা সহজ ভাষায় ভাইরাল হওয়ার জন্য পায়ে হেঁটে হজ করার জন্য রওনা দেয় তাহলে এই বিষয়টিকে ইসলাম সমর্থন করে না। বরং এসব কাজ পরিত্যাগ করাই কাম্য। তবে এ কথাও মাথায় রাখতে হবে, মানুষের মনের খবর একমাত্র আল্লাহ ভালো জানেন।

শিহাবের আগাম হজযাত্রার আপডেট জানতে চোখ রাখুন দৈনিক তৃতীয় মাত্রায়

www.tritiyamatra.com

www.facebook.com/dailytritiyamatra/?ref=pages_you_manage