Logo
সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বাংলা গানে এখন আর বাংলা শব্দ কোথায়?

প্রকাশের সময়: ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ - সোমবার | সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৬

ঝুমুর দাস

বেশ কিছুদিন ধরেই বিষয়টা মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। রোজ কত নতুন নতুন বাংলা ছবি মুক্তি পাচ্ছে। বলা হচ্ছে বাংলা ছবি আগের থেকে অনেক উন্নতি করেছে। ভালো ব্যবসা করছে। আগের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ এখন সিনেমা হলে গিয়ে বাংলা ছবি দেখছেন। ছবির মান কতটা বেড়েছে বা কমেছে তা নিয়ে আমার বিশেষ কিছু বক্তব্য নেই। তবে একটা জিনিস বেশ চোখে পড়েছে। বেশ ভালোরকম পরিবর্তন এসেছে বাংলা ছবির গানে।

ঝাঁ চকচকে দৃশ্য। দারুণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। অভিনেতা-অভিনেত্রীর দারুণ সমস্ত পোশাক। সঙ্গে মন ভালো করে দেওয়া সুর। কিন্তু গানের কথা? সেখানে বাংলার বদলে হিন্দি কিংবা ইংরেজি শব্দের সংখ্যা অনেক অনেক বেশি। কিন্তু কেন হল এমনটা? কীভাবেই বা এত পরিবর্তন হল?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম বাংলা ভাষায় হাজার-হাজার গান রচনা করেছেন। তাঁদের সেই রচনা আজও আমাদের মনে গেঁথে রয়েছে। আমরা চেষ্টা করলেও তাঁদের সেই সৃষ্টিকে ভুলতে পারব না। এটাই তাঁদের সৃষ্টির মহিমা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাষার পরিবর্তন হয়েছে। ভাষা আধুনিকও হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলামদের যুগে যে বাংলা ভাষায় মানুষ কথা বলতেন, এখন সেই চেনা বাংলা ভাষারই আমুল পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তন এসেছে আমাদের চিন্তাধারাতেও। ঠিক কতটা পরিবর্তন এসেছে আমাদের ভাষায় তা এখনকার সিনেমাগুলির গান শুনলেই তা উপলব্ধি করা সম্ভব।

এবার বলি কেন এ কথা বলছি। সিনেমা চিরকালই সমাজের চেহারাকে আমাদের সামনে তুলে ধরে। ছবির মাধ্যমে সমাজটাকে দেখায়। সেকালে যে সমস্ত বাংলা ছবি তৈরি হত, তাতেও গান থাকত। তবে সেই গানে থাকত আসল বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। অথচ, তখনকার মানুষও হিন্দি কিংবা ইংরেজি ভাষায় কথা বলতেন। মহাপুরুষরা বিদেশে গিয়ে বক্তব্যও রাখতেন। তখন হয়তো গানে প্রচুর সরঞ্জাম ব্যবহার হত না, অথচ গানের সুর আর ভাষা আমাদের মনে গেঁথে থাকত। কিন্তু এখনকার দিনের বাংলা গানে বাংলা শব্দের সংখ্যাই হাতে গোনা। বরং তাতে হিন্দি বা ইংরেজি শব্দের প্রাধান্যই বেশি।

আমরা বরাবরই একটু বিদেশি প্রিয়। দেশের থেকে বিদেশকে বেশি প্রাধান্য দিই। বিদেশি জিনিস ব্যবহার করতে পছন্দ করি। বিদেশিদের মতো কথাবার্তা, হাবভাব, আচার আচরণ, সবই সারাক্ষণ নকল করে চলেছি। আজ আর আমরা কেউ পুরোপুরি এদেশীয় নই। এদেশীয় আর বিদেশির জগাখিচুরি। আজকাল আর কারও সঙ্গে দেখা হলে কেউ নমষ্কার বা প্রণাম বলেন না। বরং হাই, হ্যালো বা হোয়াটস-আপ বলতেই বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। আর এই সমাজেরই মানুষদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে গানের কথায় এই সমস্ত শব্দের আধিক্য দেখা যায়। অর্থাত্‌, বাংলা গানে বাংলা ভাষা ক্রমশ লুপ্ত হতে চলেছে। আর সেখানে আধিপত্য বিস্তার করতে চলেছে বাংলা বাদে বাকি সমস্ত ভাষা।

সবশেষে বলা, বাংলা একটি অতি মধুর ভাষা। বাংলায় ভালোবাসি কিংবা কেমন আছো কিংবা যেকোনও সম্বোধনই বড় শ্রুতিমধুর। তাহলে কেনই বা অন্যদের থেকে ভাষা ধার করে বেবি, ডার্লিং, রোম্যান্স প্রভৃতি ব্যবহার করা। আপনাদের মনে হতে পারে, এই সমস্ত শব্দই তো আমরা এখন সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি। তাহলে অসুবিধা কোথায়? সত্যি বলতে কি এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের কাছে নেই। শুধু একবার ভেবে দেখুন তো, যখন হিন্দি কিংবা ইংরেজি গান শোনেন, সেখানে কি কোথাও বাংলা শব্দ খুঁজে পান? যদি না পান, তাহলে ভেবে দেখুন, তাঁরা যদি আমাদের ভাষা ব্যবহার না করে, তাহলে আমরাই বা আমাদের ভাষা থাকতে কেন অন্যদের ভাষা ব্যবহার করব?

Read previous post:
বিজয় দিবসের আগেই সরবে জিয়ার কবর

সংসদ ভবনের চূড়ান্ত নকশাসহ বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের করা নতুন ঢাকার ৮৫৩টি নকশাই চলতি মাসে সরকারের হাতে পৌঁছবে। বিষয়টি...

Close

উপরে