Logo
বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৯ | ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কে এই নাঈম আশরাফ?

প্রকাশের সময়: ১:১৫ পূর্বাহ্ণ - বুধবার | মে ২৪, ২০১৭

তৃতীয় মাত্রাঃ রাজধানীর বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি নাঈম আশরাফ আসলে কে? নিজ এলাকা সিরাজগঞ্জে হাসান মোহাম্মদ হালিম নামে পরিচিত এই ‘ধর্ষক’ তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও জালিয়াতি করেছেন।

নিজেকে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি হালিম হিসেবে পরিচয় দিলেও আসল হালিম তিনি নন। স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান সহসভাপতি আবদুল হালিমের নাম ব্যবহার করেছেন তিনি।

এ ছাড়া তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল আলমের ছেলে নাঈম আশরাফের নাম ব্যবহার করছেন। জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে নাঈম আশরাফ ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন।

আওয়ামী লীগ নেতার নাম ব্যবহার ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতির পদ ব্যবহার করেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন হাসান মোহাম্মদ হালিম।

কাজীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সেলিম রেজা জানান, কাজীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহসভাপতি হিসেবে রয়েছেন গান্ধাইল ইউনিয়নের চৌরাস্তা গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় কারিগরি কলেজের শিক্ষক আবদুল হালিম, যিনি কালো হালিম নামে পরিচিত। অথচ ওই ব্যক্তির নাম ও পদবি ব্যবহার করেই প্রতারক হাসান মোহাম্মদ হালিম ওরফে নাঈম আশরাফ নিজেকে কাজীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি পরিচয় দিয়ে এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন সাটান।

সেলিম রেজা বলেন, দলের সহসভাপতির পদ তো দূরের কথা, তাকে আমি চিনিই না। তার সঙ্গে কোনো দিন দেখা বা সাক্ষাৎ হয়নি আমার।

এ সময় হালিমকে প্রতারক আখ্যা দিয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এই নেতা।

সিরাজগঞ্জে হালিমের সাটানো পোস্টারসিরাজগঞ্জে হালিমের সাটানো পোস্টারসিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জিহাদ আল ইসলাম বলেন, এইচ এম হালিম ওরফে নাঈম আশরাফ নামের স্বেচ্ছাসেবক লীগের কোনো নেতা নেই। হালিম মূলত তার অপকর্ম ও প্রতারণার কাজটি সহজ করতেই স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদ ব্যবহার করেছেন।

আবদুল হালিমের চাচি সুফিয়া খাতুন বলেন, টেলিভিশন ও পত্রিকায় তার ছবি দেখে আমি নিশ্চিত হয়েছি যে সে হালিম। তবে তার আরেক নাম নাঈম আশরাফ কি-না, তা জানি না।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলা গান্ধাইল গ্রামের আমজাদ হোসেন ফেরিওয়ালার ছেলে এইচ এম হালিম। ২০০৪ সালে এসএসসি পাস করে বগুড়া পলিটেকনিকে ভর্তি হন। সেখানেও নিজের বাবার নামসহ পুরো পরিচয় গোপন করে প্রতারণা করে প্রেম ও বিয়ে করেন। ধরা পড়ে গণপিটুনি খেয়ে সেখান থেকে পালিয়ে ঢাকায় গিয়ে নাম বদলে হয়ে যান নাঈম আশরাফ। চাকরি নেন এক মিডিয়া হাউসে। এর পর থেকেই দীর্ঘদিন তার কোনো খবর ছিল না। হঠাৎ করেই নিজেকে কাজীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি পরিচয় দিয়ে এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন সাটান। এতেই নজরে আসেন হালিম ওরফে নাঈম আশরাফ। তবে তার রাজনৈতিক কোনো পরিচয় নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

Read previous post:
রমজানে গরুর মাংস ৪৭৫, খাসি ৭২৫ টাকা

তৃতীয় মাত্রাঃ রমজানে মাংসের দাম নির্ধারণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। গরুর মাংস ৪৭৫ টাকা, বিদেশি গরুর মাংস ৪৪০ টাকা,...

Close

উপরে