Logo
শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ | ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

চোখের জলে শেষ হলো প্রথম পর্বের ইজতেমা

প্রকাশের সময়: ৮:০৩ অপরাহ্ণ - রবিবার | জানুয়ারি ১৫, ২০১৭
তৃতীয় মাত্রা:

মাহমুদুল হাসান, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান থেকে: টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে লাখ লাখ ধর্মপ্রান মুসলমানের কন্ঠে আমিন আল্লাহুমা আমিন ধ্বনিতে মুখরিত আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে রবিবার শেষ হলো এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, সমৃদ্ধি, ইহলৌকিক ও পরলৌকিক মুক্তি এবং দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার তৌফিক কামনা করা হয়। জীবনের সব পাপ-তাপ থেকে মুক্তির জন্য, পরম দয়াময় আল্লাহর দরবারে অনুনয়-বিনয় করে পানাহ্ ভিক্ষা করছিলেন মুসুল্লীরা। ক্ষমা লাভের আশায় লাখো মানুষের সঙ্গে একত্রে হাত তুলতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে এসেছিলেন তাঁরা ভোর থেকেই। বহু মানুষের অংশগ্রহণে ইহলোকের মঙ্গল, পরলোকের ক্ষমা, দেশের কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও বিশ্বশান্তি কামনা করা হয় তাবলিগ জামাতের ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরী মোনাজাতে। এরআগে হেদায়েতী বয়ান করা হয়। প্রথম পর্বের পর দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা হবে আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত।

বিশ্ব তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি ভারতের মাওলানা সা’দ আহমেদ ছোট ছোট বাক্যে আরবী ও উর্দু ভাষায় আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন। তিনি বেলা ১১টা ১ মিনিট থেকে মোনাজাত শুরু করেন এবং তা চলে ৩৫ মিনিট, অর্থাৎ বেলা ১১টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত। মোনাজাত শুরু হতেই পুরো এলাকা জুড়ে নেমে আসে পিন পতন নীরবতা। খানিক পর পর শুধু ভেসে আসে আমিন, ছুম্মা আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন। অনুতপ্ত মানুষের কান্নার আওয়াজে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। জীবনের সব পাপ-তাপ থেকে মুক্তির জন্য, পরম দয়াময় আল্লাহর দরবারে অনুনয়-বিনয় করে পানাহ ভিক্ষা করছিলেন তাঁরা। ক্ষমা লাভের আশায় লাখো মানুষের সঙ্গে একত্রে হাত তুলতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে এসেছিলেন তাঁরা ভোর থেকেই। বহু মানুষের অংশগ্রহণে ইহলোকের মঙ্গল, পরলোকের ক্ষমা, দেশের কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও বিশ্বশান্তি কামনার মধ্য দিয়ে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে রবিবার। এবারের প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে প্রায় ২০ লক্ষাধিক মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে সংশি¬ষ্ট সূত্রের ধারণা।

এদিকে, আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে রবিবার ভোর রাত থেকেই টঙ্গীর ইজতেমা অভিমুখে শুরু হয় মানুষের ঢল। টঙ্গীর পথে শনিবার মধ্যরাত থেকেই ইজতেমা ময়দানগামী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মোটর গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মোনাজাতে অংশ নিতে চার দিক থেকে লাখ লাখ মুসুল্লী পায়ে হেঁটেই ইজতেমাস্থলে পৌঁছেন। মোনাজাতের আগেই ইজতেমা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হলে মুসুল্লীরা মাঠের আশে-পাশের রাস্তা,অলি-গলিতে অবস্থান নেন। ইজতেমাস্থলে পোঁছুতে না পেরে কয়েক লাখ মানুষ কামার পাড়া সড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মোনাজাতের জন্য পুরনো খবরের কাগজ, পাটি, সিমেন্টের বস্তা ও পলিথিন সিট বিছিয়ে বসে পড়েন। এছাড়াও পাশ্ববর্তী বাসা-বাড়ি-কলকারখানা-অফিস-দোকানের ছাদে, যানবাহনের ছাদে ও তুরাগ নদীতে নৌকায় মুসুল্লীরা অবস্থান নেন। যে দিকেই চোখ যায় সেদিকেই দেখা যায় শুধু টুপি-পাঞ্জাবি পড়া মানুষ আর মানুষ। ইজতেমাস্থলের চারপাশের ৩-৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। আখেরি মোনাজাতের জন্য রবিবার আশে-পাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানাসহ বিভিন্ন অফিস-আদালতে ছিল ছুটি। কোন কোন প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা না করলেও কর্মকর্তাদের মোনাজাতে অংশ নিতে বাধা ছিল না। নানা বয়সী ও পেশার মানুষ এমনকি মহিলারাও ভিড় ঠেলে মোনাজাতে অংশ নিতে রবিবার সকালেই টঙ্গী এলাকায় পৌঁছেন।

