Logo
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০ | ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়াতে জেলা কৃষি বিভাগের উদ্যোগ

প্রকাশের সময়: ১২:৫০ অপরাহ্ণ - রবিবার | সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

বিগত কয়েক বছর ধরে সেপ্টেম্বর মাসে পেঁয়াজ আমদানী সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে দেশের হাট-বাজারে পেঁয়াজের দাম লাগামহীন বাড়তে থাকে। দাম বাড়লেও সারাদেশের মতো উপকূলীয় জেলা পটুুয়াখালীতে পেঁয়াজ চাষে গুরুত্ব বাড়ছে না। কারণ পেঁয়াজ উঠলে ন্যায্য দাম না পাওয়া কৃষকরা চাষে আগ্রহ পাচ্ছেনা। তবে এবছর প্রথমবারের মতো পেঁয়াজ উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

বাউফলের চন্দ্রদীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা রফিক মিয়া জানান, ‘গত বছরে পেঁয়াজ প্রথমবার চাষ করেছিলাম। লক্ষ্যমাত্রারর চেয়ে বেশি পরিমাণ পেঁয়াজ পেয়েছিলাম। প্রথমবার হওয়ায় চাষ কিছু অসুবিধা হয়েছিলো, বিশেষ করে সময় নির্বাচন। সারাবছর এর জন্য রেখে দিয়েছিলাম। সে ক্ষেত্রে অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। বাজারে পেঁয়াজের দাম অনেক। এবার ও চাষ করবো। বিক্রি করি আর না করি সারাবছর এর জন্য চিন্তামুক্ত থাকা যাবে।’

সদর উপজেলার লাউকাঠি গ্রাম এলাকার বাসিন্দা ননী গোপাল বলেন, গত শীত মৌসুমে ২ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলাম। ঔষধ ছিটানোর মেশিনে আগাছানাশক ব্যবহার করে মেশিন না ধুয়ে কীটনাশক ভর্তি করে খেতে প্রয়োগ করায় তিন ভাগের দুই ভাগ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পদ্ধতি না জানায় অল্প পেঁয়াজ পাই। তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে চাষ করা যায়।

এছাড়া সরকার আমাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ ক্রয় করে তবে পেঁয়াজ চাষ বৃদ্ধি পাবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, রবি ২০১৯-২০ মৌসুমে পটুয়াখালী জেলায় তিন জাতের পেঁয়াজ আবাদ করা হয়েছে। যার মধ্যে তাহিরপুরি জাতের পেঁয়াজ ৪৩ হেক্টর আবাদ হয়, হেক্টর প্রতিগড় ৮.৩৭২১। ফরিদপুরি জাতের পেঁয়াজ ২৩ হেক্টর আবাদ হয়, হেক্টর প্রতিগড় ৭.৯৫৬৫। স্থানীয় জাতের পিয়াজ ৬ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে যা ৭.৯৫৬৫ হেক্টর প্রতিগড়। জেলায় প্রতিবছর রবি মৌসুমে ৭২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়।

সদর উপজেলার বল্লভপুর গ্রামের আকলিমা বেগম বলেন, গত বছর রবি মৌসুমে নিজেদের খাবার জন্য এক শতাংশ জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছিলাম। কৃষি বিভাগ থেকে আমাদের পরামর্শ দিয়েছিলো তাই চাষ করেছিলাম। ফলন ভালো হয়েছিলো। আমার গ্রামে কেউ আধা শতাংশ, কেউ এক শতাংশ আবার কেউ দুই শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলো। নিজেদের খাওয়ারও জন্য। তিনি আরও বলেন, যাদের উঁচু স্থানে বেশি জমি আছে তারা বাণিজ্যিকভাবে পেঁয়াজ চাষ করতে পারে। তাতে তারা লাভবান হবে।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত বলেন, এবছর জেলায় পেঁয়াজ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে । গত বছরও জেলায় ৭২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। সেখানে আগামী মৌসুমে ৬০০ হেক্টরে পেঁয়াজ চাষ লক্ষ্যমাত্রা নিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ৬০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করা হলে সেখান থেকে উৎপাদিত পেঁয়াজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায় বিক্রি করতে পারবে।

সরকার ও কৃষি মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী পেঁয়াজ উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। যা বাস্তবায়ন হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে পেঁয়াজে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।

Read previous post:
মেসির জন্য সুয়ারেজের আবেগী বার্তা

তৃতীয় মাত্রা স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় পরিবারের মতোই হয়ে গেছিলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি ও উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ। মাঠের বন্ধুত্ব...

Close

উপরে