Logo
মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০২১ | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

‘শিশুকে সুস্থ রাখতে জন্মের পর প্রথম ৬ মাস অবশ্যই বুকের দুধের কোন বিকল্প নেই’

প্রকাশের সময়: ২:৫৪ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | অক্টোবর ১, ২০২১

তৃতীয় মাত্রা

রানা সাত্তার, আনোয়ারা থেকে : জন্ম গ্রহনের পরে পরিপূর্ণ সুস্থ সবল শিশুর জন্য মায়ের দুধের কোন বিকল্প নেই। জন্মের সাথে সাথে মায়ের এই শাল দুধই শিশুর প্রথম টিকা ও খাবার। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১( বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত মাতৃদৃগ্ধ বিকল্প, শিশু খাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য ও উহা ব্যবহারের সরঞ্জামাদি (বিপণন নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ ও বিধি ২০১৭ এবং পুষ্টিখাতের অর্জন বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা তুলে ধরেন। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়নে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর খুব দ্রত শাল দুধ খাওয়ালে মায়ের রক্তক্ষরণ কম হয় ও গর্ভফুল পড়তে সাহায্য করে। ফলে মা রক্তস্বল্পতা থেকে রক্ষা পায়। দেশী—বিদেশী কিছু অসাধু কোম্পানী হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে শিশুদের জন্য মায়ের দুধের পরির্বতে গুড়োঁ দুধের প্রচার প্রচারণা চালায়। তারা এক শ্রেণির ডাক্তারদের চুক্তিতে শিশুদের জন্য মায়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবস্থাপত্রে গুড়োঁ দুধ লেখানোর জন্য বাধ্য করে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। হাসপাতাল ও কিনিক্লগুলোতে গুড়োঁ দুধের প্রচারণা বন্ধে ডাক্তারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। মা ও শিশুকে সুস্থ রাখতে হলে গুড়োঁ দুধ বর্জন করতে হবে। তারা আরো বলেন, সন্তান প্রসবের পর কোন মা মারা গেলে শুধুমাত্র ঐ শিশুর জন্য বুকের দুধের পরিবর্তে রেজিষ্ট্রার্ড শিশু চিকিৎসকেরা তাদের ব্যবস্থাপত্রে কারণ উল্লেখ করে বিকল্প হিসেবে ভালোমানের গুড়ো দুধ দিতে পারবে। মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে কোন কোম্পানী তাদের উৎপাদিত গুড়ো দুধের প্রচার—প্রচারণা চালালে তাদেরকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হবে। মাতৃদুগ্ধের বিকল্প গুড়োঁ দুধের বিরুদ্ধে প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। তাদেরকে হাসপাতাল ও ডাক্তারের চেম্বার বা ক্লিনিক থেকে বয়কট করতে হবে। কর্মশালায় উপস্থিত বিশেষ অতিথিরাএই আইনটি বাস্তবায়নে সর্বত্র প্রচার—প্রচারনা ও সচেতনতামুলক অনুষ্টানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বির সভাপতিত্বে ও জেলা স্বাস্থ্য তত্তবধায়ক সুজন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহাখালীস্থ জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ। মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমের জাতীয় পুষ্টিখাতের অর্জন বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদের পরিচালক ডা. তাহেরুল ইসলাম ও মাতৃদুগ্ধ বিকল্প আইন ২০১৩ ও বিধি ২০১৭ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শোয়াইব। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আসিফ খান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল—মাসুম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারজান হোসেন প্রমূখ। কর্মশালায় বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক—নার্সগণ অংশ নেন।

Read previous post:
ভোলাহাটে ৫ বছর পর বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলাচল শুরু

তৃতীয় মাত্রা রবিউল ইসলাম, ভোলাহাট(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)প্রতিনিধি : ৫ বছর ধরে ভেঙ্গে থাকা জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রীজ নির্মাণ বাস্তবায়নে তেমন অগ্রগতি না থাকায় অবশেষে...

Close

উপরে