Logo
শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ | ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দুর্গাপুরে শীতকালীন সবজিতে হাসছে মাঠ

প্রকাশের সময়: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ - রবিবার | জানুয়ারি ১০, ২০২১

তৃতীয় মাত্রা

শাহীন আলম, দুর্গাপুর (রাজশাহী) : রাজশাহীর দুর্গাপুরে শাক-সবজির আলাদা খ্যাতি রয়েছে। এই উপজেলার সবজির গুণগত মান ভালো ও পুষ্টিকর হওয়ায় সারাদেশেই এখানকার সবজির চাহিদা রয়েছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষি জমি জুড়ে এখন নানা সবজির সমারহ। সিম, ফুলকপিসহ হরেক রকম শীতকালীন সবজিতে হেসে উঠেছে ফসলের মাঠ। তাই উপজেলার পাইকারি ও খুচরা সবজির বাজারগুলোতে বেড়েছে শীতকালীন শাকসবজির সরবরাহ। এতে কমতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজির দাম।
মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টি ও কুয়াশার কারণে শীতের আগাম শাকসবজির আশাব্যঞ্জক ফলন না পেলেও এখন সবধরনের সবজির উৎপাদন বাড়ছে বলে জানিয়েছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় শীতকালীন শাকসবজির আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমি। উপজেলায় সবজি চাষ বেশি হয় জয়নগর ইউনিয়েনে, মাড়িয়া ইউনিয়েনে, নওপাড়া ইউনিয়েনে, কিশমত গৈনকর ইউনিয়েনে ও দুর্গাপুর পৌর এলাকায়।
এবার উপজেলার কৃষকরা শীতকালীন আগাম শাকসবজির আবাদ করেও অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে সবজির বাজারগুলোতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে যায় শীতকালীন শাকসবজির। অতিবৃষ্টি কাটিয়ে দফায় দফায় চারা তৈরির পর এখন শাকসবজির উৎপাদন বাড়িয়েছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদন বেড়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লালশাক, লাউ, মুলা, সিম, ঢেড়শ, কুমড়া, বেগুনসহ অন্য শীতকালীন সবজির। শীতের শুরুতে পাইকারি বাজারগুলোতে তেমন সরবরাহ না থাকলেও এখন বাড়ছে সবধরনের শাকসবজির সরবরাহ।
উৎপাদিত সবজি দুর্গাপুর উপজেলার দুর্গাপুর বাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি সবজি বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে আসেন কৃষকরা। পাইকারি ক্রেতারা স্থানীয় বাজার থেকে প্রতিদিন প্রায়, ২-৩ ট্রাক শাক-সবজি কিনে রাজধানী ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, সিলেট ও নোয়াখালী জেলায় পাঠাছে। দুর্গাপুরে শাকসবজি এসব জেলার চাহিদার প্রায় ৪০ ভাগই পূরণ করে। চাঁন মিয়া সাংবাদিক শাহীন আলমকে বলেন, এ বছর ১ বিঘা জমিতে সিম চাষ করেছি। সিমের উৎপাদন ভালো হয়েছে। বাজারে সীমের দাম ও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে জমির অর্ধেক সিম বিক্রি করে জমির খরচ তুলে ফেলেছি। যার ফলে আমার লাভ ভালোই হবে।
উপজেলার জয়নগর ইউনিয়েনে কৃষক রুবেল বলেন, এবার মৌসুমের শুরুতে কুয়াশা ও অতিবৃষ্টির কারণে শীতকালীন সবজির ফলন বেশি হয়নি। তবে ধীরে ধীরে আবহাওয়া অনূকূলে আসায় শীতকালীন সবজিতে হেসে উঠেছে আমাদের ফসলের মাঠ। সব চাষির উৎপাদন ভালো হয়েছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় সবজির সমারোহ বেশি। যে কারণে সকল সবজির দাম কম। দাম কম হলেও এবার কৃষকরা লাভবানই হবে। ঢাকা থেকে সবজি কিনতে আসা পাইকারি ক্রেতা আব্দুল লতিফ বলেন, দুর্গাপুরে সবজির চাহিদা সারাদেশেই রয়েছে। এখানকার সবজির আলাদা খ্যাতি রয়েছে।
যে কারণে সহজেই আমরা ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারি। অন্য এলাকার সবজি থেকে এখানকার সবজির দামও কম। তাই আমরা দুর্গাপুরে বিভিন্ন সবজির হাট থেকে সবজি কিনে নিয়ে ঢাকায় বিক্রি করি। দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মশিউর রহমান বলেন, এবার মৌসুমের শুরুতে কুয়াশা ও অতিবৃষ্টি কাটিয়ে দফায় দফায় চারা তৈরির পর এখন শাক সবজির উৎপাদন বাড়িয়েছেন কৃষকরা। সবজির উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি সপ্তাহেই কমে আসছে সবধরনের সবজির দাম। সবজির পুরো উৎপাদন শুরু হলে দাম আরও সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে, তবে এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।

Read previous post:
সৈয়দপুরে আগুনে পুড়ে ৫টি ঘর ছাই

তৃতীয় মাত্রা আমিরুল হক, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : নীলফামারীর সৈয়দপুর মিস্ত্রীপাড়ায় আটকেপড়া উর্দুভাষীদের আমেরিকান ক্যাম্পে আগুন লেগে ৫টি বসত ঘর...

Close

উপরে