শেষ দিনে বয়ানকারী ॥ রবিবার আখেরী মোনাজাতের দিন বাদ ফজর থেকে খাস বয়ান করেন বাংলাদেশ তাবলিগের মজলিসে শূরার সদস্য মাওলানা ইউনুস সিকদার। এরপর থেকে মোনাজাতের আগ পর্যন্ত ভারতের মাওলানা সা’দ আহমেদ তাবলিগের গুরুত্ব তুলে ধরে মুসুল্লীদের উদ্দেশ্যে হেদায়তি বয়ান করেন। এসময় ইজতেমাস্থলে আগতরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে সেসব বয়ান শুনেন।

হেদায়তী বয়ান ॥ হেদায়তী বয়ানে ভারতের মাওলানা সা’দ বলেন, ইসলামে নামাজের স্থান মানুষের দেহের মাথার মতো। নামাজ হলো আল্লাহর হুকুম। আল্লাহর হুকুম পুরা হলে তার ওয়াদা পূরণ হয়ে যায়। যার দ্বীলে আল্লাহর এক্কিন পয়দা হবে, সে আল্লাহর হুকুমকে অগ্রাধিকার দেবে। নামাজের ফজিলত বান্দা তখনই পাবে, যখন কেউ রাসুল (সা.) এর মতো করে নামাজ পড়ে। ভালো মউত তাদেরই হবে, যারা আল্লাহর হুকুম ও রাসুল (সা.)-এর হুকুমমতো চলে। দ্বীনের ঘরে বসে ইবাদতের চেয়ে বাইরে মেহনত করে ইবাদত বন্দিগী করা অনেক ফজিলত। আল্লাহ তার বান্দাদের দ্বীনের কাজে রাস্তায় বের হতে হুকুম দিয়েছেন। সকলকে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার কথা বলেছেন। আর এ দাওয়াতের জন্য তালিম নিতে হবে। মহল্লায় মহল্লায় মসজিদে বসে দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে পরামর্শ করতে হবে। এতে শত্রুও বন্ধু হয়ে যেতে পারে। যিনি এখলাছের সাথে দ্বীনের কাজ করবেন তিনিই কামিয়াব হবেন। আল্লাহকে খুশি করার জন্য কাজ করলে জীবনে সফলতা আসে। আল্লাহর কাছে কান্না-কাটি করে নিজের কৃতকর্মের অনুশোচনার মাধ্যমে তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। চোখের পানি ফেলে মোনাজাত করতে হবে। মোনাজাত কবুল হলেই আমরা পাপমুক্ত হব। দুনিয়া ও আখেরাতে ফিরে আসবে শান্তি।

মোনাজাতে যা বলা হয় ॥ ৩৫ মিনিটব্যাপী মোনাজাতের শুরুতে প্রায় ১০ মিনিট আরবিতে দোয়া-দরুদ পাঠ করা হয়। ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে সেসব দোয়া উল্লেখ করে আল্লাহতায়ালার দরবারে মানুষের হেদায়েত কামনা করা হয়। দুনিয়ার মানুষের সুখ, শান্তি, উন্নতি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ প্রার্থনা করা হয়। এরপর বাকি সময় মোনাজাত করা হয় উর্দু ভাষায়।
হে আল্লাহ! আমরা নিজেদের প্রতি অনেক অবিচার-অত্যাচার করেছি। হাজারো হুকুম অমান্য করেছি। তুমি আমাদের ক্ষমা করে দাও। তুমি মাফ না করলে আমাদের কোনো উপায় নেই, আমরা ধ্বংস হয়ে যাবো। তুমি আমাদের উপর রহমতের চাদর বিছিয়ে দাও। তুমি আমাদের প্রত্যেকের গোনাহ মাফ করো। ঈমানকে মজবুত করে দাও। তোমার প্রিয় বান্দা হিসেবে কবুল করে নাও। আমাদের হেদায়েত দাও। আমাদের পিতামাতাদের হেদায়েত করো। সমস্ত বিশ্ববাসীকে হেদায়েত করো। যারা জীবিত আছে তাদের ক্ষমা করো। যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদেরকেও ক্ষমা করো। ইসলামের জন্য আমাদের কবুল করে নাও। ইসলামের ওপর আমাদের অবস্থানকে দৃঢ় করো, আমাদের ঈমান মজবুত করে দাও। সব ধরনের আজাব-গজব ও শাস্তি থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমাদের সকল গোনাহ মাফ করে দাও।

