Logo
বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২২ | ৬ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

অনুমোদনের অভাবে অ্যান্টিবডি কিটের প্লাজমা থেরাপি ব্যাহত

প্রকাশের সময়: ২:১৭ অপরাহ্ণ - বুধবার | জুন ১৭, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

অ্যান্টিবডি শনাক্তকরণের কিটের অনুমোদন না দেয়ায় কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় যথাযথভাবে প্লাজমা থেরাপি দেয়া যাচ্ছে না বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, দাতার প্লাজমায় প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি না থাকলে তা আক্রান্ত ব্যক্তিকে সুস্থ করতে পারে না। এজন্য প্লাজমা সংগ্রহের আগেই অ্যান্টিবডির পরিমাণ জানা জরুরি। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সুপারিশ না করায় অ্যন্টিবডি শনাক্তকরণ কিটের অনুমোদন দিতে পারছে না ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তদের সারিয়ে তুলতে দেশে চলছে প্লাজমা থেরাপি বা রক্তরসের প্রয়োগ। এ চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা খতিয়ে দেখতে ৪৫ রোগীর ওপর পরীক্ষামূলক গবেষণা করছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।

এ সংক্রান্ত কমিটি বলছে, গবেষণা এগিয়ে নিতে তিন সপ্তাহ আগে সরকারের কাছে চুয়াল্লিশ লাখ টাকা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু অর্থছাড়ের বিষয়ে কোন অগ্রগতি না হওয়ায় রক্তরস প্রয়োগ এখন কোন রকমে চলছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা, মহিউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, ‘এই প্রতিটি সংগ্রহের জন্য ৮-১২ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়। দ্বিতীয় কথা হলো, যাদেরকে দিবো তাদের প্রত্যেকেরই কিছু পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়। এই সব পরীক্ষা সরকারিভাবে করা হয়না, বাইরে থেকে কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে রোগীরা এই ব্যয়ভার বহন করছে। আর, যখন কোন রোগী তা পারছেনা তখন স্টাডি থেকে তাদেরকে বাদ দিতে হচ্ছে।’

গবেষকরা জানান, রক্তরসে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অ্যান্টিবডি না থাকলে আক্রান্তকে সুস্থ করতে পারবে না। তবে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি অ্যান্টিবডি কিটের অনুমোদন দিতে গত মাসে সুপারিশ করলেও অনুমোদনের সুপারিশ দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট কমিটি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা টেলিফোনে জানান, ‘ম্যানেজমেন্ট কমিটি যারা ক্লিনিক্যালি রোগী ম্যানেজমেন্ট করেন তাদেরই পরামর্শ এটা। এই ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট কমিটি দেখভাল করেন আমাদের পরিচালক।’

আর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) রুহুল আমিন টেলিফোনে  জানান, ‘সরকার যদি এই কিট ব্যবহার করতে না দেয় তাহলে ঔষধ প্রশাসনে এই কিটের এনওসি দিয়ে কি হবে?’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা, মহিউদ্দিন আহমেদ খান আরও বলেন, ‘সবার বডির প্লাজমার মধ্যে অ্যান্টিবডি সমানভাবে থাকেনা। কারও কম থাকে, কারও তৈরী হতে সময় লাগে। এজন্য এটা করাটা বাঞ্চনীয়। অনেকে প্লাজমা দেয়ার পরও মারা যাচ্ছেন। তারমানে ওই প্লাজমার মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে অ্যান্টিবডি ছিলো না। অথবা সময়মতো এটা প্রয়োগ করা হয়নি।’

পরীক্ষামূলক গবেষণায় দারুণ সফলতা মিললেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গড়িমসির কারণে রক্তরস প্রয়োগের পরিসর বাড়ানো যাচ্ছে না, বলছেন চিকিৎসকরা।

Read previous post:
গণস্বাস্থ্যের কিট অকার্যকর, বলছে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল

তৃতীয় মাত্রা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হাসপাতালের পক্ষ থেকে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার জন্য যে র‍্যাপিড টেস্ট কিট...

Close

উপরে