Logo
শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

উন্নয়নে নবীন-প্রবীণের যোগসূত্র জরুরি

প্রকাশের সময়: ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ - শুক্রবার | অক্টোবর ২, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

‘তোমার হলো শুরু আমার হলো সারা তোমায় আমায় মিলে এমনি বহে ধারা’- প্রিয় গানের কলিটি প্রায়ই গুনগুনিয়ে গাইতে থাকেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক সালেহা বেগম। ছোট রোহান গানের মর্ম বোঝে না, শুধু নানির মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।

নাতি রোহানকে নিয়েই সালেহা বেগমের অখণ্ড অবসর সময় কাটে। দিনের শুরু নাতিকে নিয়ে, শেষও তেমনি। একজন মানুষের জীবনচক্র- নবজাতককাল, শৈশবকাল, কিশোরকাল, প্রাপ্তবয়স্ককাল ও বার্ধক্যকাল। এ পঞ্চম ধাপের শেষ ধাপ হল বার্ধক্যকাল।

এ কালে অবস্থানরত মানুষগুলোকে আমরা বলি প্রবীণ। সালেহা বেগম জীবনের পঞ্চম স্তর পার করছেন। ‘প্রবীণ’ যাত্রাপথ ষাট বছর থেকে শুরু করে জীবনের সমাপ্তি পর্যন্ত ধরা হয়। প্রবীণ আর বার্ধক্যকাল এক নয়। প্রবীণ ব্যক্তি বার্ধক্যে পতিত নাও হতে পারেন।

কিন্তু বাংলাদেশে একজন মানুষকে ষাট বছর পার হওয়ার আগেই বার্ধক্যে পতিত হতে দেখা যায়। এর পেছনের কারণগুলো হল- দারিদ্র্য, কঠোর পরিশ্রম, অপুষ্টি, অসুস্থতা এবং ভৌগোলিক অবস্থান।

সালেহা বেগমের মতো নাতি-নাতনি কিংবা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দদায়ক সময় কাটানোর সৌভাগ্য সব প্রবীণের হয় না। পরিবার-পরিজনবিহীন অনেকের ঠিকানা হয় প্রবীণ নিবাসে। কেউবা হন আশ্রয়-সম্বলহীন ভবঘুরে।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের হিসাবমতে, ২০২০ সালের মধ্যে ৬০ বছর বা এর চেয়ে বেশি বয়সী লোকের সংখ্যা পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশুদের তুলনায় বেশি হবে। পরবর্তী তিন দশকে বিশ্বব্যাপী প্রবীণদের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০৫০ সালের মধ্যে দেড়শ’ কোটিরও বেশি মানুষ প্রবীণ হবেন এবং তাদের ৮০ শতাংশ নিু-মধ্যম আয়ের দেশে বাস করবে।

করোনা মহামারী ও প্রবীণ জনগোষ্ঠী : ২০২০ সালটি জাতিসংঘের ৭৫তম বার্ষিকী এবং আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের ৩০তম বার্ষিকী। এ বছর করোনা মহামারীর প্রকোপ দেখা গেছে, যা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

করোনার মতো মহামারীর প্রাদুর্ভাবের সময় প্রবীণ ব্যক্তিরা যে উচ্চতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি হয়েছেন, তা বিবেচনা করে নীতি, কর্মসূচি ও বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। তাদের বিশেষ প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির দিকেও লক্ষ রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা সবার উপরে। করোনার কারণে অন্য জটিল রোগে আক্রান্ত প্রবীণদের স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবাও বিশ্বজুড়ে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, করোনা মহামারী বিশ্বজুড়ে প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য অবর্ণনীয় ভীতি ও যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনার কারণে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির প্রভাবের বাইরেও মহামারীটি প্রবীণ ব্যক্তিদের দারিদ্র্য, বৈষম্য ও বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকিতে ফেলেছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবীণ ব্যক্তিদের ওপর এটি সম্ভবত আরও বিধ্বংসী প্রভাব ফেলবে।

কেমন আছেন প্রবীণরা : গড় আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের নাগরিকদের গড় আয়ুও বেড়েছে। এ ধারাবাহিকতায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও বাড়ছে। প্রবীণরা স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের সঙ্গেই থাকতে চান এবং সামাজিকভাবেও এর প্রচলন আবহমানকাল ধরে।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক অবস্থা এবং পারিবারিক কাঠামোতে যে পরিবর্তন এসেছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রবীণদের জন্য যথেষ্ট সেবাব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। যৌথ পরিবারের সংখ্যা কমে একক পরিবার গঠিত হচ্ছে এবং মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে বা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন।

