Logo
রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০ | ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশের সময়: ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ - শনিবার | অক্টোবর ১৭, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলসি গ্রামে বৃহস্পতিবার ভোরে এক পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। একইদিনে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি পুকুর থেকে মা ও দুই শিশুসন্তানের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বারপাড়া গ্রামের একটি ফাঁকা মাঠে দুই তরুণকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া সংঘবদ্ধ ডাকাত দল এক ব্যবসায়ীকে হত্যা করে সাভারের হেমায়েতপুরে তার লাশ ফেলে রেখে গেছে। এখানেই শেষ নয়, দেশজুড়ে এদিন আরও বেশকিছু নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের সংবাদও রয়েছে যথারীতি। এ থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার- অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নেই। সরকারের উচিত অবিলম্বে এদিকে দৃষ্টি দেয়া।

খুন বা হত্যা গুরুতর অপরাধ। দেশে এ ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে তা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া উচিত। তা না হলে অপরাধের ব্যাপকতা আরও বাড়বে, যা মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে। দুঃখজনক হল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্যই আজকাল নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা অপরাধীদের ভুল বার্তা দিচ্ছে।

এ অবস্থার অবসান হওয়া দরকার। হত্যা ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্তরা কোনোরকম অনুকম্পা পাওয়ার যোগ্য নয়- এ বার্তাটি সবার কাছে পৌঁছে দিতে হলে অপরাধীদের বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ার চারটি সুস্পষ্ট কারণ রয়েছে। এগুলো হল, ক্রাইম ম্যাপিংয়ে ‘হট স্পট’ চিহ্নিত না করা, খুনি বা অপরাধীকে ভয় দেখানোর ক্ষেত্রে ব্যর্থতা, দুর্বল মামলা ও তদন্ত রিপোর্ট এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব।

এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাবে শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ার সংস্কৃতিও অপরাধ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ বলে মনে করা হয়। হত্যাকাণ্ডসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে এসব বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে। তা না হলে সমাজে অপরাধের মাত্রা না কমে বরং তা উত্তরোত্তর বাড়বে।

আমরা মনে করি, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে দেশে অপরাধ কমে আসবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার অন্যতম শর্ত হল জবাবদিহিতা। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া।

দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে রাষ্ট্রে এ প্রক্রিয়ার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এর সুযোগ নিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠছে অপরাধীরা। জনগণের জীবনের নিরাপত্তা এবং সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এ সত্য উপলব্ধি করে সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হবে, এটাই প্রত্যাশা।

Read previous post:
যাত্রাশিল্পে সংকট নিরসনে করণীয়

তৃতীয় মাত্রা আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আমাদের যাত্রা। গুণগত মান সম্পর্কে আলোচনার অবকাশ থাকলেও এর আবেদন এখনও সর্বব্যাপী। ঔপনিবেশিককালে স্বাধীনতা...

Close

উপরে