Logo
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০ | ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সরব হচ্ছে ডাক্তারপাড়া

প্রকাশের সময়: ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ - রবিবার | সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

চট্টগ্রামে রোগীদের কাছে খুবই আস্থাভাজন চিকিৎসক নিউরোলজিস্ট ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুজ্জামান; যার সিরিয়াল নিতে রোগীদের অনেক কাটখড় পোড়াতে হয়। তিনি করোনাকালে রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হন। সুস্থ হয়ে আবার রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে সতর্কতা হিসেবে তিনি এখন সরাসরি নয়, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রোগী দেখছেন। নগরের সিএসসিআর হাসপাতালে চেম্বার করেন তিনি।

রোগীদের অতি আস্থাভাজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ শামীম বকস, হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহীম চৌধুরীও সিএসসিআরে চেম্বারে নিয়মিত সরাসরি রোগী দেখছেন এখন। রোগী দেখতে গিয়ে মোহাম্মদ ইব্রাহীমও করোনায় আক্রান্ত হন। তাদের মতো প্রতিদিন সরাসরি রোগী দেখেন নেফ্রোলজি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস, নাক কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. এসএম তারেক উদ্দিন আহমেদ, অর্থোপেডিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ সাইফুদ্দিন রোকন, চর্মরোগ ও লেজার থেরাপি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জিনাত মেরাজ স্বপ্নাসহ সিএসসিআর হাসপাতালে চেম্বার করা ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তবে অনেকে সরাসরি না দেখে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। অন্য যেসব ডাক্তার এতদিন চেম্বারমুখী হননি, তারাও ধীরে ধীরে চেম্বার শুরু করছেন।

অন্যদিকে করোনাকালে আলোচিত-সমালোচিত পার্কভিউ হসপিটালে তুলনামূলকভাবে নগরীর অন্য হাসপাতাল থেকে বেশিসংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চেম্বারে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালে মেডিসিন ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এএসএম জাহেদ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ইসতিয়াক আহমেদ, নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুসলিম উদ্দীন সবুজ, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ কে এম রেজাউল করিম, অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. এটিএম রেজাউল করিম, ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুস সালাম, গাইনি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তফিকুর নানার মোনাসহ হাসপাতালটির ৮০ থেকে ৯০ ভাগ চিকিৎসক চেম্বারে সরাসরি রোগী দেখছেন।

ন্যাশনাল হাসপাতালের চেম্বারে নিয়মিত রোগী দেখছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. শামীম বকস, সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মাহজহারুল হক নাসিম, গ্যাস্ট্রোএন্টোরোলজি বিশেষজ্ঞ জসিম উদ্দিন, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এসএম জাহিদ, গাইনি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ কামরুন নেচ্ছা রুনা, কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. এহেতাশামুল হক, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ ফেরদৌস, নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ জামাল হোসেন, ডা. তৌহিদুর রহমান, নিউরোলজিস্ট ডা. আবু তৈয়ব, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নজরুল হক সিকদারসহ হাসপাতালটির ৯০ ভাগ চিকিৎসক।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নাক কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. মো. কামাল উদ্দিন, ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মঈন উদ্দীন মনজুসহ প্রায় অর্ধেকের বেশি চিকিৎসক সরাসরি চেম্বারে রোগী দেখলেও এখনও বেশকিছু চিকিৎসক চেম্বারমুখী হননি। এখানে লিভার ও পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. একিউএম মোহসেনসহ অনেকে টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ম্যাক্স হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মঈনউদ্দিন এম ইলিয়াছসহ অর্ধেকের বেশি চিকিৎসক রোগী দেখছেন। কাতালগঞ্জে অবস্থিত ডেলটা হেলথ কেয়ারের নিয়মিত রোগী দেখছেন হৃদরোগ, বাত ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এসএম ইফতেখারুল ইসলাম। ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখছেন মেডিসিন ও ডায়াবেটিক বিশেষজ্ঞ ডা. সুকান্ত ধর রাজিব, ডা. উম্মে ফাতেমা খাতুন, সহযোগী অধ্যাপক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. ফজলুল ওয়াব চৌধুরী, প্রসূতি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রেশমা ফিরোজ, ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. রেজাউল হায়দার চৌধুরী।

