Logo
মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০ | ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দেশের গ্রন্থাগারগুলোকে বাঁচানোর উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি

প্রকাশের সময়: ১২:২৫ অপরাহ্ণ - শনিবার | নভেম্বর ১৪, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

জ্ঞান আহরণ, চর্চা, বিস্তার ও জ্ঞানের উপকরণ (বই ও অন্যান্য সামগ্রী) সংরক্ষণের সূতিকাগার হচ্ছে গ্রন্থাগার। যে দেশে গ্রন্থ ও গ্রন্থাগারের কদর বেশি, সে দেশ শিক্ষাদীক্ষায় তত উন্নত। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশে উল্টো চিত্র। দেশে বেসরকারি গণগ্রন্থাগারের পরিসংখ্যান তা-ই বলে। আয়তন অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। প্রতি বর্গকিলোমিটারে একটি করে গণগ্রন্থাগার থাকার কথা। বাস্তবে এর ধারেকাছেও নেই। গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে সরকার পরিচালিত পাবলিক লাইব্রেরি বা গণগ্রন্থাগার ৭১টি। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের তথ্যমতে, নিবন্ধিত বেসরকারি গ্রন্থাগার ১ হাজার ৩৭৯টি। জেলা পর্যায়ে গণগ্রন্থাগার থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে শুধু জামালপুর জেলার দুটি উপজেলায় আছে। দেশের আর কোনো উপজেলায় নেই। ইউনিয়ন পর্যায়ে তো পরের কথা। গ্রন্থাগার যদি আলোকিত থাকে, তবে এর ইতিবাচক প্রভাব সমাজে পড়বেই। গ্রন্থাগারের আলোয় আলোকিত হবে সমাজ- এটিই স্বাভাবিক। এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতায় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র প্রতিবছর বেসরকারি গ্রন্থাগারকে অনুদান দিয়ে থাকে। আবেদনপ্রাপ্তির পর যাচাই-বাছাই শেষে এই অনুদান দেওয়া হয়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনেকে আবেদন করেন না। এই অনুদান কেউ পায়, কেউ পায় না। আবার অস্তিত্বহীন গ্রন্থাগার থেকে চেক ফিরে আসার নজিরও আছে। ‘টেকসই নীতিমালা’র অভাবে এই কর্মসূচি ফলপ্রসূ হচ্ছে না। অনুদানের অর্ধেক টাকার বই, বাকি অর্ধেকের চেক দেওয়া হয়। গ্রন্থাগার পরিচালনায় নিয়োজিত গ্রন্থাগারিকের জন্য সরকার থেকে ইনসেনটিভ (বেতন) নেই। ফলে অনেক গ্রন্থাগারেই কিছুকাল পর অনুদানের বই হাওয়া হয়ে যায় (সবার ক্ষেত্রে নয়)। তাই, গণগ্রন্থাগার মন্ত্রণালয় গঠন করে দেশের গ্রন্থাগারগুলোকে বাঁচানোর উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। দেশ-জাতির বৃহৎ স্বার্থে এর খুব প্রয়োজন। গ্রন্থাগারগুলোকে এমপিও দিয়ে প্রাণসঞ্চার করা অত্যন্ত জরুরি। নইলে আগামী ৫০ বছরেও গ্রন্থাগারগুলো দাঁড়াবে না।

গ্রন্থাগার টিকিয়ে রাখার জন্য ‘টেকসই গ্রন্থাগার নীতিমালা’ প্রয়োজন। গ্রন্থাগারগুলোকে এমপিওভুক্ত করা আবশ্যক। তাহলে গ্রন্থাগারের বিকাশ ঘটবে এবং ইতিবাচক ফল পাবে সমাজ। কেউ হয়তো জায়গা দিল, কেউ ঘর ভাড়া করে পাঠাগার চালু করে দিল। কিন্তু গ্রন্থাগারিকের বেতন চালানোর সামর্থ্য সবার নেই। অভিজ্ঞতায় দেখেছি, স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত হয় না, গ্রন্থাগারিকের কাজ চলে না। ইউনিয়ন/গ্রাম পর্যায়ে মানসম্মত একটি গ্রন্থাগার চালাতে অন্তত তিনজন স্টাফ দরকার। এক. গ্রন্থাগারিক, দুই. অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটর ও তিন. পিয়ন (এমএলএসএস)। যদি তা সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে অন্তত লাইব্রেরিয়ান হলেও নিয়োগ দেওয়া হোক। গ্রন্থাগারবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার মাধ্যমিক স্কুলে সহকারী গ্রন্থাগারিকের পদ সৃষ্টি করেছে। সহকারী গ্রন্থাগারিক-কাম-ক্যাটালগারের মাসিক বেতন বেসিক ১৬ হাজার ৮০০, ইনক্রিমেন্ট ৮৪০ (৫ শতাংশ), বাড়ি ভাড়া ১ হাজার ও চিকিৎসা ভাতা ৫০০, সর্বমোট ১৯ হাজার ১৪০ টাকা। অফিস সহায়ক-কাম-কম্পিউটার অপারেটরের বেসিক ১০ হাজার ১৯১, ইনক্রিমেন্ট ৫০৯, বাড়ি ভাড়া ১ হাজার ও চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা, সর্বমোট ১২ হাজার ২০০ টাকা। পিয়ন (এমএলএসএস) বেসিক ৮ হাজার ৬৭৭, ইনক্রিমেন্ট ৪৩৩, বাড়ি ভাড়া ১ হাজার ও চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা, সর্বমোট ১০ হাজার ৬১০ টাকা। বাংলাদেশে বেসরকারি গ্রন্থাগারের ইতিহাস বেশ পুরোনো। এখানে দেড় শতাধিক বছরের পুরোনো গ্রন্থাগারও আছে। আবার পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অনেক গ্রন্থাগার বন্ধ হয়ে গেছে। গণগ্রন্থাগারকে বলা হয় ‘পিপলস ইউনিভার্সিটি’ বা ‘গণবিশ্ববিদ্যালয়’। এগুলো টিকিয়ে রাখতে হলে ‘গণগ্রন্থাগার মন্ত্রণালয়’ গঠনের বিকল্প নেই। পুরোনো গণগ্রন্থাগারগুলোকে সংস্কারের পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে গণগ্রন্থাগার স্থাপন সময়ের দাবি। গ্রন্থাগারের বিকাশ ঘটলে কিশোর-যুবকদের বিপথগামী হওয়ার পথও অনেকটাই সংকুচিত হবে।

Read previous post:
বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ১৩ লাখ ছাড়াল

তৃতীয় মাত্রা বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ কোটি ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আর মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১৩ লাখ। জনস...

Close

উপরে