Logo
মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৮ | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পদ্মা ও আড়িয়াল খা -তে ভয়াবহ ভাঙ্গন, শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যহত

প্রকাশের সময়: ১২:২২ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

তৃতীয় মাত্রা

রিফাত ইসলাম, শিবচর: দেশের অধিকাংশ চরাঞ্চল যখন সুবিধাবঞ্চিত তখন সরকারের প্রচেষ্টায় মাদারীপুরের শিবচরের পদ্মা বেষ্টিত চরাঞ্চল ও আড়িয়াল খা তীরবর্ত্তী এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থা অবকাঠামো সমতলের সমান হলেও নদীর ভয়ংকর আগ্রাসনে প্রতিবছরই সেইটুকুও কেড়ে নিচ্ছে। শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়ছে অনেক শিশু। চলতি বছর এ পর্যন্ত পদ্মা নদীর কড়াল গ্রাসে ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,হাট,বাজারসহ অন্তত ৬শ ঘর বাড়ির সাথে সাথে গিলে নিয়েছে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবন। এসকল স্কুল সরিয়ে নেয়া হয়েছে অন্যত্র। চলতি বছর ৪টি বিদ্যালয়সহ গত ১০ বছরে ১৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ শত শত পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে।

সরেজমিনে একাধিক সুত্রে জানা যায়, চলতি বছর পদ্মা নদীতে ২ দফা পানি বাড়ার সাথে উপজেলার ৪ ইউনিয়ন নিয়ে মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ ভাঙ্গন আক্রান্ত হয় চরজানাজাত,বন্দরখোলা ও কাঠালবাড়ি ইউনিয়ন। গত ৩/৪ দিনে শতাধিক ঘর বাড়িসহ গত ৩ সপ্তাহে ৪টি বিদ্যালয় ভবন,৬ শতাধিক ঘরবাড়িসহ চরজানাজাত ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,কমিউনিটি ক্লিনিক,খাসেরহাটের অর্ধশত দোকান বিলীন হয়। চরাঞ্চলের চরজানাজাত ইউনিয়নের মাধ্যমিক স্কুল চরজানাজাত ইলিয়াছ আহম্মেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, আঃ মালেক তালুকদার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মজিদ সরকার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্দরখোলার ৭২ নং নারিকেল বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়। ভাঙ্গনের তীব্রতায় অনেক স্কুল ঘর বাড়ি সরিয়ে নেয়ারও সময় পায়নি কত্তৃপক্ষ। স্কুলগুলো অন্যত্র কোনমতে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। এরআগে গত বছর একটি মাদ্রাসা ও ২টি প্রাথমিক স্কুল ভবন নদীতে বিলীন হয়। ২০১৬ সালে ৩০ নং পূব খাসচর বন্দরখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন বিলীন হয়। ২০১৫ সালে একই ইউনিয়নের ১টি ৩ তলা ভবন , ২টি দ্বিতল ভবনের প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৫টি বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলীন হয়। গত ১০ বছরে এ উপজেলায় ১৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় সাড়ে ৬ হাজার পরিবার নদী ভাঙ্গনে আক্রান্ত হয়ে নিঃস্ব হয়। একসাথে স্কুল ও বসতভিটা হারিয়ে অনেক শিশু কিশোর শিক্ষা থেকে ঝড়ে পড়ছে।

চরজানাজাত ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আঃ মালেক তালুকদার বলেন, দেশের অন্যান্য চরের চাইতে আমাদের সংসদ সদস্যর নিরলস পরিশ্রমে আমাদের চরগুলো অনেক আধুনিক ছিল। বড় বড় ভবনের স্কুল,পাকা রাস্তা,ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সবই ছিল। কিন্তু প্রতি বছরের ভাঙ্গনে আমরা এখন নিঃস্ব। এ বছরই ৪টি স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হাট বাজারসহ শত শত ঘর বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। আমরা ভাঙ্গন প্রতিরোধ চাই।

ভাঙ্গন আক্রান্ত ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহবুব বলেন, পদ্মার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল হলেও শিবচরের চরগুলো ছিল আধুনিক। প্রতিটি স্কুলেই ছিল ভবন। কিন্তু এ বছরই আমার স্কুলসহ ৪টি স্কুল ভবন নদীতে চলে গেছে। এতে স্বাভাবিক ভাবেই শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। চরাঞ্চল রক্ষায় স্থায়ী বাধ দরকার।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ বলেন, পদ্মা ও আড়িয়াল খা তীরবর্ত্তী শিবচরের ৮টি ইউনিয়ন। চলতি বছর পদ্মা নদী ভাঙ্গন আক্রান্ত হয়েছে ৩টি ইউনিয়ন। এ পর্যন্ত ৪টি স্কুল,ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,হাট বাজার, পাকা রাস্তাসহ ৬-৭শতাধিক ঘরবাড়ি আক্রান্ত হয়েছে। গত ১০ বছরে১৭ টি স্কুল নদীতে বিলীন হয়েছে।

Read previous post:
সিরীয় সীমান্তে শরণার্থীদের ঢল নামার আশঙ্কা তুরস্কের

  তৃতীয় মাত্রা : সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত প্রদেশ ইদলিবে বিদ্রোহীদের দমনে দেশটির সরকার ও তাদের মিত্রদের করা হামলায় শরণার্থীর ঢল নামার...

Close

উপরে