Logo
সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ | ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ফুল শিল্পের বিকাশে নীতিমালা প্রণয়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বারোপ

প্রকাশের সময়: ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ - বুধবার | ডিসেম্বর ৫, ২০১৮

তৃতীয় মাত্রা :

ফুল রফতানির বৈশ্বিক বাজার প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি ডলারের। বাংলাদেশেও এটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি শিল্প। স্থানীয়ভাবে ফুলের বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। এ শিল্পের বিকাশে এজন্য প্রয়োজন অনুকূল নীতিমালা প্রণয়ন এবং এ খাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) পক্ষ থেকে এমনটি জানানো হয়েছে।

ঢাকা চেম্বারের আয়োজনে আগামীকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাওয়ার এক্সিবিশন

অ্যান্ড কনফারেন্স ২০১৮’। আয়োজনটিতে সহযোগিতা করছে ইউএসএআইডির এগ্রিকালচারাল ভ্যালু চেইনস (এভিসি) প্রকল্প ও বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি। বাংলাদেশে ফুল শিল্পের সম্ভাবনা নিরূপণের লক্ষ্যে আয়োজিত প্রদর্শনী ও সম্মেলন সামনে রেখে গতকাল ডিসিসিআই মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান জানান, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের (আইটিসি) তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে প্রতি বছর ফুলের বাজার ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৮ সালে বিশ্বে ফুল রফতানির বাজারমূল্য প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের ফুল রফতানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৬ হাজার ডলার। তিনি সম্ভাবনাময় এ শিল্পকে এগিয়ে নেয়ার জন্য কৃষক ও উদ্যোক্তাদের স্বল্প হারে ঋণ সুবিধা প্রদান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবস্থা করা ও তা ব্যবহারের প্রশিক্ষণ প্রদান, উন্নত ও নতুন নতুন জাতের বীজ সরবরাহ করা, ওয়্যারহাউজ ও কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন একান্ত অবশ্যক বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

চেম্বার সভাপতি বলেন, প্রয়োজনীয় হিমাগারের অভাবে আমাদের দেশে কৃষি খাতে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে উদ্যোক্তা ও কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। ফুল শিল্পও এর ব্যতিক্রম নয়। এ খাতের বিকাশে হিমাগার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে ওয়্যারহাউজ নির্মাণ একান্ত আবশ্যক বলে মনে করেন। তিনি ওয়্যারহাউজ নির্মাণকে থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইউএসএআইডির কনসালট্যান্ট ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক। তিনি বলেন, কৃষি খাতের অগ্রগতির লক্ষ্যে বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণে সরকারকেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই দেশের বেসরকারি উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। তিনি জানান, বর্তমানে ২৩টি জেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ৫০ জাতের ফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ হচ্ছে এবং স্থানীয়ভাবে ফুলের বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৬-৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাওয়ার এক্সিবিশন অ্যান্ড কনফারেন্সে প্রায় ৭০টি স্টলে দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তারা ফুল ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করবেন। এতে থাইল্যান্ড, ভারত ও নেপালের ১২টি স্টল থাকবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আগামীকাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিআইডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম প্রধান অতিথি থাকবেন। ইভেন্টটিতে ‘বাংলাদেশে ফুল খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ ও ‘ফুল চাষে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা’ বিষয়ে দুটি সেমিনারও অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কামরুল ইসলাম, সহসভাপতি রিয়াদ হোসেন, পরিচালক হোসেন এ সিকদার, ইমরান আহমেদ, মামুন আকবর, মোহাম্মদ বাশীর উদ্দিন ও এসএম জিল্লুর রহমান, এভিসি প্রকল্পের চিফ অব পার্টি লি রোজনার, ডেপুটি চিফ অব পার্টি বানি আমিন, বাংলাদেশ ফুল ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Read previous post:
সানে-মাহরেজের গোলে ম্যান সিটির কষ্টার্জিত জয়

(ফাইল ছবি) তৃতীয় মাত্রা : প্রিমিয়ার লিগকে গত দেড় বছর ধরে এক ঘোরার রেস বানিয়ে ফেলেছে ম্যানচেস্টার সিটি। বর্তমান প্রিমিয়ার...

Close

উপরে