তৃতীয়মাত্রা:

নিজে আর ব্যাট হাতে মাঠে নামেন না ঠিকই। তা সত্ত্বেও শচীন তেন্ডুলকর যে ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িয়েই রয়েছেন, তা অজিঙ্ক রাহানের চেয়ে ভাল কে বুঝবেন?

চলতি অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শুরুর আগেই (১২ সেপ্টেম্বর) মুম্বইয়ের বান্দ্রা-কুর্লা কমপ্লেক্সে রাহানের প্র্যাকটিসে হাজির হয়েছিলেন শচীন তেন্ডুলকর। ওয়েস্ট ইন্ডিজে ওয়ান ডে সিরিজে ধারাবাহিক ভাবে রান পেলেও শ্রীলঙ্কায় খেলেছিলেন মাত্র একটি ম্যাচ। কিন্তু তাতেও ৫ রানের  বেশি করতে পারেননি। এই সিরিজে শিখর ধবন সরে দাঁড়ানোয় রাহানের ভাগ্য খুলেছে। ইডেনে ৫৫ রানের ইনিংস খেলে তাঁর উপর অধিনায়কের আস্থার মর্যাদারক্ষাও করেছেন ২৯ বছরের ব্যাটসম্যান। কিন্তু তার নেপথ্যে যে শচীন তেন্ডুলকরের অবদান রয়েছে, তা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তৃতীয় ওয়ান ডে খেলতে নামার আগে জানিয়ে দিলেন তিনি।

সাংবাদিক সম্মেলনে এসে এ দিন রাহানে বলেন, ‘‘এই সিরিজ শুরুর আগে চার দিন বিকেসি-তে প্র্যাকটিস করি। একদিন নেটে দেখি শচীন পাজি এসেছেন। আমাকে দেখে এগিয়ে এসে বললেন, নিজের খেলাটাই খেলে যা। সুযোগ কখন আসবে, সেটা নিজের হাতে থাকে না। কিন্তু নিজেকে তৈরি রাখাটা তো নিজের হাতেই থাকে। সেটাই ভাল করে করে যা।’’ তবে রাহানেকে সে দিন ব্যাটিংয়ের টেকনিক নিয়ে শচীন নাকি কিছুই বলেননি। শুধু পরামর্শ দেন, ব্যাট করার সময় মানসিক শক্তির আরও উন্নতি করা যায় কী ভাবে, তা নিয়ে।  এ দিন রাহানে বললেন, ‘‘শচীন সে দিন ব্যাটিংয়ের মানসিকতা নিয়েই বেশি কথা বলেছিলেন, টেকনিক নিয়ে নয়।’’ আর তাতেই মানসিক ভাবে ভীষণ চাঙ্গা হয়ে ওঠেন বলে জানান শচীনের শহরের ছেলে।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সচিন ১১০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৬৭০৭ রান করেছেন ৪৯.৬৮ ব্যাটিং গড়ে। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে সাতটা সেঞ্চুরি ও দেশের মাঠে তাদের বিরুদ্ধে ৯টা সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। তাই অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের কী ভাবে সামলাতে হয়, তা তাঁর চেয়ে ভাল আর কে জানবেন! তাঁর সেই অভিজ্ঞতাও তাঁর উত্তরসূরির সঙ্গে ভাগাভাগি করেন সে দিন। রাহানে বলেন, ‘‘শচীন বহুবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলেছেন। তাই অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের লাইন-লেংথ কেমন হয়, দেশের মাঠে তা কী করে সামলাতে হয়, সেটাও সে দিন বলে দিয়েছিলেন। সেই হিসেবে কী ভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, তা-ও বলেছিলেন তিনি। ওঁর পরামর্শ মতো প্রস্তুতি নিয়েই এই সিরিজে এসেছি।’’