এ পরিস্থিতিতে অনেক পরিবারের প্রবীণ সদস্য অরক্ষিত হয়ে পড়ছেন। প্রবীণদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকলেও ভবিষ্যতে এ জনগোষ্ঠীর সেবা ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল এখনও অপ্রতুল।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরপরই অবহেলিত, পশ্চাৎপদ ও বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে সংবিধানে তাদের অধিকারের কথা সন্নিবেশিত করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রবীণ হিতৈষী সংঘকে সুসংগঠিত করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। প্রবীণদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী চিন্তার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট : জনসংখ্যার বিবেচনায় বাংলাদেশ এখন সোনালি সময় পার করছে। আমাদের নির্ভরশীল জনসংখ্যার চেয়ে কর্মক্ষম জনসংখ্যা বেশি। জনসংখ্যার ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এখন ৬৮ শতাংশ।

জনমিতির পরিভাষায় এটাই হল একটি দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশ। কোনো জাতির ভাগ্যে এ ধরনের জনমিতিক সুবর্ণকাল একবারই আসে, যা থাকে কম-বেশি ৩০-৩৫ বছর।

বাংলাদেশ এ সোনালি সময়ে পদার্পণ করেছে আরও আট বছর আগে (২০১২ সাল থেকে), যা শেষ হবে ২০৪০-এর দিকে। এরপর থেকে আবার কর্মক্ষম জনসংখ্যার চেয়ে নির্ভরশীল জনসংখ্যা বাড়তে থাকবে। জনমিতির হিসাবে ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল, কর্মমুখী ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য সক্রিয় বলে বিবেচনা করা হয়।

এজন্য একটি দেশের মানবগোষ্ঠীর এ পর্যায়কে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য মানবপুঁজি হিসেবে দেখা হয়। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড একটি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের প্রভাব ফেলে।

এজন্য অনেক চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করেই একটি দেশকে জনসংখ্যার এ সুযোগ নিতে হয়। চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় সফলতার ওপরই নির্ভর করে এ সুযোগ কতটা জাতির জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনবে।

দেশে বর্তমানে তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও আর মাত্র তিন দশকের মধ্যে প্রবীণদের মোট সংখ্যা অপ্রাপ্তবয়স্কদের ছাড়িয়ে যাবে। ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষকে দেশে প্রবীণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ হিসাবে বাংলাদেশে বতর্মানে মানুষের গড় আয়ু ৭১ বছরের বেশি। দেশে ২০৩০ সালের আগেই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দুই কোটি ছাড়িয়ে যাবে, যার একটি বিশাল প্রভাব পড়বে শ্রমবাজারের ওপর।

জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ২০৪৭ সাল নাগাদ বাংলাদেশে অপ্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় প্রবীণদের সংখ্যা বেশি থাকবে। দেশে এখন ৬৮ শতাংশের বেশি মানুষ কর্মক্ষম; কিন্তু তিন দশক পর প্রবীণদের সংখ্যা আরও বেড়ে গেলে দেশের সার্বিক উৎপাদনেও একটি বড় ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

প্রবীণদের যদি সমাজের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে সমন্বিত করা না হয় তাহলে প্রবীণ জনগোষ্ঠী একসময় সমাজের বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। বর্তমান হারে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে চার কোটি।

সরকারি উদ্যোগ : প্রবীণ জনগোষ্ঠী সমাজের সম্পদ। আর তাই তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অসহায় প্রবীণদের নিরাপদ জীবনের জন্য দেশের ৬৪ জেলায় সরকারি শিশু পরিবারে শান্তি নিবাস চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সেখানে বিনোদনসহ নিরাপদে বসবাসের সব সুবিধা রাখা হবে। পাশাপাশি যারা উৎপাদনশীল কাজে সম্পৃক্ত হতে চান, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হবে। উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের জন্য আউটলেটও রাখা হবে।

বাংলাদেশের সমাজনীতি ও সরকার মোটামুটি প্রবীণবান্ধব, বিশেষ করে দেশের বিরাট আকারের প্রবীণদের বাস্তব কল্যাণ বিধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ উদ্যোগ, সাফল্য ও সুনাম প্রশংসনীয়। এদেশে ১৯২৫ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রবর্তিত অবসরকালীন পেনশন ব্যবস্থার পর ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে যুগান্তকারী বয়স্কভাতা কর্মসূচি প্রচলন, জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা-২০১৩ এবং পিতামাতার ভরণপোষণ আইন-২০১৩ প্রণয়ন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরগ্রহণের বয়স ৫৯-৬০ করা, পেনশন সুবিধা সম্প্রসারণ, পিতামাতাকে অন্তর্ভুক্ত করে পরিবারের সদস্য ৪ থেকে ৬ জনে উন্নীতকরণ, বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের প্রবীণ স্বাস্থ্যসেবা খাতে অনুদান বৃদ্ধি করাসহ প্রবীণ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন গঠনের উদ্যোগ প্রবীণদের সুরক্ষায় সরকারের দায়বদ্ধতার প্রত্যক্ষ উদাহরণ।

দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ দুস্থ ও স্বল্প উপার্জনক্ষম অথবা উপার্জনে অক্ষম বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে পরিবার ও সমাজে মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে ‘বয়স্কভাতা’ কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়।

