Logo
মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পীরগঞ্জ উপজেলায় ৪ লাখ লোকের চিকিৎসায় ৬ জন ডাক্তার

প্রকাশের সময়: ৫:০৮ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

তৃতীয় মাত্রা :

আসাদুজ্জামান, পীরগঞ্জ(ঠাকুরগাও) প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট ও রোগ নির্ণয়ের জন্য এক্স-রে মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষ। বর্তমানে সেকমো দিয়েই চলছে হাসপাতালে ইমার্জেন্সি বিভাগ। একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত পীরগঞ্জ উপজেলা। এ উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য রয়েছে ২১টি চিকিৎসকের পদ। এর মধ্যে উপজেলা হাসপাতালে ১১টি পদ ও ১০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১০টি মেডিকেল অফিসারের পদ রয়েছে। পীরগঞ্জ উপজেলা হাসাপাতালে ১১টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন। জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ডাঃ নজরুল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার ডাঃ শেখ মোহাম্মদ জুবায়ের ও ডেন্টাল সার্জেন সুলতানা তাহমিদা আশরাফী ছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন ২০/০৮/২০১৮ তারিখে এবং চলতি মাসের ৮ তারিখে ডাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি ও ৯ তারিখে ডাঃ আসমা উল ইসলাম অত্র হাসপাতালে যোগদান করেছেন। বর্তমানে এসব ডাক্তার দিয়েই চলছে ৫০ শয্যার হাসপাতালটি। গত ১০/১০/২০১০ তারিখে তৎকালীন পানি সম্পদ মন্ত্রী (বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য) রমেশ চন্দ্র সেন এমপি পীরগঞ্জ হাসপাতালে ৫০ শয্যা চালুর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের প্রায় ৮ বছরেও ৫০ শয্যার জনবল, সাজ-সরঞ্জাম, ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি ইত্যাদির অনুমোদন পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট পীরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালের জনবল তো দুরের কথা ৩১ শয্যার জনবলও নেই এ হাসপাতালে। এতে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। ৩১ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী হাসপাতালে ১১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন। হাসাপাতালে বর্তমানে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও), জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি, মেডিসিন, শিশু ও এনেসথেসিয়া এবং মেডিকেল অফিসারের ১টি পদ মিলে মোট ৫টি পদে কোন চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা সেবা চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ ইমার্জেন্সি বিভাগে কোন মেডিকেল অফিসার নেই। তবে উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের (সেকমো) ২টি পদে কর্মরত গোলাম মোস্তফা ও সারা হেমব্রম ছাড়াও পীরগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সেকমো রেজিনা খাতুনকে সম্প্রতি উপজেলা হাসপাতালে ইমার্জেন্সি বিভাগে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। তারাই পালাক্রমে ইমার্জেন্সি বিভাগ দেখভাল করছেন। পীরগঞ্জ হাসাপাতাল থেকে বেতন দেয়া হলেও প্রেষনের নামে এক্স-রে টেকনিশিয়ান আব্দুর রাজ্জাক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, সিনিয়ার স্টাফ নার্স রেখা রানী রায় ও তাজনিহার বেগম ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে, শেফালী বেগম রানীশংকৈল উপজেলা হাসপাতালে এবং রেহেনা বেগম ও সাবেরা খানম ঠাকুরগাঁও নার্সিং ইন্সটিটিউটিটে কর্মরত থাকায় পীরগঞ্জ উপজেলাবাসী এদের সেবা থেকে বছরের পর বছর বঞ্চিত হচ্ছে। এদিকে হাসপাতালে রোগী গেলেই ‘রেফার’ করা হচ্ছে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল অথবা এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, দিনাজপুরে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। এছাড়াও এক্স-রে মেশিন নষ্ট প্রায় এক যুগ ধরে। আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ইসিজি মেশিন থাকলেও লোকবলের অভাবে স্টোর রুমে পড়ে আছে বছরের পর বছর। এদিকে উপজেলার ভোমরাদহ ও জাবরহাট উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এবং কোষারানীগঞ্জ, খনগাঁও, সৈয়দপুর, পীরগঞ্জ, হাজীপুর, দৌলতপুর, সেনগাঁও ও বৈরচুনা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসারের একটি করে পদ দীর্ঘদিন যাবৎ শুন্য। সেকমো জুবায়ের আহম্মেদ ও নুরুজ্জামান যথাক্রমে ভোমরাদহ ও জাবরহাট উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত থেকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। কোষারানীগঞ্জ, খনগাঁও, সৈয়দপুর, পীরগঞ্জ, হাজীপুর, দৌলতপুর, সেনগাঁও ও বৈরচুনা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সহকারী সার্জনের ৭টি পদও দীর্ঘদিন যাবৎ শুন্য রয়েছে। ফলে ৬ জন চিকিৎসক ও ৫ জন সেকমো দিয়েই চলছে উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা। আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ইসিজি মেশিন থাকলেও লোকবলের অভাবে কাজে আসছে না স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ আরশাদ হোসেন বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় লোকবলের জন্য লেখালেখি অব্যাহত আছে। আগের এক্স-রে মেশিন নষ্ট। তাই নতুন ডিজিটাল মেশিনের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। আশা করি শীঘ্রই পাওয়া যাবে।

 

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Read previous post:
শাহজালালে আবারও নতুন মাদক ১২০ কেজি ‘খাত’ জব্দ

তৃতীয় মাত্রা : হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে আবারও নতুন মাদক ১২০ কেজি ‘খাত’ জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। শুক্রবার...

Close

উপরে