Logo
মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০ | ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফের বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন নীতিশ কুমার

প্রকাশের সময়: ৮:৪৫ অপরাহ্ণ - রবিবার | নভেম্বর ১৫, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

সপ্তমবারের মতো বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সোমবার শপথ নিতে যাচ্ছেন নীতীশ কুমার। রোববার বিহারের রাজধানী পটনায় নীতীশ কুমারের বাড়িতে এনডিএ বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে পুনরায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত হয়। এর পরই রাজভবনে সরকার গঠনের দাবি জানাতে যান তিনি।

ভোটে জিতলে জনতা দল-ইউনাইটেডের (জেডি-ইউ) নীতীশ কুমারই যে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, এমনটা আগেই জানিয়ে রেখেছিল এনডিএ জোটের প্রধান শরিক ও কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফের বিহারের রাজ্যভার নীতিশকে দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করল দলটি।

পশ্চিমবঙ্গঘেঁষা জনবহুল রাজ্য বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে গত বুধবার। ২৪৩ আসনের মধ্যে এনডিএ জোট ১২৫টি আসনে জিতেছে। এর মধ্যে বিজেপি একাই জিতেছে ৭৪টি আসনে। এ ছাড়া নীতীশের দলের ঝুলিতে গেছে ৪৩টি। জোটের দুই শরিক দল জিতেছে দুটি করে আসনে।

সূত্রের বরাতে কলকাতার বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, আগামীকাল সোমবার হবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। মোট সাতবারের শেষ চারবার টানা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন নীতীশ কুমার।

এ বার বিহারে তিন দফায় নির্বাচন হয়েছে। ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে ১০ নভেম্বর। এনডিএ জোটের ১২৫ আসন ছাড়াও কংগ্রেস ও তাদের শরিক দলগুলো নিয়ে গঠিত জোট মহাগঠবন্ধন পেয়েছে ১১০টি আসন। বিহারের ২৪৩ আসনবিশিষ্ট বিধানসভায় সরকার গঠনে প্রয়োজন কমপক্ষে ১১২ আসন।

তবে পরিযায়ী শ্রমিক, করোনার সময়কার লকডাউন এবং স্থানীয় স্তরে ব্যাপক দুর্নীতিসহ বেশ কয়েকটি ইস্যুতে এ বার জোটের একক বৃহত্তম দলের তকমা হারিয়েছে নীতিশের জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ)। জোট শরিকদের মধ্যে এতদিন বেশি আসনে জয়ী থাকলেও এবার বিজেপির চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে দলটি।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক আসন হারানো এবং বিজেপির আসন সংখ্যা বাড়ায় নীতীশ কুমার যথেষ্ট চাপে ছিলেন। বিজেপির একাংশও নীতীশকে ফের মুখ্যমন্ত্রী করার পক্ষে রাজি ছিলেন না। জল্পনা তৈরি হয়েছিল আদৌ কি নীতীশের হাতে আবার শাসনভার তুলে দেয়া হবে। অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটল।

২০০০ সালের ৩ মার্চ প্রথমবারের মতো বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হন নীতীশ। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারায় এক সপ্তাহের মধ্যেই তার সরকারের পতন ঘটে। এর পর ২০০৫ সালের ২৪ নভেম্বর বিজেপির সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হন ২০১০ সালে।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তার দল জেডি-ইউ খুব খারাপ ফল করলে মুখ্যমন্ত্রিত্বের পদ থেকে ইস্তফা দেন নীতীশ। তার জায়গায় মুখ্যমন্ত্রী হন জিতন রাম মাঁঝি। ইস্তফা দেয়ার ঠিক ১৫ মাসের মাথায় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবার মুখ্যমন্ত্রী হন নীতীশ।

এর পর রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) সঙ্গে জোট বেঁধে বিপুল ভোটে জয়ী হয় নীতীশের দল। ওই বছরের ২০ নভেম্বর পঞ্চমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেন। ২০১৭ সালে জোট ভেঙে গেলে বিজেপির সমরর্থন নিয়ে ষষ্ঠবার মুখমন্ত্রী হন। এ বারও বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধে সপ্তমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন তিনি।

Read previous post:
অটোপাসের ঘোষণা প্রাথমিকেও আসতে পারে

তৃতীয় মাত্রা করোনাভাইরাসের কারণে এবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না। ফলে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেয়ার চিন্তাভাবনা...

Close

উপরে