Logo
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ১লা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মাদ্রাজি ওল চাষে স্বপ্ন দেখছে বীরগঞ্জের কৃষক প্রেম হরি

প্রকাশের সময়: ২:৪২ অপরাহ্ণ - শনিবার | সেপ্টেম্বর ৪, ২০২১

তৃতীয় মাত্রা

দিনাজপুর থেকে : জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে ছিলেন, বাড়ীর আনাচে কানাচে যে টুকু ফাঁকা জমি আছে তাঁতে ফলজ বৃক্ষ লাগান। সবজি চাষ করুন দেশের সকল প্রকার ফল ও সবজির চাহিদা পুরন করুন এবং নিজে স্বাবলম্বী হোন। এই কথায় অনুপ্রানিত হয়ে স্বপ্ন বুনতে শুরু করে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া ৬নং ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের প্রেম হরি রায়। কিন্ত তার জমি আছে পুঁজি নেই। কুল কিনারা না পেয়ে দ্বারস্থ হোন উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ওল চাষের উপর প্রশিক্ষণ নেয় প্রেমহরি সহ ১২জন। প্রশিক্ষণ শেষে ৩৬ শত টাকা করে দেওয়া হয় প্রত্যেকে। কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ আর অর্থ দিয়ে শুরু হয় প্রেমহরি রায়ের নতুন করে স্বপ্ন দেখা। তার ২০শতক জমিতে স্বপ্ন বাস্তবায়নে ওল কচুর বীজ রোপণ করে। ওলকচু মাটি ফেঁটে মাথা বের হতেই স্বপ্ন বাস্তবে রুপ নিতে শুরু করে। ওলকচুর গাছ যত বড় হচ্ছে তার স্বপ্নগুলো ততই দাঁনা বাঁধতে শুরু করেছে। কৃষি অফিস স‚ত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের উৎপাদিত গুরুত্বপ‚র্ণ কন্দাল ফসল সম‚হের মধ্যে রয়েছে আলু, মিষ্টি আলু, পানিকচু, লতিকচু, মুখীকচু, গাছআলু, ওলকচু, কাসাভা ইত্যাদি। কন্দাল জাতের ফসল হিসেবে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে মাদ্রাজি ওলকচুর জাতটি উদ্যোক্তা ৫জন কৃষককে ২০শতক জমিতে প্রদর্শনী প্লট হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই অ লে উচু জমিতে চাষ করা সম্ভব এবং ফলন ৪০-৫০ মে, টন/হেঃ। ওল কচুর জাতের মধ্যে মাদ্রাজি ওলকচুর জাতটি সর্বোৎকৃষ্ট। কৃষক প্রেমহরি রায় জানান, গত ৩০শে মার্চ মাদ্রাজী জাতের ওল কচু রোপণ করি। রোপনের পর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আবু রেজা মোঃ আসাদুজ্জামান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমানের পরার্মশ ও নিয়মিত পরির্দশনে এবং আমার পরিশ্রমে ওলকচুর গাছ এখন আমার সমান লম্বা। মাটির নীচে ওলকচু বড় হতে শুরু করেছে। ফসল বাজারজাত করতে আরো ১০ থেকে ১৫ দিন লাগবে। কৃষি অফিসের তথ্য আর মাটির নিচে কচুর আকার দেখে মনে হচ্ছে একে কটি কচু আড়াই থেকে তিন কেজি ওজন হবে। জমিতে উৎপাদিত ওল কচু থেকে ৩৫ থেকে ৪০হাজার টাকা আয় হবে বলে আশা করছি। এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার আবু রেজা মো. আসাদুজ্জামান জানান, বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসর্ম্প‚ন হলেও পুষ্টিতে স্বয়ংসর্ম্প‚ন নয়। তাই সরকার কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি ভিটামিন ও খনিজসহ অধিক পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ কন্দাল ফসল হিসেবে ওলকচু বাংলাদেশের কৃষিতে গুরুত্বপ‚র্ণ ভ‚মিকা রাখবে। ওলকচু অত্যন্ত লাভজনক ফসল। রোগ বালাই আক্রমণ কম। ফলন ভাল, আর বেশি হওয়ার কারণে মাদ্রাজি ওলকচুর জাতটি এই অঞ্চলে স¤প্রসারিত হবে এবং পুষ্টির স্বয়ংসম্পুর্নতা অর্জনে অন্যতম ভূমিকা রাখবে।

 

Read previous post:
বীরগঞ্জে পুড়িয়ে ফেলা হল নিষিদ্ধ চায়না জাল

তৃতীয় মাত্রা সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর থেকে: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ঢেপা নদী মৎস্য অভয়াশ্রমে অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ১৪ হাজার টাকা ম‚ল্যের...

Close

উপরে