Logo
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০ | ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জে কালের সাক্ষী গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি, এখনো ধরে রেখেছে প্রাচীনতম ঐতিহ্য

প্রকাশের সময়: ৫:৫১ অপরাহ্ণ - রবিবার | সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০
তৃতীয় মাত্রা
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি প্রাচীনতম ঐতিহ্যের ধারক বাহক হিসাবে আজও বহমান বাংলার আনাচে কানাচে অসংখ্য জমিদারবাড়ি আছে। কোথাও খুবই বেহাল দশা, জমিদার বাড়ির ভবন গুলিতে বটবৃক্ষদের দৌরাত্ম্যে। এই পড়ে তো সেই পড়ে; কোথাও খানিকটা চলনসই; কোথাও খুব ফিটপাট।কিছু জমিদার বাড়ির অবস্থা একদমই রঙ্গিন। কয়েকটি সরকার মেরামত করে সরকারী কাজে ব্যবহার করছে। আর খুব অল্প কিছু বাড়িতে জমিদারদের উত্তরাধিকাররা বসবাস করছে। বেশিরভাগ জমিদার বাড়িই এখন আর আসল মালিকের ছোঁয়া নাই বললেই চলে। সেসব জমিদাররা বিভিন্ন কারণে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, কিংবা যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু এখনো যে জমিদার বাড়িগুলোতে তাদের জমিদাররা সদর্পে হেঁটে বেড়ায় তার মধ্যে অন্যতম হলো গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি।কালের সাক্ষী হয়ে জমিদারদের এখনো বুকে ধারণ করে সদর্পে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলায় গোবিন্দপুর ইউনিয়নে অবস্থিত গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি। এই বাড়িটির জমিদার বংশের বর্তমান উত্তরাধিকারী শ্রীযুক্ত বাবু মানবেন্দ্র চক্রবর্তী চৌধুরী। তারই নামানুসারে এই জমিদার বাড়িটি স্থানীয়দের কাছে ‘মানব বাবুর বাড়ি’ হিসাবে অধিক পরিচিত। আরও সংক্ষেপে বাবুর বাড়ি।কিশোরগঞ্জ শহর থেকে বা হোসেনপুর উপজেলা সদর থেকে গাংগাটিয়া জমিদার বাড়ি যাবো শুনেই অটোচালক বলবে বাবুর বাড়ি যাইবেন, বলেই আপনাকে নিয়ে আসবে গাংগাটিয়া জমিদার বাড়িতে। এই জমিদারদের জায়গা জমি এতই বেশি ছিল যে এলাকার নামই গাংগাটিয়া। কিশোরগঞ্জ শহর থেকে এগারো কিলোমিটার দূরের এই গাংগাটিয়া যাওয়ার একমাত্র গণপরিবহন হলো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। সময়টাও নেহায়েত কম লাগে না৷ ৩৫-৪০ মিনিট তো লাগেই। কারণ রাস্তা খুব একটা ভালো নয়। তবে সংস্কারের কাজ চলছে।অটোতে করে আপনাকে গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ির প্রবেশদ্বারে নিয়ে যাবে। প্রবেশদ্বারের সম্মুখে সাগরদিঘির তীরেই পুকুরের পাড় ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে এর সীমানা প্রাচীর আর প্রবেশদ্বার। বাড়ির সীমানার ঠিক বাইরেই একটা প্রার্থনালয় দেখতে পাবেন প্রাচীন ঐতিহ্যের সাক্ষী। সেকালের মোজাইক আর শিল্পীদের আলপনার গুনে প্রবেশদ্বারটির চমৎকার রূপ ফুটে উঠেছে। একদম উপরে লেখা “শ্রীধর ভবন”। এই জমিদার বাড়িটি গ্রীক স্থাপত্যকলা অনুসরণ করে নির্মাণ করা হয়েছে। অপূর্ব কারুকার্যময় বাড়িটিতে রয়েছে কাচারিঘর, নহবতখানা, দরবারগৃহ ও মন্দির। মন্দিরটি আলাদা করতে পারলেও বাকি ঘরগুলোর কোনটা কী তা বুঝার উপায় নেই। বাড়ির করিডোরে দুজন নারীকে বড় হাম্বল দিস্তায় প্রাচীন পদ্ধতিতে ডাল গুঁড়ো করতে দেখা গেছে। করিডোর ধরে হেঁটে যাওয়ার সময় ঘরের দরজা খোলা থাকায় ভিতরটাও একপলক দেখে অবাক হয়ে যাওয়ার মতো। এখনো সেখানে প্রাচীন আমলের খাট, সোফা রাখা আছে। ঘরের ভিতরের দেয়ালে মোজাইকের টাইলস দেওয়া। আর মন্দিরের সামনে আছে দুষ্প্রাপ্য গোলাপি রঙা অলকানন্দা। চারদিকে সুউচ্চ প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি (মানব বাবুর বাড়ি)। বাড়ির সামনে সবুজে ঢাকা সুবিশাল আঙ্গিনা।গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ির ইতিহাস যেমন আনন্দের তেমনি বেদনার মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাড়ির বর্তমান মালিক মানব বাবুর বাবা ভূপতি নাথ চক্রবর্তী চৌধুরীকে পাকিস্তানি হায়নার বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করেছিল এই বাড়িতেই।। দীননাথ চক্রবর্তীর পূর্ব পুরুষগণ ছিলেন ব্রাহ্মন গোত্রের জনৈক শাস্ত্রীয় পন্ডিত। তারা ষোড়শ শতকের দিক থেকে বর্তমান জমিদার বাড়ি থেকে দক্ষিণে শিব মন্দিরের কাছে বসতি শুরু করেন। অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকে দীননাথ চক্রবর্তীর হাত ধরে বর্তমান এই জমিদার বাড়িটির যাত্রা শুরু হয়। তিনিই ইংরেজদের কাছ থেকে হোসেনশাহী পরগনার কিছু অংশ কিনে প্রথম জমিদারি শুরু করেন। পরবর্তীতে বাবু অতুলচন্দ্র চক্রবর্তী ‘পত্তনি’ সূত্রে আঠার বাড়ির জমিদার জ্ঞানদা সুন্দরী চৌধুরাণীর কাছ থেকে গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ির অন্তর্ভূক্ত করেন। ইংরেজ শাসনামলে এই এলাকার মানুষ শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্য সাধনায় বিশেষ উন্নতি লাভ করেছিল।বাড়িটির অবস্থান কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের গাংগাটিয়ায়।চাইলে আপনিও একবার কালের সাক্ষী প্রাচীনতম এই জমিদার বাড়িটি ঘুরে দেখে যেতে পারেন ও কথা বলতে পারেন এই জমিদার বংশের একমাত্র জীবিত  উত্তরাধিকারী শ্রীযুক্ত বাবু মানবেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী চৌধুরীর (মানব বাবুর) সাথে।
Read previous post:
সোহেল হাজারী এমপিকে জজ আদালতে হাজির হওয়ার নোটিশ

তৃতীয় মাত্রা টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের কালিহাতী আসনের এমপি হাছান ইমাম খান (সোহেল হাজারী) কে ২৮ সেপ্টেম্বর জেলা ও...

Close

উপরে