ভিআইপিদের মোনাজাতে অংশ গ্রহণ ॥ বিশ্ব ইজতেমার মূল আকর্ষণ হচ্ছে আখেরি মোনাজাত। প্রতিবারের মতো এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান মন্ত্রীসহ মন্ত্রী পরিষদের বিভিন্ন সদস্যবর্গ, সাংসদসহ বিভিন্ন ব্যাক্তিবর্গ অংশ গ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বঙ্গভবনের দরবার হলে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারী বাসভবন গণভবনে পরিবারের সদস্য ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়ে টেলিভিশনের সামনে বসে সরাসরি সম্প্রচার দেখে মোনাজাতে অংশ নেন। অপরদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া গুলশানের বাসায় বসে একইভাবে আখেরী মোনাজাতে অংশ নেন। এদিকে বিশ্ব ইজতেমায় আগত লাখো লাখো মুসল্লির সঙ্গে ইজতেমা ময়দানের শহীদ আহসান উল্লাহ ষ্টেডিয়ামে জেলা পুলিশ প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমে বসে আখেরী মোনাজাতে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, ধর্ম মন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ। এছাড়াও আখেরী মোনাজাতে বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের কূটনীতিক বৃন্দ, বিভিন্ন রাজনেতিক দলের নেতৃবর্গ শরিক হন। এ ছাড়া পদস্থ সামরিক, বেসামরিক কর্মকর্তাসহ দল-মত, শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমান আখেরী মোনাজাতে অংশ নেন।

গাজীপুর ও টঙ্গীর সকল কারখানায় ছুটি ॥ বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরী মোনাজাত উপলক্ষে গাজীপুর ও টঙ্গীর সকল কারখানায় ছুটি ছিল। ফলে এবার এসব কারখানার শ্রমিকদের ইজতেমায় আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে সমস্যা হয়নি।

টেলিভিশন-মুঠোফোন ও ওয়্যারলেস সেটে মোনাজাত ॥ ইজতেমা মাঠে না এসেও মোনাজাতের সময় হাত তুলেছেন অসংখ্য মানুষ। টঙ্গীর ইজতেমাস্থল থেকে প্রায় ১৫ কিমি দূরে কনফারেন্সের মাধ্যমে গত কয়েকবারের মতো এবারও গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় মসজিদের মাইকে আখেরী মোনাজাত সম্প্রচার করা হয়। এখানে অর্ধ লক্ষাধিক নারী পুরুষ ঈদগাহ মাঠে এবং পার্শ্ববর্তী সড়কে ও ভবন গুলোতে জড়ো হয়ে মোনাজাতে অংশ নেন। এছাড়াও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় টেলিভিশন, ওয়্যালেস সেট ও মুঠোফোনের মাধ্যমে মোনাজাত প্রচার করা হয়। এসব স্থানেও পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। আবার টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সরাসরি সম্প্রচার করার কারনে অনেকে বাসায় বসে মোনাজাতে অংশ নিয়েছে। আবার দেশ বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেকে ইজতেমাস্থলে অবস্থানকারীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করেও মোনাজাতে শরীক হয়েছেন।

ইজতেমায় আরো এক মুসল্লির মৃত্যু ॥ বিশ^ ইজতেমায় আগত আরো এক মুসল্লি রবিবার ভোরে ইন্তেকাল করেছেন। তার নাম বেদন মিয়া (৬০)। তিনি ঢাকার সবুজবাগ কদমতলী এলাকার মৃত গফুর মিয়ার ছেলে। এনিয়ে ইজতেমার এপর্বে অংশ নিতে এসে এপর্যন্ত ৮ মুসল্লী মারা গেছেন। এদের অধিকাংশই বার্ধক্য ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

মোনাজাত শেষে যানজট ॥ মোনাজাত শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়া মানুষ একযোগে নিজ নিজ গন্তব্যে ফেরার চেষ্টা করেন। এতে টঙ্গীর আশে-পাশের সড়ক-মহাসড়ক গুলোতে সৃষ্টি হয় জনজট ও যানজট। ফলে যানজটের বিড়ম্বনা এড়াতে অনেক মুসল্লী পায়ে হেটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আর পাঁয়ে হাঁটা মুসুল্লীদের চাপে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মুসুল্লীদের যানবাহন রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থেমে থাকে ইজতেমা মাঠের আশে-পাশের এলাকায়।

