Logo
রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯ | ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মনোক্ষুণ্ন ১৪ দলের শরিকরা ক্ষোভ ঝাড়লেন

প্রকাশের সময়: ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯

তৃতীয় মাত্রা :

জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের নির্বাচিত সদস্যদের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে জোটের সভায়। সেই সঙ্গে মনোক্ষুণ্ন শরিক নেতারা বলছেন, তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ১৪ দলের শরিকদের পাত্তাই দেন না। এছাড়া শরিক নেতারা পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

বুধবার ১৪ দলের সভায় এ দাবি তোলা হয়। সভা শেষে ১৪ দলের শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

তারা দাবি করেন, দল ছোট বা বড় বলে কোনো কথা নয়, সব বুঝে-শুনেই জোট করা হয়েছে। দল যত ছোটই হোক মূল্যায়ন করতে হবে।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর গত ৭ জানুয়ারি টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। কিন্তু সে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়নি ১৪ দলের কোনো শরিক নেতার। তখন থেকেই মনোক্ষুণ্ন তারা। এমনকি ১৪ দলের সমন্বয়ক, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমও বঞ্চিত হন মন্ত্রিত্ব থেকে।

সরকার গঠনের পর বুধবারের বৈঠকটিই ছিলো ১৪ দলের প্রথম সভা। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে ১৪ দলের নেতা সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, ডা. সাহাদাৎ হোসেন, অসীত বরণ রায়, হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, ১৪ দলের সভায় জাসদের সভাপতি সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সংসদে ১৪ দলের অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, ১৪ দলের শরিক আমরা যারা সংসদ সদস্য, আমরা যদি ১৪ দলে থাকি তাহলে তো আমাদের সংসদে সরকারি দলের বেঞ্চে বসার কথা। আর আমাদের বিরোধী দলে বসতে হলে ১৪ দলে থাকা কেন? আবার আমরা যদি ১৪ দলগতভাবে না-ই থাকি, তাহলে আর সরকারি দলের বেঞ্চেই বা বসা কেন? আমরা সরকারি না বিরোধী দলে আছি, আমাদের অবস্থান কোথায়? সেটি স্পষ্ট হওয়া দরকার।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, দেশে বর্তমানে যে পরিস্থিতি, তাতে মনে হয় আমরা একটি পুলিশি রাষ্ট্রে বসবাস করছি। আমরা কি পুলিশি রাষ্ট্রের দিকে চলে যাচ্ছি? পুলিশ যা ইচ্ছে তাই করছে। এতে সরকার সম্পর্কেও জনমনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টির এক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিতে গেলে পুলিশ তাকে বলেছে অনুমতি লাগবে। সভায় এ প্রসঙ্গটি তুলে ধরে রাশেদ খান মেনন তার ক্ষোভের কথা জানান। পাশাপাশি গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন ভাগাভাগির বিষয় নিয়ে ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। এটা নিয়ে জোটে আলোচনা করা উচিত ছিলো বলে সভায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাশেদ খান মেনন।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ১৪ দলে থাকা ছোট-বড় দল সবাইকে মূল্যায়ন করা দরকার। অনেকে বড় দল থেকে এমপি হয়েছেন, এমপি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, মন্ত্রি হয়েছেন। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও কয়েকটি দল থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলো কিছুই পায়নি। এদের মূল্যায়ন হওয়া দরকার। কোনো কোনো দল একেবারে মূল্যায়ন না হলে হতাশ হবে। কোনো দলে দুই জন থাকুক আর ৫ জন থাকুক, প্রত্যেকেরই তো একটা প্রত্যাশা থাকে। প্রত্যেককেই সম্মান দেওয়া উচিত।

এ সময় সভায় উপস্থিত বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেছেন, এটা আমাদের জাতীয় পরিষদের সভার মূল্যায়ন, সেটাই আমাদের দলের সভাপতি বলেছেন। এটা আমাদের জাতীয় পরিষদের সিদ্ধান্ত, এটা তো এখন আমরা রিভিউ করতে পারবো না।

Read previous post:
জ্যাকবকে টাওয়ার নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি সাবেক উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে ভোলার টাওয়ার নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সংসদ...

Close

উপরে