Logo
রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭ | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

জন্মের পর শিশুকে মধু খাওয়ানো কি সুন্নত?

প্রকাশের সময়: ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ - শুক্রবার | জুলাই ৭, ২০১৭

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় বেসরকারি একটি টেলিভিশনের জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

প্রশ্ন : জন্মের পর ছোট শিশুকে মধু খাওয়ানো কি সুন্নত?

উত্তর : জন্মের পর ছোট শিশুকে মধু খাওয়ানো সুন্নত, এ কথা শুদ্ধ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কোনো হাদিসের মাধ্যমে অথবা কোনো কাজের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়নি। রাসুলুল্লাহ (সা.) কাউকে মধু খাওয়াতে বলেছেন, অথবা মুধু খাইয়েছেন, এটি প্রমাণিত হয়নি।

তবে একটি মাসআলার নিয়ে আলেমদের বক্তব্য আছে, সেটি হচ্ছে, একটি শিশুকে নিয়ে আসা হয়েছে রাসুল (সা.)-এর কাছে। নবী (সা.) একটু খেজুর চিবিয়ে খুব মসৃণ করে, নরম করে, শিশুর উপযোগী করে শিশুর মুখে দিয়েছেন। এটাকে বলা হয়ে থাকে ‘তাহনিক’।

একদল ওলামায়ে কেরাম তাহনিকটাকে সাধারণ হুকুম হিসেবে গ্রহণ করে বলেছেন এটা সুন্নাহ। যাঁরা তাহনিককে সুন্নাহ বলেছেন, তাঁদের বক্তব্য হচ্ছে— তহনিক করা, অর্থাৎ খেজুর বা এ জাতীয় কোনো কিছুকে চিবিয়ে শিশুর মুখে দেওয়া সুন্নাহ।

তবে এই মাসআলা নিয়ে আমার যতটুকু স্টাডি বা চেষ্টা রয়েছে, সেই চেষ্টার আলোকে আমি তাহকিক করে দেখেছি, এই তাহনিকটি শুধু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য খাস। ওনার জন্যই নির্দিষ্ট। যেহেতু রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেকটি আছর-এর বিষয়ে বিভিন্ন কিতাবের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, নবী (সা.)-এর কোনা আছর যদি প্রমাণিত হয়, সরাসরি এর মাধ্যমে যে কোনো ধরনের তাবাররুক হাসিল করা এটি আহলুস সুন্নাত আল জামাতের ওলামায়ে কেরামের মতে এটি জায়েজ।

তাই, এটি শুধু নবী (সা.)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি বিষয় ছিল। এটাকে যাঁরা কমন করেছেন, সবার জন্য গ্রহণ করেছেন, আমি মনে করে থাকি যে, এটা যথাযথ নয়। কারণ, হাদিসের নির্দেশনা থেকে এটা বোঝা যায় না।

রাসুলের (সা.) পরবর্তী সময় সলাফদের আমল দ্বারা এটি সরাসরি প্রমাণিত হয়নি। কিন্তু এর পরবর্তী সময়ে অনেকের আমলে এটা দেখা গিয়েছে যে এটাকে যাঁরা ইজতেহাদ করেছেন, এর ওপর নির্ভর করে তারা এটাকে সাধারণ করেছেন বা এই তাহনিকটাকে সুন্নাহ মনে করেছেন।

কিন্তু এই তাহনিকটা কি হাল? এটা কি শুধু কাঁচা-পাকা খেজুর যেটাকে রোতাব বলা হয়ে থাকে, এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে, নাকি এটা অন্য কোনো মিষ্টি বস্তুর সঙ্গেও সম্পৃক্ত হবে? আসলে আমার মনে হচ্ছে এখানে ইজতেহাদের কোনো সুযোগ নেই। কারণ হলো এটি নির্ভর করছে শিশুর হজম করার সামর্থ্য আছে কি না, তার ওপর। অনেক সময় অনেক শিশুর জন্ম হয়ে থাকে সময়ের এক-দেড় মাস আগে বা পরিপূর্ণ বিকাশ হওয়ার আগেই অনেক শিশুর জন্ম হয়। ফলে আপনি তাকে যদি মধুর মতো একটি ভারি জিনিস খেতে দেন, সেটা তার জন্য একেবারেই উপাদেয় বা উপযুক্ত নাও হতে পারে।

এখন তো চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে জন্মের ছয় মাস পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খেলেই যথেষ্ট, আর কিছুর প্রয়োজন নেই। এ জন্য সে ক্ষেত্রে আমরা মনে করে থাকি যে, এ ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াটাই উত্তম।

শুধুমাত্র ধারণার ওপর নির্ভর করে বা যে হাদিসটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রয়েছে এ বিষয়ে, সেটাকে সাধারণ করার বিষয়টি যেহেতু বিতর্কিত, সে বিতর্কের দিকে না গিয়ে উচিত হচ্ছে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া। যদি ডাক্তার মনে করেন যে এতে তার ক্ষতি হবে না বরং কোনো উপকার হতে পারে, সে ক্ষেত্রে আমার মনে হয় জায়েজ হতে পারে।

তবে আল্লাহু সুবহানাহুতায়ালা শিশুর জন্য যে খাবারের আয়োজন করেছেন, মায়ের দুধ, এটিই সবচেয়ে উত্তম খাবার এবং পানীয়। একসঙ্গেই আল্লাহু সুবহানাহুতায়ালা যেটাকে প্রয়োজন মনে করেছেন, সেটাই শিশুর জন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমি মনে করে থাকি যে, এই খাবার এবং পানীয়ের ওপর নির্ভর করাটাই সবচেয়ে উত্তম কাজ।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Read previous post:
জুমআর নামাজ তরক করা মারাত্মক গোনাহ

জুমআর দিন সাপ্তাহিক ঈদের দিন। এ দিনের ফজিলত অনেক। তাই কোনো মুসলমানের উচিত নয় যে, জুমআর নামাজ থেকে বিরত থাকা।...

Close

উপরে