Logo
শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৮ | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সোনাগাজীর ডাকবাংলায় হাসপাতাল কবে চালু হবে ?

প্রকাশের সময়: ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৭

দৈনিক তৃতীয় মাত্রাঃ

কাজী নজরুল ইসলাম,ফেনী প্রতিনিধিঃ সোনাগাজীর বক্তারমুন্সি ডাকবাংলা এলাকায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ শয্যার মঙ্গলকান্দি হাসপাতাল নির্মাণের সাড়ে তিন বছরেও জনবল কাঠামো ঠিক হয়নি। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যবস্থাপনায় নামমাত্র বহির্বিভাগ চালু করা হলেও এলাকাবাসী সেবা থেকে বঞ্চিত।
২০১১ সালে হাসপাতাল ভবন নির্মাণে কাজ শুরু হলে এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ উচ্ছাস দেখা দেয়। তাদের প্রত্যাশা ছিল, এলাকায় হাসপাতাল হলে তাঁরা আর চিকিৎসার জন্য উপজেলা বা জেলা সদর হাসপাতালে ছোটাছুটি করতে হবে না, দূর্ভোগও পোহাতে হবে না, কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হলে সবাই খোঁজ নিতে শুরু করে-হাসপাতালটি কখন চালু করা হবে।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানায়, একটি হাসপাতালের অভাবে সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি, চর মজলিশপুর, বগাদানা, নবাবপুর, আমিরাবাদ, চরদরবেশ এবং ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখ লোক ঠিকমত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছিল না। এলাকাবাসীর সুচিকিৎসার জন্য মির্জাপুর গ্রামে ১৯৬৪ সালে একটি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য স্থানীয় লোকজনের স্বাস্থ্য বিভাগকে তিন একর জায়গা দেয়। স্বাধীনতার পর ওই স্থানে সরকার শুধু একটি পরিবার কল্যান কেন্দ্র স্থাপন করে। এতে শুধু পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীরাই প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিতে পারে। ফলে রোগীরা চিকিৎসার জন্য জেলা ও উপজেলার সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালে যেতে বাধ্য হতো।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেয়া তথ্যমতে, সরকার ২০১০ সালে মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে স্বাস্থ্য বিভাগের ওই স্থানে ২০ শয্যার বিশেষায়িত একটি হাসপাতাল নির্মানের ঘোষণা দিয়ে একই বছর ১৮ আগষ্ট দরপত্র আহ্বান করে। ২০১১ সালে ঠিকাদার নিয়োগ করে কার্যাদেশও প্রদান করা হয়। পাঁচ কোটি ৯২ লাখ ৯১ হাজার ৮৮৭ টাকার দরপত্রে একটি হাসপাতাল ভবন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন, ডক্টরস ও নার্সেস ডরমেটরী, গ্যারেজসহ আনুসাঙ্গিক অবকাঠামো ছিল। নির্মান শেষে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এগুলো বুঝে নেন।
কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগ সাড়ে তিন বছরেও প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্ধ দেয়নি। ফলে হাসপাতালটি এখনো চালু করা যাচ্ছে না।
অনেক লেখালেখির পর মন্ত্রনালয়ের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ০৪/০২/১৪ ইং থেকে স্থানীয়ভাবে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা, একজন উপসহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা ও একজন পিয়নকে সেখানে প্রেষণে দিয়ে কোনোমতে বহির্বিভাগ চালু করা হয়েছে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া অন্য কোন চিকিৎসা সম্ভব হয় না। গড়ে প্রতিদিন ২০-২৫জন লোক সর্দি কাশি জ্বরের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনগুলি নির্মাণের দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। চিকিৎসা কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসা কর্মকর্তা নিয়মিত সেখানে যান না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।
জানতে চাইলে সিভিল সার্জন হাসান শাহরিয়ার কবীর বলেন, মন্ত্রনালয় জনবল নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত হাসপাতাল পূর্নাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব নয়। হাসপাতালের জন্য একজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা, সার্জারী, এ্যানেসথেসিয়া, শিশু, গাইনী মেডিসিন বিভাগের একজন করে জুনিয়র কনসালটেন্ট, ৮জন চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ ৭৩ জন কর্মকর্তা কর্মচারীর পদ সৃষ্টির জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Read previous post:
ফেনীতে বিষাক্ত জেলি মেশানো আড়াই মণ চিংড়ি জব্দ

দৈনিক তৃতীয় মাত্রাঃ কাজী নজরুল ইসলাম,সদর প্রতিনিধি: ফেনীতে বিষাক্ত জেলি মেশানো আড়াই মণ চিংড়ি জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার দুপুরে...

Close

উপরে