প্রাথমিকভাবে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে পাঁচজন পুরুষ ও পাঁচজন মহিলাসহ দশজন দরিদ্র বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে প্রতি মাসে ১০০ টাকা হারে ভাতা প্রদানের আওতায় আনা হয়। পরবর্তী সময়ে দেশের সব পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনকে এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত করা হয়।

২০০৯-১০ অর্থবছরে বয়স্কভাতাভোগীর সংখ্যা ২০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২২ লাখ ৫০ হাজার এবং জনপ্রতি মাসিক ভাতার হার ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকায় উন্নীত করা হয়। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪৯ লাখ বয়স্ক ব্যক্তিকে জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হবে।

এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ২৯৪০ কোটি টাকা। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিবিড় তদারকি এবং সমাজসেবা অধিদফতরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রমে বয়স্কভাতা বিতরণে প্রায় শতভাগ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

বর্তমানে বয়স্কভাতা কার্যক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা হল- ২০১৩ সালে প্রণীত বাস্তবায়ন নীতিমালা সংশোধন করে যুগোপযোগীকরণ, অধিকসংখ্যক মহিলাকে ভাতা কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে মহিলাদের বয়স ৬৫ বছর থেকে কমিয়ে ৬২ বছর নির্ধারণ, উপকারভোগী নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্তকরণ, ডাটাবেজ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ এবং ১০ টাকায় ভাতাভোগীর নিজ নামে ব্যাংক হিসাব খুলে ভাতার অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে।

বেসরকারি উদ্যোগ : ১৯৬০ সালে ডা. এ কে এম আবদুল ওয়াহেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ধানমণ্ডিতে তার বাড়িতে প্রবীণদের জন্য বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ নামে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। সে হিসেবে বার্ধক্যকবলিত অবলম্বনহীন মানুষের সেবায় এর স্থান পথিকৃতের।

সরকারের সহায়তায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী ভবন তৈরি হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানটির পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। এখানে প্রবীণদের জন্য চিকিৎসাসেবা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে।

জীবন-সংগ্রামের পেছনে ছুটতে ছুটতে এখন সময়ের বড় অভাব পরিলক্ষিত হয়। প্রবীণদের দেখভাল করার সুযোগও সীমিত হয়ে আসছে। তারা যাতে শেষ বয়সে আনন্দের সঙ্গে ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন সেজন্য বেসরকারি খাতে এবং ব্যক্তি পর্যায়ে প্রবীণ নিবাস তৈরি হয়েছে। এর কোনোটি বিনামূল্যে আবার কোনোটি বিনিময় মূল্যে।

এছাড়াও প্রবীণদের সাহায্য-সহযোগিতা, বিশেষ করে ওষুধ খেতে সহায়তা করা, পত্রিকা পড়ে শোনানো, বেড়াতে যেতে সহায়তা করা কিংবা গল্প বলে তাদের সময়কে আনন্দময় করে তুলতে ইতোমধ্যে কিছু উদ্যোগ স্বল্প পরিসরে শুরু হয়েছে। দেশে বৃদ্ধ বয়সে সেবা দেয়ার জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবাদানকারী নেই, যেটি ভবিষ্যতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে।

এখনই সময় দেশে প্রবীণদের সেবা প্রদানের জন্য জনশক্তি প্রস্তুত করার। যদি সেটি করা সম্ভব হয় সেক্ষেত্রে দুই দিকে লাভ হবে। প্রথমত, তরুণদের জন্য কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে, যা বেকারত্ব কমাতে সাহায্য করবে। দ্বিতীয়ত, প্রবীণদের মানসম্মত সেবাদান সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে এ সেবাদান লাভজনক ব্যবসা হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।

প্রবীণদের জন্য সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির আন্দোলনে তরুণদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন, কারণ প্রবীণদের জন্য যখন সমস্যা প্রকট হবে, তার ভুক্তভোগী থাকবে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম।

শেষ কথা : কাউকে ফেলে রেখে নয়, বরঞ্চ সবাইকে নিয়ে বিশ্ব সমাজের প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অভিযাত্রা চলমান রাখতে হবে। জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য দলিলের মাহাত্ম্য এখানেই। প্রবীণরা সমাজে বটবৃক্ষের মতো। তাদের সারা জীবনের অভিজ্ঞতা তরুণদের চলার পথের পাথেয়। প্রবীণ ব্যক্তি পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে জীবনব্যাপী অবদান রেখেছেন।

কিন্তু প্রবীণদের অনেকেই নিজের সন্তানদের কাছেও মর্যাদা পাচ্ছেন না। বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। যদিও এ দৃশ্য সার্বজনীন নয়। এ অবস্থা মোকাবেলা করাও সম্ভব। আর এজন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, বিনিয়োগ ও পেশাদারিত্বকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সমন্বিত উদ্যোগ প্রবীণদের আরও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে পারে। নবীন-প্রবীণের সেতুবন্ধ উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করবে। সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় নবীন-প্রবীণের এ যোগসূত্র খুবই জরুরি।

মো. কামাল হোসেন : তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদফতর

Read previous post:
‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে’

তৃতীয় মাত্রা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ...

Close

উপরে