Logo
মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ | ১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

অসৎ উদ্দেশ্যে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা হচ্ছে : ড. হাছান মাহমুদ

প্রকাশের সময়: ৮:২২ অপরাহ্ণ - শনিবার | ডিসেম্বর ৫, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মুজিববর্ষ আমরা যেভাবে পালন করতে চেয়েছিলাম করোনার কারণে সেভাবে পালন করতে পারছি না। মুজিববর্ষের শেষের দিকে এসে আজকে নানাভাবে নানা প্রসঙ্গ টেনে এনে বিতর্ক তৈরি করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। একটি অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আজকে নানা প্রসঙ্গ টেনে সমাজে অস্থিরতা তৈরি করার অপচেষ্টা হচ্ছে। আমাদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কোনোভাবেই কোনো ইস্যুতে বঙ্গবন্ধুর অবমাননা সহ্য করা হবে না।

আজ শনিবার দুপুরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও সাংবাদিকতা বিষয়ক চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবকে বই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নানা ইস্যু তৈরি করে যারা বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা ও সমাজে হানাহানি তৈরি করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সোচ্চার হবার অনুরোধ জানিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সাংবাদিকরা দেশের মানুষকে পথ দেখায়, আমাদের স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনে যেমন সাংবাদিকদের অন্যান্য ভূমিকা ছিল, ঠিক একইসাথে স্বাধীনতা সংগ্রামেও সাংবাদিকদের অনবদ্য ভূমিকা ছিল। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতার জন্য সাংবাদিকদের লেখনি, পত্রিকার সংবাদ মানুষের মনন তৈরি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

যারা সমাজকে পিছিয়ে দিতে চায়, যারা মধ্যযুগের সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়, তাদেরকে যারা পৃষ্ঠপোষকতা করে, তাদের বিরুদ্ধেও আজ কলম নিয়ে সোচ্চার হবার সময় এসেছে, বলেন তথ্যমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত জাতিকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত করেছেন। হাজার হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালি জাতিসত্ত্বা সৃষ্টি হবার পর বাঙালি কখনো স্বাধীন ছিল না। বাঙালি সার্বিকভাবে কখনো নিজেদের শাসন করতে পারেনি। বাংলা ভাষাবাসী অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে কিছু স্বাধীন রাজা ছিলেন, কিন্তু পুরো বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চল নিয়ে পুরো স্বাধীন রাজ্য কখনো ছিল না।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাঙালিকে অতীতে বহুজন উদ্বীপ্ত করেছেন, স্বাধীনতার জন্য আহবান জানিয়েছেন, কিন্তু সফল হননি। বঙ্গবন্ধু এমন একজন নেতা ছিলেন, যেখানে মানুষ নিজের প্রাণটাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে, সেই প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এটি শুধু বাঙালির ক্ষেত্রে নয়, পুরো বিশ্বের প্রেক্ষাপটে এমন খুব কম নেতা আছে যারা মানুষকে এভাবে উদ্বীপ্ত করতে পেরেছেন নিজের প্রাণ উৎসর্গ করে দেওয়ার জন্য। এজন্য বঙ্গবন্ধু একদিকে যেমন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, ঠিক একইভাবে বঙ্গবন্ধু বিশ্ব ইতিহাসে সেরা নেতাদের মধ্যে একজন। তিনি শুধুমাত্র বাংলাদেশের বাঙালিদের নেতা নন, বঙ্গবন্ধু পুরো বিশ্বের সমস্ত বাঙালিদের নেতা। সমস্ত বাঙালিদের জন্য তিনি বাংলাদেশ নামের জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।

সংবাদ মাধ্যমের সাথে পাঠকের কোনো বিরোধ সৃষ্টি হয়, সেটি নিরসন করার লক্ষ্যেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেছেন উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এ ক্ষেত্রে বিচারিক পর্ষদ হিসেবে প্রেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু ’৭৪ সালের পর ৪৫ বছরের বেশি কেটে গেছে, আজকে প্রেস কাউন্সিলের যেইটুকু ক্ষমতা আছে সেইটুকু ক্ষমতা আজকের প্রেক্ষাপটে খুব বেশি কার্যকর নয়। সেজন্য আমরা প্রেস কাউন্সিলের ক্ষমতা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধনের পর্যায়ে রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি আগামী সংসদ অধিবেশনে সেটি উপস্থাপনের জন্য। এ আইন পাস হলে প্রেস কাউন্সিলের ক্ষমতা অনেক বাড়বে, এতে জনগণ এবং একই সাথে সাংবাদিকরাও প্রেস কাউন্সিলের দ্বারস্থ হলে প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে পারবেন। সুতরাং প্রেস কাউন্সিল জনগণ, সাংবাদিক এবং সার্বিকভাবে রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মানুষ আসলে ধীরে ধীরে বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। বই এখন খুব কম মানুষ পড়ে। আগে কিশোর, শিশু যুবক ও বৃদ্ধদের বই পড়ার অভ্যাস ছিল সেই অভ্যাস এখনকার তরুণদের মাঝে আগের মতো আর নেই। সবাই সোশ্যাল মিডিয়াতে বুঁদ হয়ে থাকে, স্মার্ট ফোন নিয়ে বসে থাকে। বই থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। বই পড়ার অভ্যাসটা আবারো ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন, কারণ নতুন প্রজন্মকে যদি তাদের জীবন সংগ্রামে জয়ী হবার জন্য আমাদের প্রস্তুত করতে হয় তাহলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার প্রবণতা ফিরিয়ে আনতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রেস কাউন্সিলের সদস্য ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক, প্রেস কাউন্সিলের সদস্য ও বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব এমএ মজিদ, বিএফইউজের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালাউদ্দিন মো. রেজা ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ।

Read previous post:
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে মাগুরা জেলা কৃষক লীগের আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিল

তৃতীয় মাত্রা মোঃ ইউনুস আলী, বিশেষ প্রতিনিধি মাগুরা : আজ শনিবার (৫ই ডিসেম্বর) স্থানীয় মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে...

Close

উপরে