অসহায় মেধাবী রাসেলের একবছরের পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও

97

মইনুল হক মৃধা,গোয়ালন্দঃবৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের অদম্য মেধাবী রাসেল শেখ এর বাড়িতে আয়োজন করা হলো ভালো খাবারের। পরিবারের সঙ্গে একত্রে বসে খাবার খেলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা এবং রাসেলের ভর্তির ব্যবস্থাসহ এক বছরের পড়াশুনার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও আজিজুল হক খান।
রাসেল এ বছর উপজেলার চৌধুরী আব্দুল হামিদ একাডেমী থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছে।

নদীভাঙা দরিদ্র পরিবারের জায়গা-জমি নেই। অন্যের জমিতে কোনরকম একটি ছাপড়া ঘরে বাবা, মা ও ছোট তিন বোনের সঙ্গে বাস করে রাসেল। ঘরে জায়গা না হওয়ায় বারান্দায় ঠাই হয়েছে রাসেলের। তাদের ভাগ্যে কোনদিন একবেলা ভালো খাবারও জোটেনি। বাবা ইউসুফ শেখ ছিলেন রাজমিস্ত্রির জোগালী। ৬ মাসের বেশি সময় ধরে হাত-পায়ে ঘাসহ নানা অসুখে কাজ করতে পারেননা তিনি। মা তিনটি ছাগল ও দুটি হাঁস পালন করে কোনরকম সংসার টিকিয়ে রেখেছেন। 

বিজ্ঞানের ছাত্র হলেও অর্থের অভাবে কোনদিন গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে পারেনি। নিজে গ্রামে গৃহশিক্ষকতা করে উপার্জনকৃত টাকায় বই, খাতা কিনে পড়াশুনার জোগান দিত। ভালো কলেজে ভর্তি হয়ে একজন আদর্শ চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন তার। অর্থের অভাবে ভালো কলেজে পড়াশুনা তার পক্ষে সম্ভবনা। তাই রাজবাড়ী সরকারি কলেজে ভর্তি হচ্ছে। ভর্তির আনুসাঙ্গিক টাকা জোগাড়, পোশাকসহ পরিবারের অনেক সমস্যা সমাধানের উপায় না পেয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটে রাসেলের।

গত বুধবার (২ ফেব্রুয়ারী) প্রথম আলোতে ‘চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখে ওরা’ শিরোনামে প্রতিবেদনে প্রকাশ হয়। প্রতিবেদন দেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুল হক খান রাসেলের বাড়িতে শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে পোলাও, মুড়িঘন্টো, গরুর মাংস, মুরগির মাংস, ডিম, দই, মিষ্টিসহ কয়েক প্রকারের খাবারের আয়োজন করে। বৈরী আবহাওয়ায় বৃষ্টিতে ভিজেই চলে রান্না। পরিবারের সাথে এক সঙ্গে খাবার খান ইউএনও। এসময় প্রথম আলো প্রতিনিধি এম রাশেদুল হক, জেলা রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি, যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধি হেলাল মাহমুদ, বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি মো.মইনুল হক মৃধা, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবির হোসেন রিদয় সহ স্থানীয় অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলার সর্বোচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে বসে খেতে পাড়ায় আবেগঘন পরিবেশ তৈরী হয়। রাসেল বলে, আমি কখনই ভাবিনি প্রথম আলোতে খবর ছাপা হলে এমন কিছু হবে। ভাষায় প্রকাশ করতে পারবোনা কত আনন্দ লাগছে। প্রথম আলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলে, আমি যেন সবার সম্মান ধরে রাখতে পারি।

বাবা ইউসুফ শেখ বলেন, “বাবা হয়ে কোনদিন পোলাপানগোর মুখে এক বেলা ভালো খাবার দিতে পারিনি। আজ আমার কাজটি আপনারাই করলেন। রাসেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই, যাতে ওর স্বপ্ন পূরন হয়”।

ইউএনও আজিজুল হক খান বলেন, আমাদের চারপাশে এমন অনেক রাসেল আছে আমরা জানিনা। অথচ প্রথম আলো ঠিকই তাকে খুঁজে বের করেছে। তিনি রাসেলের ভর্তি হওয়া, বই কেনাসহ এক বছরের পড়াশুনার খরচ, মুঠোফোন ও সরকারি ঘর করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরিবারটি যাতে আরো কিছুদিন ভালো খাবার খেতে পারে তার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা করেন। ইউএনও বলেন, এটিই হচ্ছে প্রকৃত মানবিক কাজ। আমরা অনেকভাবে অর্থ অপচয় করছি, অথচ রাসেলদের মতো সন্তানদের দায়িত্ব নিলে এরাই একদিন দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে।