Logo
মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০২১ | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

​সার্বিক উন্নয়নে দক্ষিন বংশিকুন্ডা ইউনিয়নকে এগিয়ে রাখতে চাই : মো আজিম মাহমুদ

প্রকাশের সময়: ২:২৯ অপরাহ্ণ - সোমবার | অক্টোবর ১১, ২০২১

তৃতীয় মাত্রা

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার দক্ষিন বংশিকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদের সঙ্গে দৈনিক তৃতীয় মাত্রার প্রতিবেদকের একান্ত সাক্ষাৎকার-

মো.মিঠু মিয়া : আপনি এবং আপনার পরিবার রাজনৈতিক পরিচয় কী?

মো.আজিম মাহমুদ : জনগণই আমার মূল আস্থাস্থল। আমার পরিবার আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আমি বর্তমানে মধ্যনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করে আসছি।

দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর গোটা দক্ষিন বংশিকুন্ডা ইউনিয়নের মানুষ আমাদের পরিবার ও আমাকে ভালোবেসে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমাকে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেন।

মিঠু মিয়া : আপনার এলাকার সাধারণ মানুষের প্রধান পেশা কী ?

মো. আজিম মাহমুদ : কৃষিই এখানকার পেশা।

ইউনিয়নটি বেশিরভাগ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্ষার মৌসুমে এলাকায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত থাকে। বার বার বন্যা এবং বৃষ্টির পানিতে নিচু এলাকায় কোনো চাষাবাদ হয় না। এখানে নিম্ন আয়ের মানুষ খুবই অসহায় অবস্থায় থাকে। এরা ঢাকায় বা দেশের বিভিন্ন স্থানে জীবন ও জীবিকার টানে পোশাক কারখানা কিংবা দিন মজুরের কাজ করে থাকে।

মিঠু মিয়া : আপনি গত ৫ বছরে সরকারি সহায়তা, দান, অনুদান কী কী পেয়েছেন? তার বণ্টন ব্যবস্থা কী এবং কী কী দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছেন?

মো. আজিম মাহমুদ : এই ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ৩১ হাজার লোকের বসবাস। এর মধ্যে ২১ হাজারের বেশি ভোটার। দক্ষিন বংশিকুন্ডা ইউনিয়নে সরকারের সহায়তায় দান-অনুদান এবং এলাকার উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখযোগ্য । মরণঘাতী করোনাকালীন মহামারির সময় প্রতি ওয়ার্ডে সাধারণ গরিব অসহায় মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ‘১০ টাকা কেজি চাল’ এখনো চলমান।

এলাকায় বেশির ভাগ রাস্তাঘাট পাকা করা হয়েছে আর যেগুলো বাকি আছে, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে পাকা করার চেষ্টা করা হচ্ছে । পুল-কালভার্ট নির্মাণ, পুষ্টিভাতা, গর্ভবতী মায়েদের ভাতা , বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, পঙ্গুভাতার সঠিক এবং সুষম বণ্টনের চেষ্টা করা হয়েছে।

গত ১০ বছরে এলাকার উন্নয়নে দক্ষিন বংশিকুন্ডা ইউনিয়নটি একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে অর্জন করার চেষ্টা করেছি । উন্নয়নমূলক কাজের সঠিকভাবে বণ্টন এবং পরিচালনায় সকল দল এবং মতের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের চেষ্টা করা হয়েছে।

দাতিয়াপাড়া ও বংশিকুন্ডা এবং নতুন বাজারের বিভিন্ন গলিপথ নির্মাণ ও বিভিন্ন শেডঘর পুনর্নির্মান, বাজারের ও পরিষদের সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে সোলার লাইট ও ইউনিয়নের আনাচে-কানাচে রাস্তাঘাট নির্মাণ করা হয়েছে।, বিভিন্ন রাস্তার কালভার্ট স্থাপন, মসজিদে যাওয়ার রাস্তা উন্নয়ন, বিভিন্ন ধর্মীও প্রতিষ্ঠানে সোলার লাইট বিতরণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, হতদরিদ্রদের মাঝে সরকার দেওয়া আবাসনের ঘর সুষ্ঠু বণ্টন,বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য সরকারি মূল্য কয়েকশত সাবমার্সিবল পাম্প ও টিউবওয়েল স্থাপন উল্লেখযোগ্য।

