Logo
মঙ্গলবার, ১৯ জুন, ২০১৮ | ৫ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নতুন পেনশন ব্যবস্থা

প্রকাশের সময়: ১১:০০ অপরাহ্ণ - বুধবার | সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৬
pension 2_0বৃদ্ধ বয়সের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক

অর্থ মন্ত্রণালয় সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় পেনশনের অর্ধেক টাকা পরিবারের জন্য সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আর সম্পূর্ণ পেনশন বিক্রি করে দিতে পারবেন না। উল্লেখ্য, অনেকে অবসরে যাওয়ার সময় তাদের সম্পূর্ণ পেনশন সরকারের কাছে বিক্রি করে ওই টাকা বিভিন্ন খাতে খরচ করে শেষ করে ফেলেন। এতে পরবর্তী সময়ে তাদের পরিবার আর্থিক সমস্যায় নিপতিত হয়। পরিবারের সদস্যদের তখন মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। নতুন পেনশন ব্যবস্থা চালু হলে এ অবস্থার অবসান হবে। সেদিক থেকে বলা যায়, এ ব্যবস্থা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য শেষ বিচারে সুফলই বয়ে আনবে। এটি একটি ভালো উদ্যোগ সন্দেহ নেই।

জানা যায়, সরকার মূলত তিনটি বিষয় বিবেচনা করে পেনশন সংক্রান্ত বিধান সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এগুলো হল- পেনশনভোগীদের পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করা, সরকারের ওপর আর্থিক চাপ কমানো এবং পেনশনের অর্থ বিনিয়োগ করা। আমরা যদি পেনশনভোগীদের স্বার্থের দিক থেকে বিষয়টি বিবেচনা করি তাহলে বলতে হয়, শুধু তাদের স্ত্রী ও সন্তানরাই নন, তারা নিজেরাও এর সুফল ভোগ করবেন। কারণ পেনশনের অর্থ সংরক্ষিত থাকলে পরিবারের অন্য সদস্যদের দ্বারা তার অবহেলিত হওয়ার সুযোগ কমে যাবে। তার বৃদ্ধ বয়সের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা হবে সুরক্ষিত। যারা সরকারের পেনশন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের উদ্যোগ সমর্থন করছেন না তারা হয়তো যুক্তি দেখাবেন, ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বিক্রির সুযোগ থাকলে তারা অবসর গ্রহণের পর ওই অর্থ দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনে মাথাগোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতে পারতেন, কিন্তু নতুন পেনশন ব্যবস্থায় সেই সুযোগটি আর থাকবে না। আমরা বলব, এ ধরনের যুক্তিও পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ পেনশনের ৫০ শতাংশ বিক্রি করেও বাকি অর্থ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কেনা সম্ভব। পেনশনের অর্ধেক অর্থ সংরক্ষিত থাকায় বরং প্রতি মাসে ভালো অংকের টাকা তোলা যাবে, যা পরিবারে বেতনের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এসব দিক বিবেচনা করে আমরা পেনশনের অর্ধেক অর্থ পরিবারের জন্য সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

বর্তমানে দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মাত্র ৫ শতাংশ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত। পেনশন সুবিধা শুধু তারাই ভোগ করেন। প্রশ্ন হল, বাকি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর অবসর জীবনের নিশ্চয়তা কে দেবে? সেই দায়িত্বও কি রাষ্ট্রের নয়? বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে। মনে রাখতে হবে, কর্মজীবী মানুষের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা যাবে না। রাষ্ট্রে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত যেখানে সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে কর্মজীবী মানুষ অবসর জীবনে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার মাঝে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা পাবে। বৃদ্ধ আশ্রমে নয়, পরিবারের মাঝেই কাটিয়ে দিতে পারবে বাকি জীবন। মৃত্যুর পর তাদের স্ত্রী ও সন্তানরাও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভোগ করবে আর্থিক সুবিধা।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Read previous post:
সকালের নাস্তা খেতে ভুলবেন না, রাতে খাবেন সঠিক সময়ে

অনেকেই সকালের নাস্তা খান না। অনেকেই আবার ডায়েটিং করেন। যারা সকালের নাস্তা খান না এবং রাতে দেরিতে ডিনার করেন তাদের...

Close

উপরে