Logo
রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮ | ৬ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে দিশেহারা মানুষ

প্রকাশের সময়: ৫:৪৩ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | আগস্ট ১০, ২০১৮

তৃতীয় মাত্রা :

সাখাওয়াত হোসেন সাখা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : নদ-নদীগুলোতে পানি বাড়ায় পাল্লা দিয়ে শুরু হয়েছে ভাঙন। মুহূর্তের মধ্যে ব্রহ্মপুত্রের গর্ভে চলে যাচ্ছে ফসলি জমি, ভিটেমাটি। গেল বছরে ভাঙন ঠেকাতে প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বরাদ্দ ছিল। পুরো কাজ করার কথা থাকলেও পরে আংশিক কাজ করে চলে যায় বলে অভিযোগ নদীভাঙ্গন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের। তবে এখন পর্যন্ত কোন বরাদ্দ না পাওয়ায় হতাশ হয়েছে নদীতীরে বসবাসরত লোকদের। ফলে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের কথায় ভরসা পাচ্ছে না ক্ষতিগ্রস্তরা।

গেল ৯দিনের উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের বাগুয়ারচর বলদমারা নৌকাঘাট, পশ্চিম পাখিউড়া, বাইসপাড়াসহ প্রায় দুই কিলোমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন স্থানীয়রা।
ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়েছে ২০০টি পরিবারের সব কিছু। ভাঙন অব্যাহত থাকায় প্রতি মুহূর্তে মাথা গোঁজার ঠাই হারানোর আতংক নিয়ে বাস করছেন উপজেলার নদী ভাঙ্গনের কবলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরা। এলাকাবাসীর শেচ্ছাশ্রমে বাঁস,গাছ,ডাল পুতে ভাঙন প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে। ভাঙন কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কোন ধরনের আশ্বাস পায়নি ভাঙ্গন কবলিত ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ না করলে বাস্তুহারা মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে শঙ্কা স্থানীয় এই জনপ্রতিনিধিদের।
ক্ষতিগ্রস্থ রুপচাঁন বলেন, ‘থাকার ঘরটুকু ছাড়া আর কোনও জায়গা নাই, নদীর ভাঙনে সেটাও শ্যাষ হবার লাগছে। কেমন করি বাঁচি থাকবো জানিনা।’
অন্যদিকে, একই গ্রামের ব্রহ্মপুত্র তীরের বাগুয়ার চর গ্রামের ইছার আলী ও রমেছার আঙিনার সীমানা প্রাচীরের কাছে নদী এসে তার ভাঙনের দাপট দেখাচ্ছে। সংগ্রামী এই দম্পতি নিজেদের অস্তিত্ত¡ টিকিয়ে রাখার তাগিদে যুগলবন্দি হয়েই নেমে পড়েছেন ভাঙন প্রতিরোধে। বাজার থেকে কিনে আনা ফাঁকা সিমেন্ট ব্যাগে বালু ভরে সেই ব্যাগ দিয়ে ভাঙন রোধের শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্ত ব্রহ্মপুত্র গতিপথ না বদলালে তাদেরও রক্ষা নেই। আলমেছ আলী বলেন, শ্যাষ চেষ্টা করি দেখি, যদি নদীর দয়া হয়! কিন্তু তার স্ত্রী রহিমার মুখে নিরাশার অন্ধকার। পথে। আর রুপচাঁনের থাকার ঘরের একাংশ নদী গর্ভে চলে গেছে। অন্যত্র ভিটে মাটি না থাকায় ক্ষীণ প্রত্যাশা নিয়ে তবুও বাড়িতেই থাকছেন যদি ব্রহ্মপুত্র তাদের ছাড় দেয়! কিন্তু ছাড় যে দিবেনা সেটা তিনিও জানেন, তবুও মিছে আশা নিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অপেক্ষা টিকে থাকার।
ভাঙন রোধে সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনও পর্যায়েই কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এভাবেই ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে একের পর এক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে ঘরহারা উদ্বাস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
ভাঙ্গনের দৃশ্য দেখতে চলে আসেন মো. হারুন অর রশিদ বিভাগীয় তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী রংপুর পশুর সার্কেল-১ বাপাউবো,রংপুর তিনি জানান, ভয়াবহ ভাঙ্গনের বিষয় উপর মহলে জানানো হবে। শিগ্রহই স্কীম তৈরী করে পাঠানো হবে। এদিকে নিবার্হী প্রকৌশরী পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রাম মো. শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কুড়িগ্রাম, শরিফুল ইসলাম উপ-সহকারি প্রকৌশলী পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রাম ও চঞ্চল কুমার শর্মা উপ-প্রকৌশলী পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রাম সরেজমিন এসে পরিদর্শন করে।

 

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Read previous post:
লৌহজংয়ে র‌্যাবের সাথে বন্ধুক যুদ্বে মাদক সম্রাট মুকবুল নিহত

তৃতীয় মাত্রা : মোঃ রুবেল ইসলাম তাহমিদ, মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি : লৌহজংয়ে র‌্যাবের সাথে বন্ধুক যুদ্বে মাদকের তালিকা ভুক্ত ৬ মামলার...

Close

উপরে