পার্কভিউ হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এটিএম রেজাউল করিম বলেন, ‘পার্কভিট হাসপতালে ৪০ থেকে ৪৫ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার চেম্বারে রোগী দেখেন এখন। করোনাকালে একদিনের জন্যও চেম্বার ছাড়েননি কয়েকজন চিকিৎসক। তারা সবসময়ই রোগী দেখে গেছেন। এখন প্রতিদিনই ৩০ থেকে ৩৫ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার চেম্বারে রোগী দেখছেন। কভিড, নন-কভিড সব রোগীদের সাধারণ সময়ের মতো অপারেশন ও ডায়ালাইসিস চলছে।’

ন্যাশনাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘ন্যাশনালে ৫০ থেকে ৬০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শিফটের মাধ্যমে চেম্বারে সরাসরি রোগী দেখছেন। রোগীদের ভিড় এড়ানোর জন্যই শিফট করে চেম্বারে বসছেন শামীম বকসসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। এখন পুরোদমে অপারেশনসহ সার্বিক চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। করোনাকালে দু’একটি সমস্যা হলেও সেটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে থাকা এপিক হেলথকেয়ার সেন্টারে শতাধিক চিকিৎসকের চেম্বার থাকলেও এদের বেশিরভাগই করছেন না চেম্ব্বার। অনেকে হোয়াটসঅ্যাপে দেখছেন রোগী। এতে মানুষের ভোগান্তি কমছে না। একইভাবে নগরের শেভরন, মেডিকেল সেন্টার, সার্জিস্কোপ, রয়েল, মেট্রো, উডল্যান্ড, পপুলার, লাইফ কেয়ারসহ অন্তত দুই ডজন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিটিতে অর্ধশত চিকিৎসকের চেম্বার থাকলেও অর্ধেকের বেশি চেম্বার এখনও তালাবন্ধ। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে প্রায় তিন হাজারের বেশি চিকিৎসক থাকলেও অর্ধেকের বেশি চিকিৎসক হাসপাতাল থেকে পাড়ার ফার্মেসিতেও বসছেন না। তবে এখন অলিগতিতে থাকা কিছু কিছু ফার্মেসিতে ধীরে ধীরে চিকিৎসকরা বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

নগরীর মাদারবাড়ির সবুজ ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী সবুজ বড়ূয়া বলেন, ‘করোনাকালে আমার ফার্মেসিতে থাকা চেম্বার বন্ধ ছিল। গত ১৫-২০ দিন ধরে ফের চেম্বারে ডাক্তার বসছেন। করোনার আতঙ্ক থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চিকিৎসক রোগী দেখছেন, আমরা রোগীদের কাছে ওষুধ বিক্রি করছি।’ আইস ফ্যাক্টরি রোগের রেজওয়ান র্ফামেসির মালিক রেজওয়ান কবির বলেন, ‘করোনার সময় ফার্মেসির চেম্বারে চিকিৎসক আসা বন্ধ করে দেন। এখনো চেম্বারে চিকিৎসক আসেন না। কয়েকদিন আগে যোগাযোগ করলে চিকিৎসক জানিয়েছেন তিনি কয়েকদিনের মধ্যে আবার চেম্বারে বসবেন।’

চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘করোনায় বহু চিকিৎসক রোগীর সেবা দিতে গিয়ে মারা গেছেন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসকদের বেশিরভাগ চেম্বার বন্ধ হয়ে যায়। এখন অনেকেই চেম্বারে রোগী দেখছেন। যারা এখনো চেম্বার বন্ধ রাখছেন তারাও ধীরে ধীরে চেম্বারমুখী হচ্ছে।’

 

Read previous post:
প্রদীপের সাত ইন্ধনদাতার বিরুদ্ধে মামলা

তৃতীয় মাত্রা টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের অপরাধ কর্মের ‘ইন্ধনদাতা’ হিসেবে চিহ্নিত করে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা...

Close

উপরে