Logo
মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শহিদুল আলমের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো

প্রকাশের সময়: ৯:৩৭ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | আগস্ট ৩১, ২০১৮

তৃতীয় মাত্রা

আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো ও স্থিতিশীল বলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই চিকিৎসকের দেয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে এ সংক্রান্ত রিট নিষ্পত্তি করে ৯ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শহিদুল আলমের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ১৩ আগস্টের মধ্যে সিএমএম আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ অনুযায়ী ড. শহীদুল আলমের (৬৩) মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মানসিক স্বাস্থ্য ভালো ও স্থিতিশীল। প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল ভিআইপি কেবিন (ডিলাক্স) ৫১২ নম্বর, শাহবাগ উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শহিদুল আলমের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দুই সদস্যের বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। তার (শহীদুল আলম) উপস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্য স্থিতিশীল রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ করেছে বোর্ড।

এ বিষয়ে আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ূয়া বলেন, গ্রেফতারের আগে তো তিনি অসুস্থ ছিলেন না। কারাগারে তার নানা রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, যা আগে কখনও ছিল না। এ কারণে তার দ্রুত চিকিত্‍সার প্রয়োজন বলে আদালতের নিদের্শনা চেয়েছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে তাকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন করা হয়েছে কিনা- তারও তথ্য প্রতিবেদন আকারে আদালতে দেয়ার দাবি জানানো হয়েছিল।

আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ূয়া আরও বলেন, ৫ আগস্ট রাতে আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলমকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর কয়েক দিনের জন্য তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়। পরবর্তীতে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ৬৩ বছর বয়সী আলমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। শ্বাসকষ্ট এবং শরীরের নানা স্থানে ব্যথা অনুভব করেন। শহিদুল আলম আদালতে নিজেই বলেছিলেন যে, তাকে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন করা হয়েছে। কিল-ঘুষি মারা হয়েছে। মানসিকভাবে শক্ত থাকলেও তাকে দেখে তেমন সুস্থ মনে হয়নি। তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনগুলো সঠিকভাবে আসেনি- যোগ করেন তিনি।

গত ৭ আগস্ট হাইকোর্টের একই বেঞ্চ শহিদুল আলমকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজত থেকে দ্রুত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) স্থানান্তর এবং সেখানে চিকিৎসা দিতে নির্দেশ দেন। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ৯ আগস্টের মধ্যে সেই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়।

এরপর শহিদুল আলমকে ৮ আগস্ট সকাল পৌনে ৯টার দিকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে ডিবি কার্যালয়ে ফেরত পাঠানো হয়।

৯ আগস্ট শহিদুল আলমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপন হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, শহিদুল আলমের স্বাস্থ্যগত অবস্থা ভালো। সে সময় রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারাহ হোসেন আদালতে বলেন, ‘এখানে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর আলোকে শহিদুল আলমের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিষয় উল্লেখ করা হয়নি।’ এরপর হাইকোর্ট শহিদুল আলমের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন।

গত ৫ আগস্ট রাতে আটকের পর আইসিটি আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে সাতদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। এরপর শহিদুল আলমের রিমান্ড চ্যালেঞ্জ করে তার স্ত্রী অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটে শহিদুল আলমকে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজত থেকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

এরই মধ্যে শহিদুল আলমের সমর্থনে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, নোয়াম চমস্কি, অরুন্ধতী রায়সহ খ্যাতিমান একাধিক লেখক-বুদ্ধিজীবী বিবৃতি দেন। পেন ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংগঠনও তার পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে।

সর্বশেষ আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে মুক্তি দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা টিউলিপ সিদ্দিক। গত মঙ্গলবার ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য টাইমস’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে, আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে গ্রেফতার যথার্থ বলে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। তার দাবি, গত মাসে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র বিক্ষোভ চলাকালে গুজব ছড়িয়ে সহিংসতায় উস্কানি দিয়েছিলেন তিনি।

 

 

 

(jagonews24)
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Read previous post:
নীতির প্রশ্নে কোন আপোষ না : প্রধানমন্ত্রী

তৃতীয় মাত্রা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,  নীতির প্রশ্নে কোন আপোষ চলবে না, দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় নেই। আমার বাবা, আমার...

Close

উপরে