Logo
বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২০ | ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আমলনামায় যে পাপ লেখা হয় না

প্রকাশের সময়: ৯:৩৯ অপরাহ্ণ - রবিবার | অক্টোবর ৪, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

তৃতীয় মাত্রা ধর্ম ডেস্ক : আল্লাহর কাছে ওই ব্যক্তি সবচেয়ে প্রিয়, যে গোনাহ করার পর দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চায়। মুসলিম বান্দার পাপ করার সঙ্গে সঙ্গে ফেরেশতারা তা আমলনামায় লেখেন না, বরং নির্ধারিত সময় অপেক্ষা করেন। কারণ যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাপকারী ব্যক্তি ক্ষমা চায় তবে তা মুছে দেয়া হয় মর্মে হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে। মুসলিম ব্যক্তির জন্য পাপ সংঘটিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসতেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। পাপ করার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাআলা ওই বান্দাকে ক্ষমা করে দেন মর্মে কুরআনে ঘোষণা দেন- ‘আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে কিংবা নিজের প্রতি জুলুম করবে তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, সে আল্লাহকে পাবে ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১১০) যারা অন্তর থেকে মহান আল্লাহকে ভয় করে, তারা যদি কোনো কারণে অন্যায় বা পাপের কাজ করে, তবে তারা সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চেয়ে নেয়। ক্ষমা প্রার্থনায় তারা দেরি করেন না। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা এ বিষয়টিও তুলে ধরেছেন- ‘আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে; অতপর তাদের গোনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ ছাড়া কে গোনাহ ক্ষমা করবে? আর তারা যে (অপরাধ) করেছে, জেনেশুনে তার ওপর অটল থাকে না।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৩৫) পাপ না লেখার কারণ- মুমিন ব্যক্তি পাপ করার পর অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে পারে। এ জন্য ফেরেশতারা পাপ কাজ সংঘটিত হওয়ার পর কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ যদি তার কৃত পাপের জন্য লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তবে ফেরেশতারা ওই পাপ তার আমলনামায় লেখেন না, বরং ছেড়ে দেন। হাদিসে এসেছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ‘কোনো মুসলিম বান্দা গোনাহ করর পর ডান কাঁধের ফেরেশতা ছয় ঘণ্টা গোনাহ লেখা থেকে কলম উঠিয়ে রাখেন (অর্থাৎ গোনাহ লেখেন না)। যদি সে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তাহলে ফেরেশতা গোনাহ না লিখে ছুড়ে ফেলে দেন, অন্যথায় একটি গোনাহ লেখা হয়।’ (সহিহ আল জামে) সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, পাপ করার সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে ক্ষমা প্রার্থনা করা। কেননা পাপ করার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চাওয়া মুমিন ব্যক্তির অন্যতম গুণ। আর পাপ করার পর নির্ধারিত সময়ে ক্ষমা প্রার্থনায় সে পাপ আমলনামায়ও লেখা হয় না বরং মুছে ফেলা হয়। গোনাহমুক্ত জীবন লাভে সব সময় ছোট ছোট বাক্যের এ ইসতেগফারের মাধ্যমে ক্ষমা চাওয়া যায়। বিশ্বনবি একই মজলিশে এটি ১০০ বার পড়তেন। তাহলো-উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফিরলি ওয়াতুব আলাইয়্যা ইন্নাকা আংতাত তাওয়্যাবুর রাহিম।’ অর্থ : ‘হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা কর। আমার তাওবা কবুল কর। নিশ্চয় তুমি অতিশয় তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি) আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব সময় ক্ষমা লাভের চেষ্টা করার তাওফিক দান করুন। গোনাহ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা প্রার্থনা করে হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Read previous post:
সকাল-বিকাল মাথাব্যথার অন্যতম ৫ কারণ

তৃতীয় মাত্রা তৃতীয় মাত্রা স্বাস্থ্য ডেস্ক : আবার মজা করে অনেকেই বলেন, মাথা আছে, সুতরাং মাথাব্যথা হবেই! কিন্তু এ ব্যথা...

Close

উপরে