Logo
মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৮ | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পূর্বাচল থেকে উদ্ধার হওয়া ৩ মরদেহের পরিচয় মিলেছে

প্রকাশের সময়: ৪:৩২ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

তৃতীয় মাত্রা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন পূর্বাচল থেকে উদ্ধার গুলিবিদ্ধ নিহত তিন যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তাদের সবাই রাজধানী ঢাকায় বসবাস করতেন।

নিহতরা হলেন- রাজধানীর মহাখালীর নিকেতন বাজার এলাকার শহীদুল্লাহর ছেলে মো. সোহাগ (৩২)। মুগদা এলাকার মো. আবদুল মান্নানের ছেলে শিমুল আজাদ (৩০), তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের ঘোরেলা এবং মুগদা এলাকার আবদুল ওয়াহাব মিয়ার ছেলে নূর হোসেন (৩০), তার গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ির পাইকপাড়ায়। শিমুল ও নূর হোসেন সম্পর্কে ভায়রা ভাই।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। কে বা কারা গুলি করে হত্যা করেছে, তা স্পষ্ট নয়। তদন্তে জানা যাবে। পূর্বাচল ৩০০ ফিট ১১ নং ব্রিজ এলাকা থেকে উদ্ধার এই তিন মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ইন্সপেক্টর বলেন, অনলাইন গণমাধ্যম ও টেলিভিশনে নিহতদের ছবি প্রকাশ পাবার পর তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিহত ২ যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নিহত দুজন অপহৃত হয়েছিলেন। গত বুধবার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ ছিলেন তারা।

নিহত শিমুলের স্ত্রী আয়েশা আক্তার আন্নি জানান, কোরবানির ঈদে আমি গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যাই। এরপর শিমুলও গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের কালিগঞ্জে বেড়াতে যায়। সেখান থেকে বাসে ফেরার পথে গত বুধবার রাতে মানিকগঞ্জের দৌলতদিয়া ঘাট পার হবার পর দুটি মাইক্রোবাস বাসটিতে আটকায়। এরপর নিজেদের ডিবি পরিচয় দিয়ে ১০-১২ জনের কয়েকজন শিমুলকে অন্য আরেকটি গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর থেকে শিমুল নিখোঁজ ছিলেন। তার মুঠোফোন বন্ধ ছিল। খবর পেয়ে থানায় এসে তিনি স্বামীর মরদেহ শনাক্ত করেন। তার স্বামী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। তাদের এক কন্যাশিশু রয়েছে।

নিহত সোহাগের ভাই মো. শাওনের তথ্য মতে, গত বুধবার বেড়াতে গিয়ে তার বড় ভাই নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ফেসবুকে ছবি দেখে তারা রূপগঞ্জ থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করেন। তার ভাই ফাস্টফুড বার্গার ও স্যাটেলাইট ক্যাবল নেটওয়ার্কের ব্যবসা করতেন। নিহত সোহাগের ১০ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।

শক্রবার সকালে মরদেহগুলো উদ্ধারের পর তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি বলে জানায় পুলিশ। এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির জানান, পূর্বাচল ১১ নম্বর ব্রিজ এলাকায় সড়কের পাশে তিন যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন। পরে তারা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ মরদেহগুলো উদ্ধার করে। নিহত তিন যুবকের পরনে প্যান্ট, শার্ট ও গেঞ্জি ছিল।

ওসি আরও জানান, নিহত একজনের পকেটে ৬৫টি ইয়াবা বড়ি পাওয়া গেছে। নিহত যুবকদের স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেছেন। তাদের কারও বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে কি না, জানা নেই। হত্যার নেপথ্যে কারা জড়িত তাও স্পষ্ট নয়।

Read previous post:
উদ্বোধনের আগেই ধ্বসে পড়ল ২য় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়ক!

তৃতীয় মাত্রা নিয়াজ আহমেদ সিপন, লালমনিরহাট: যোগাযোগসহ ব্যবসা- বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে আর্ন্তজাতিক ব্যবসায়ীক রুট বুড়িমারী স্থলবন্দরের সাথে রাজধানী ঢাকা ও বিভাগীয়...

Close

উপরে