Logo
বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ | ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মামলা হচ্ছে, আইন অমান্যও চলছে

প্রকাশের সময়: ১২:৪৯ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | আগস্ট ১০, ২০১৮

তৃতীয় মাত্রা :

‘খোকাবাবু যায়, হেলমেট কোথায়?’ , ‘অযথা হর্ন বাজাবেন না’, ‘চলন্ত গাড়িতে উঠা-নামা করবেন না’, ‘নির্ধারিত স্থান ছাড়া বাস থামাবেন না’, ‘যত্রতত্র রাস্তা পারাপার হবেন না’-রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ট্রাফিক পুলিশ বক্স থেকে পথচারী ও যানবাহন চালকদের উদ্দেশে এসব সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল ট্রাফিক সপ্তাহের পঞ্চম দিন। সচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের পাশাপাশি ট্রাফিক সদস্যরা দিনভর যানবাহনের নিবন্ধন, লাইসেন্স, ফিটনেস, বিমার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেছেন। বেলা তিনটা পর্যন্ত ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ৪ হাজার ৪৮৪টি মামলা করে ট্রাফিক বিভাগ। আটক করা হয় ৭৭টি মোটরসাইকেল।

এত কিছুর পরেও রাজধানীর সড়কে নৈরাজ্য কমেনি। গতকাল রাজধানীর পাঁচটি ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যানবাহনচালক ও পথচারীদের নিয়ম অমান্য অনেক ক্ষেত্রেই আগের মতো চলছে।

এদিকে গাড়ি চালানোর অনুমতি (ড্রাইভিং লাইসেন্স) পেতে এবং যানবাহনের কাগজপত্র নবায়ন করতে গতকালও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কার্যালয়ে লোকজনের ভিড় ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিআরটিএ বাড়িয়েছে দিনের কর্মঘণ্টা। তবে জেল-জরিমানা করেও দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি বুথের সামনে সেবা নিতে আসা লোকজনের দীর্ঘ সারি। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরে বিআরটিএ কার্যালয়ে লাইসেন্স ও ফিটনেস সনদ নিতে হিড়িক পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিআরটিএ বাড়িয়েছে দিনের কর্মঘণ্টা। গত শনিবার থেকে বিআরটিএ কার্যালয়ে লাইসেন্স নবায়ন, গাড়ির ফিটনেস ও নবায়ন কার্যক্রম প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চালু থাকছে।

চার দিন আগেও বিআরটিএ মূল ফটকের পাশেই ছোট টুল নিয়ে বসে স্ট্যাম্প বিক্রি করতেন বেশ কিছু লোক। দালালদের আনাগোনা এসব দোকানে বেশি ছিল। গতকাল দেখা যায়, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ এসব ছোট দোকান সরিয়ে দিয়েছে। তবে লোকজন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের মতো হাতে হাতে স্ট্যাম্প, ফরম অন্য কাগজ বিক্রি করছেন। দালালদের উপস্থিতিও আগের মতো। কার্যালয়ের আশপাশের ফটোকপির দোকানগুলোতে দালালদের আনাগোনা।

বিআরটিএর উপপরিচালক মাসুদ আলম জানান, কার্যালয়ে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গত বুধবারও ১৪ জন দালালকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

বেলা দেড়টার দিকে দেখা যায়, ঢাকা থেকে গাজীপুর চৌরাস্তাগামী বিকাশ পরিবহনের দুটি বাস নিউমার্কেটের ২ নম্বর ফটকের সামনে থেকে যাত্রী তোলার জন্য ধাক্কাধাক্কি করছে। গত ৫ এপ্রিল চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের সামনে এই বিকাশ পরিবহনের দুটি বাসের প্রতিযোগিতায় আহত হন রিকশাযাত্রী আয়েশা খাতুন। বিকাশ পরিবহনের দুটি বাস দুদিক থেকে চাপ দিয়ে আয়েশাকে বহনকারী রিকশাটিকে বেশ কিছুদূর টেনে নেয়।

নীলক্ষেত মোড়ে আরেক সমস্যা রিকশা। রিকশার ওপরে কারও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনাও মানতে নারাজ রিকশাচালকেরা। দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশ ও আনসার সদস্যরা একদিকের যানবাহন থামার সংকেত দিলেও রিকশাচালকেরা এলোপাতাড়ি চলন্ত গাড়ির সামনে চলে আসছেন।

শাহবাগ মোড়ে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি স্কাউট সদস্যরা চেষ্টা করছেন। বাসের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের বারবার অনুরোধ করা হচ্ছিল বাস থামার নির্ধারিত স্থানে গিয়ে দাঁড়াতে। বাসগুলোকে মোড়ে দাঁড়াতে না দিয়ে নির্ধারিত স্থানে গিয়ে যাত্রী তোলার সংকেত দিচ্ছিলেন স্কাউট সদস্যরা।

আড়ং সিগন্যাল পেরিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে প্রবেশ করতেই ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা যানবাহনের নিবন্ধন, লাইসেন্স, ফিটনেস, বিমার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করছিলেন। পাশেই পুলিশের রেকার রাখা। তিনজন সার্জেন্ট কাগজপত্র পরীক্ষা করে মামলা দিচ্ছিলেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের চালকের হেলমেট থাকলেও আরোহীর হেলমেট নেই। এসব ক্ষেত্রে আরোহীর জন্য হেলমেট রাখতে সতর্ক করার পাশাপাশি মামলাও দিচ্ছিলেন সার্জেন্টরা।

সব মিলিয়ে ট্রাফিক সপ্তাহেও থেমে নেই সড়কের নৈরাজ্য। সূত্র : প্রথম আলো

Read previous post:
চুক্তিতে বাস চলাচল বন্ধ হয়নি

তৃতীয় মাত্রা : নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর ঢাকায় চুক্তিতে বাস না চালানোর ঘোষণা মালিকরা দিলেও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন...

Close

উপরে