Logo
বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯ | ২রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনার ৫ আসামির রায় যেকোনো দিন

প্রকাশের সময়: ৪:৪৪ অপরাহ্ণ - সোমবার | জানুয়ারি ২৮, ২০১৯

তৃতীয় মাত্রা :

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নেত্রকোনার মাওলানা আব্দুল মজিদসহ পাচঁ জনের বিরুদ্ধে মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে মর্মে অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছেন আদালত। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

মামলায় শেখ মো. আব্দুল মজিদ ওরফে মজিদ মাওলানা ছাড়াও অপর চার আসামিরা হলেন- মো. আব্দুল খালেক তালুকদার, মো. কবির খান, আব্দুস সালাম বেগ ও নুরউদ্দিন। এদের সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

এ মামলায় মোট সাতজন আসামি ছিলেন। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা যান আহাম্মদ আলী (৭৮)। আর মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় মারা যান আরেক আসামি আব্দুর রহমান।

আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আনা হয়।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল ও সাবিনা ইয়াসমিন মুন্নি। আর আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট গাজী এম এইচ তামিম।

প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল জানান, এ মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। যেকোনো দিন রায় দেওয়ার জন্য মামলাটি সিএভি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

তিনি আরো বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের অপরাধ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আশা করছি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী গাজী তামিম জানান, প্রসিকিউশন পক্ষ তাদের রাজাকার প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া এর মধ্যে আব্দুল খালেক তালুকদার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি রাজাকার ছিলেন না এ কথা স্থানীয় ১৩৮জন মুক্তিযোদ্ধারা লিখিতভাবে জানিয়েছেন। তাছাড়া প্রতিহিংসাবশত তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২১ আগস্ট দুপুর একটায় রাজাকার বাহিনী কর্তৃক বাড়হা গ্রামের আব্দুল খালেককে গুলি করে হত্যার পর কংস নদীর পানিতে মরদেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শহীদ আব্দুল খালেকের ছোট ভাই মুক্তিযোদ্ধা আ. কাদির বাদী হয়ে ২০১৩ সালে চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেও পরে তদন্তে আরও তিনজনের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে মোট আসামি হন সাতজন। কিন্তু পরে এ মামলার দুই আসামি মারা যান।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ২২ মে ছয়জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউশন। ১৬ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আটজন নিরীহ মানুষকে অপহরণের পর হত্যা, তিনটি বাড়ির মালামাল লুট, আটটি ঘরে অগ্নিসংযোগ ও একজনকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত ১ বছর ১ মাস ৫ দিনে আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহান কবির।

Read previous post:
নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ভারতের ওয়ানডে সিরিজ জয়

তৃতীয় মাত্রা : অস্ট্রেলিয়ার পর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিল বিরাট কোহলির ভারত। দারুণ ছন্দে থাকা ভারতের বিপক্ষে নিজ...

Close

উপরে