যেটা সারাদেশে ব্যাপকভাবে আলোচিত যেমন হয়েছে, দক্ষিন বংশিকুন্ডার সুনাম দেশের আনাচে-কানাচে পৌঁছেছে।

মিঠু মিয়া : দক্ষিন বংশিকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজ কী ছিল এবং দায়িত্ব কতটুকু পালনে সক্ষম হয়েছেন?আজিম মাহমুদ : একজন চেয়ারম্যান হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের কাজ পরিচালনার জন্য সচিব, গ্রাম পুলিশ এবং অন্য কর্মচারীদের নিয়ে অফিস পরিচালনা করা, ছুটি ও বেতন দেওয়া এবং তারা যথাযথভাবে অর্পিত কাজ পালন করছেন কি না, সেটা মনিটরিংয়ে রাখা আমার দায়িত্বের মাঝে পড়ে।

বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সদস্যদের মতামত নেওয়ার পর চেয়ারম্যান হিসেবে সমাধানের চেষ্টা করেছি। গ্রাম পুলিশ নিয়োগের জন্য প্রার্থী তালিকা (সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিকদের মধ্য থেকে) তৈরি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর দায়িত্ব পালন করেছি ও বিভিন্ন সময়ে ঘোষিত সরকারি আইন ও সার্কুলার অনুযায়ী অর্পিত অন্যান্য প্রশাসনিক দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করেছি।

এলাকার অপরাধ দমন, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দাঙ্গাহাঙ্গামা প্রতিরোধ করার জন্য জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন থেকে সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছি। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি বা সংক্রামক রোগ এবং ফসলে পোকার আক্রমণ দেখা দিলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে উনারও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন।

মূলকথা, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও জনগণের টিমওয়ার্কের ফলাফলই হলো একটি ইউনিয়নের উন্নয়ন। এজন্য এই তিনটি উপাদানের মেলবন্ধনের জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি।

মিঠু মিয়া : আপনার পরিষদের আয়ের উৎস কী কী ছিল এবং কর/রাজস্ব আদায়ে কতটুকু সফলতা পেয়েছেন?

মো.আজিম মাহমুদ : ইউনিয়ন পরিষদের আয়ের নিজস্ব উৎসের মধ্যে আছে কর, রেট এবং ফি। এর বাইরে পরিষদ প্রতি বছর সরকার থেকে বিভিন্ন অনুদান পায়। এছাড়াও পরিষদের সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করে কর, রেট ও ফি ইত্যাদি ধার্য করা হয়েছিল। রাজস্ব আদায়ের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে আদায়কারী নিয়োগ ও তার কাজের দেখাশোনা করেছি। পরিষদের বিশেষ সভায় উন্মুক্ত বাজেট পেশ করা, সদস্যদের মতামত নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় সংশোধনী সাপেক্ষে বাজেট অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

জন্ম-মৃত্যু এবং মৃতব্যক্তির পোষ্য সংক্রান্ত উত্তরাধিকার, জাতীয়তা ও চারিত্রিক সনদপত্র প্রদান, ইউনিয়নে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার কাজ সম্পর্কে পরিষদে আলোচনা এবং প্রয়োজন বোধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে সুপারিশ/ প্রতিবেদন প্রেরণ করে উৎসাহ ও সহযোগিতা পেয়েছি। রিলিফ সামগ্রী বিতরণ, চিকিৎসার জন্য রোগীদের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান, বন্যা ও মহামারি নিয়ন্ত্রণ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণে রাজনৈতিক সংগঠন ও প্রশাসনের সহযোগিতা পেয়েছি।