মুসল্লিদের জন্য শাটল বাস ॥ আখেরী মোনাজাতে অংশ নিতে ইজতেমা ময়দানে যেতে ও মোনাজাত শেষে মুসল্লিদের নির্বিঘেœ বাড়ি ফিরতে পারেন সেজন্য গাজীপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন বুধবার মধ্যরাত হতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস মোড় থেকে আব্দুল্লাহপুর এবং কালীগঞ্জ সড়কের মীরের বাজার হতে কামারপাড়া সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। তবে ওই এলাকায় মুসল্লীদের সুবিধার্থে ময়দানমুখী শাটল বাস চলাচল করেছে। আখেরী মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা এ শাটল বাসে যাতায়ত করে।

ভ্রাম্যমান আদালত ॥ গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাহেনুল ইসলাম জানান, গত তিন দিনে জেলা প্রশাসন পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত ইজতেমাস্থলের আশপাশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ গাড়ি পার্কিং, বিশুদ্ধ খাদ্যদ্রব্য আইন, সিটি কর্পোরেশন আইন ও দন্ডবিধিতে কারণে ৩৬টি প্রতিষ্ঠাণ ও ব্যাক্তিকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা ও আদায় এবং ৩৬টি মামলা করেন। এছাড়াও বেশ কয়েকজন দোকান মালিককে সতর্ক ও অর্ধশতাধিক দোকানপাট উচ্ছেদ করেছেন।

প্রথম পর্বে প্রায় তিনহাজার জামাত তৈরী ॥ বিশ্বইজতেমার আয়োজক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, বিভিন্ন দেশে তাবলীগের কাজে বের হতে এবার ইজতেমা স্থলে প্রথম পর্বে প্রায় ৩ হাজার জামাত তৈরী হয়েছে। এরমধ্যে দেশীয় জামাত হয়েছে প্রায় দু’হাজার এবং প্রায় ৮শ’ বিদেশী জামাত হয়েছে। এসব জামাতে কেউ কেউ এক চিল্লা, দু’চিল্লা, তিন চিল্লা, ছয় চিল্লা ও একবছরের চিল্লা এমনকি আজীবন চিল্লার জন্য প্রস্তুত হয়েছেন। আগামি ১৫-২০ দিনে মধ্যে এসব জামাত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়বে।

মোনাজাতে মহিলাদের অংশগ্রহণ ॥ আখেরী মোনাজাতে অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মহিলা মুসল্ল¬ীও আগের দিন রাত থেকে ইজতেমা ময়দানের আশেপাশে, বিভিন্ন মিলকারখানা, বাসা-বাড়িতে ও বিভিন্ন দালানের ছাদে বসে আখেরী মোনাজাতে অংশ নেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ॥ টঙ্গী হাসপাতাল ও সিভিল সার্জনের তত্ত্ববধানে হাসপাতাল ও ৪টি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে গত তিন দিনে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় ৮ হাজার জন মুসুল্লী চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগ জনিত রোগে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। এছাড়া আশে-পাশের বিভিন্ন ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে আরো কয়েক হাজার মুসল্লিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় পর্বে যেসব খিত্তায় জেলার মুসল্লিরা অংশ নিবেন ॥ এবারের দুইপর্বের ইজতেমায় অংশ নেয়ার জন্য পুরো ইজতেমা ময়দানকে জেলাওয়ারি নির্দিষ্ট খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্বের পর আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় পর্বে ১৫ জেলার সঙ্গে ঢাকা জেলার বাকী অংশের মুসল্লিগণ ময়দানের বিশাল চটের প্যান্ডেলের অভ্যন্তরে তৈরী খিত্তায় অংশ নিবেন। এসব জেলার মুসল্লিগণ যেসব খিত্তায় অংশ নেবেন, সেগুলো হলো- ঢাকা জেলা ১ থেকে ৫ নং খিত্তায়, মেহেরপুর জেলা ৬ নং খিত্তায়, ঢাকা জেলা ৭ নং খিত্তায়, বাগেরহাট ৮ নং খিত্তায়, রাজবাড়ি ৯ নং খিত্তায়, দিনাজপুর ১০ নং খিত্তায়, হবিগঞ্জ ১১নং খিত্তায়, মুন্সীগঞ্জ ১২ ও ১৩ নং খিত্তায়, কিশোরগঞ্জ ১৪ ও ১৫ নং খিত্তায়, কক্সবাজার ১৬ নং খিত্তায়, নোয়াখালি ১৭ ও ১৮ নং খিত্তায়, বাগেরহাট ১৯ নং খিত্তায়, চাঁদপুর ২০ নং খিত্তায়, পাবনা ২১ ও ২২ নং খিত্তায়, নওগা ২৩ নং খিত্তায়, কুষ্টিয়া ২৪ নং খিত্তায়,বরগুনা জেলা ২৫নং খিত্তায় এবং বরিশাল জেলা ২৬ নং খিত্তায়।