রিলিফ সামগ্রী বিতরণ, চিকিৎসার জন্য রোগীদের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান, বন্যা ও মহামারি নিয়ন্ত্রণ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহনে রাজনৈতিক সংগঠন ও প্রশাসনের সহযোগিতা পেয়েছি।

মিঠু মিয়া : এই ইউনিয়ন নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

মো.আজিম মাহমুদ : আমার একটাই পরিকল্পনা, এই ইউনিয়নকে এমনভাবে সাজিয়ে তোলা, যাতে দেশের অন্যান্য গ্রামাঞ্চল এর চাইতে উন্নতির সকল সূচকেই এগিয়ে থাকে এবং উন্নয়নগুলো দৃশ্যমান হয়ে জনসাধারণ যাতে সর্বোচ্চ সুবিধা পায় । আমি সারাজীবন এই পদে থাকব না। অতএব আমি থাকাকালীন এমন প্রসেস নিশ্চিত করা, যাতে করে আমার অবর্তমানেও দক্ষিন বংশিকুন্ডা ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন পূর্ণগতিতে চলমান থাকে।

এই সাক্ষাৎকার নেওয়ার পরে সরেজমিন ঘুরে মতামত সংগ্রহের সময় দাতিয়াপাড়া বাজার এলাকার স্থানীয় উজ্জল মিয়া বলেন, ‘দক্ষিন বংশিকুন্ডা ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ একজন জনবান্ধব চেয়ারম্যান হিসেবে অতীতে বিভিন্ন সংগঠন থেকে পুরস্কার লাভ করেছেন। সমাজ এবং মানুষের সার্বিক উন্নয়নেও ভূমিকা রেখেছেন ।’ ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের বাসিন্দ চাঁন মিয়া বলেন, ‘আমাদের আজিম চেয়ারম্যান করোনার সময়ে ছুটে যান অসহায় মানুষের পাশে ত্রাণ সামগ্রী ও খাদ্য বিতরণে।

গ্রীস্মের গরমে কিংবা প্রচণ্ড কনকনে শীতের দিনে ও গভীর রাতে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার এবং কম্বল বিতরণের রেকর্ডও রয়েছে তার ।’

পরিশেষে মো. আজিম মাহমুদ বলেন, ‘এ সেবাই জনগণ আমাকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্ন জাগিয়ে তুলে আমাকে ভোট দিয়ে তাদের সেবক হিসেবে গড়ে তুলেছেন । এলাকার সাধারণ মানুষের ভোটে এবং ৫ টি বছরে এলাকার প্রতিটি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের সেবা করার চেষ্টা করেছি । তাদের দেয়া দায়িত্ব আমি সঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি ।’

তিনি আরও বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমানে দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। আমাদের হাওড়াঞ্চলও এই উন্নয়নের ধারায় যুক্ত হয়েছে। এই উন্নয়নযজ্ঞে আমি দক্ষিন বংশিকুন্ডা ইউনিয়নকে যুক্ত করতে করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি অংশীদার হয়েছি। আজিম মাহমুদ আরও বলেন, গত ইউপি নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকার মনোনয়ন দিয়ে ছিল তাই আমাকে জনগণ ভালোবেসে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেন। তাই এবারেও জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে মূলায়ন করবেন বলে আমি আশা করি। এবং সরকারের উন্নয়ন ধারা ত্বরান্বিত করতে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে, সরকারের উন্নয়নের চিত্র জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে, এটাই জনগণের পাশে দাঁড়ানোর উপযুক্ত সময়।’ মাদক, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আজিম মাহমুদ ।

Read previous post:
ডিমলায় গ্রাম্য ডাক্তার মুলকুত আলম পুলিশের হাতে স্ত্রী পুত্রসহ গ্রেফতার

তৃতীয় মাত্রা মোহাম্মদ আলী সানু, ডিমলা নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারী ডিমলা উপজেলা ৮ নং ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন চাপানীর হাট, গরু...

Close

উপরে