ইজতেমার ইতিহাস:
ইজতেমার আয়োজকসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ১৯১০সালে ভারতের মাওলানা ইলিয়াস (রাঃ) তাবলীগ জামাতের প্রচলন শুরু করেন মাওয়াত এলাকা থেকে। একটানা ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত তিনি এই তাবলীগ জামাতের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তার ইন্তেকালের পর তার একমাত্র ছেলে মাওলানা মো. ইউসুফ তাবলীগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পর থেকে তাবলীগের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এ বছর টঙ্গীতে ৫২তম বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হলেও সর্ব প্রথম বাংলাদেশে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৬৬সালে তাবলীগের প্রধান কেন্দ্র কাকরাইল মসজিদে। এর পর ১৯৪৮সালে দ্বিতীয় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামের হাজী ক্যাম্পে। পরবর্তীতে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৮সালে নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্দিরগঞ্জে। এসব ইজতেমা তখন সীমিত আকারে অনুষ্ঠিত হতো বলে সেগুলো তখনো বিশ্ব ইজতেমার মর্যাদা লাভ করেনি।

১৯৬৬সালে টঙ্গীর রেল স্টেশনের পাশে পাগাড় নামক স্থানে অনুষ্ঠিত ইজতেমায় সর্বপ্রথম বাংলাদেশ ছাড়াও বিদেশী বেশ কয়েকটি দেশের মুসুল্লীগণ অংশ গ্রহণ করেন। ফলে এটি সে বছর থেকেই বিশ্ব ইজতেমার মর্যাদা লাভ করে। সে বছর টঙ্গীর পাগাড়ে ইজতেমা বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে সেখানে ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী মুসুল্লীদের স্থান সংকুলান অত্যান্ত দূরহ হয়ে পড়ে। ফলে পরের বছর অর্থাৎ ১৯৬৭সালে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় টঙ্গীর কহরদরিয়া বা তুরাগনদীর পূর্ব তীরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে। বিশাল পরিসরের এ খোলা ভূমি ছিল রাজউকের হুকুম দখলকৃত জমি। এর পর থেকে টঙ্গীর পাগারের এক বছর নিয়ে ও তুরাগের পাড়ে ১৬০ একর জায়গায় ১৯৬৭ সাল থেকে দীর্ঘ ৫২ বছর যাবৎ বিশ্ব ইজতেমা একই স্থানে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। একই স্থানে মুসুল্লীদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং দূর্ভোগ লাঘবের লক্ষে ২০১১ইং সাল থেকে দুই পর্বের ইজতেমা শুরু পর আবারও এ পরিবর্তন আনা হয়। মুসল্লীদের অংশ গ্রহন বেড়ে যাওয়ার কারনে ২০১৬ সালে থেকে চার ভাগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। দেশের মোট ৩২টি জেলা নিয়ে এবছর ইজতেমার দুই পর্ব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরবর্তী বছরে (২০১৮ সালে) বিশ্ব ইজতেমার দু’পর্বে বাকী ৩২ জেলার মুসল্লীরা অংশ নিবে। এবছরের প্রথম পর্বে অংশ নেয় ঢাকার একাংশসহ ১৭টি জেলার তাবলিগ অনুসারীরা। দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবে ১৫টি জেলাসহ ঢাকার বাকী অংশের তাবলিগ অনুসারীরা। তবে বিদেশী মুসল্লীরা প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে পারবে। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে একই বছর দুইবার বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

Read previous post:
ইসলামী ব্যাংকের কোম্পানি সচিব হলেন জে কিউ এম হাবিবুল্লাহ, এফসিএস

তৃতীয় মাত্রা: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও কোম্পানি সচিব নিযুক্ত হয়েছেন জে কিউ এম হাবিবুল্লাহ, এফসিএস। এর...

Close

উপরে