Logo
সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০ | ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

অকুতোভয় চিকিৎসক : এক দিনের জন্যও চেম্বার বন্ধ করেননি, গ্রামেও সেবা দিয়েছেন

প্রকাশের সময়: ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ - রবিবার | সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

মিরসরাইয়ের জনপ্রিয় চিকিৎসক আহম্মদ মঈনুল ইসলাম করোনাকালে একদিনের জন্যও চেম্বারে রোগী দেখা বন্ধ করেননি। উপজেলা সদরে মিরসরাই ডায়াবেটিক সেন্টারে নিজ চেম্বারে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি সপ্তাহে একদিন নিজের গ্রামের বাড়িতেও দরিদ্র রোগীদের সেবা দিয়েছেন তিনি। করোনাকালে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব ধরনের রোগীকে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও দিয়েছেন ডা. আহম্মদ মঈনুল ইসলাম।

মিরসরাইয়ের প্রাইভেট হাসপাতাল ও বিভিন্ন বাজারের ফার্মেসিতে প্রায় শতাধিক চিকিৎসক চেম্বারে রোগী দেখেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর প্রায় সব চিকিৎসক চেম্বারে আসা বন্ধ করে দেন। তখন চিকিৎসাসেবা নিয়ে গ্রামের অনেক মানুষের ভরসা ছিলেন ডা. আহম্মদ মঈনুল ইসলাম। করোনার দুঃসময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তিনি প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। তাকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দিয়েছেন তার সহযোগী মৌসুমী দাশ মুন্নী।

ডা. আহম্মদ মঈনুল ইসলামের রোগী বিবি ফাতেমা (৬৫) বলেন, ‘মানুষ যখন করোনার ভয়ে ঘর থেকে বের হয়নি, ডাক্তাররা চেম্বারে আসতে ভয় করছিলেন, তখনও আমরা জ্বর, কাশি নিয়ে ডাক্তার মঈনুল ইসলামের চেম্বারে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছি।’ মো. মিয়াধন (৫৮) নামে এক রোগী জানান, ‘তার স্ত্রীকে নিয়ে তিনি দুই সপ্তাহ পর পর চেম্বারের এসে ডা. আহম্মদ মঈনুল ইসলামকে দেখিয়েছেন। তিনি নিজেও পায়ের একটি সমস্যা নিয়ে এ ডাক্তারের সেবা নিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনার দুঃসময়ে যখন কোনো বড় ডাক্তারকে চেম্বারে পাচ্ছিলাম না তখন এই ডাক্তার থেকে আমরা চিকিৎসা পেয়েছি।’ আবুল কালাম (৪২) রোগী জানান, করোনাকালীন ডায়াবেটিকের কারণে তার শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে গ্রাম্য ডাক্তার থেকে চিকিৎসা করিয়েছেন। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ডাক্তার মঈনুল ইসলামের চেম্বারে ছুটে যান। তার চিকিৎসা নিয়ে তিনি এখন অনেকটা সুস্থ।

১৯৭৪ সালে মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের হাফিজ গ্রামের জন্মগ্রহণ করেন আহম্মদ মঈনুল ইসলাম। কিশোরগঞ্জ জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে ঢাকা বারডেম থেকে ডায়াবেটিত রোগের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। এমবিবিএস পাসের পর ঢাকা বারডেমে কিছুৃদিন কর্মরত থাকার পর নিজ উপজেলার মানুষের সেবা দিতে ছুটে আসেন মিরসরাইয়ে। এরপর ১৪ বছর ধরে মিরসরাই ডায়াবেটিক সেন্টারে চেম্বারে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ডাক্তার আহম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ হিসেবে মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো ও সামাজিক দায়ীবদ্ধতাকে বড় মনে করে করোনার দুঃসময়ে চেম্বারের আসা বন্ধ করিনি। উপজেলা সদরে নিজ চেম্বারের পাশাপাশি বারইয়ারহাট পৌর বাজারে একটি ফার্মেসি ও ইছাখালী ইউনিয়নের হাফিজ গ্রামে নিয়মিত রোগী দেখেছি। আমৃত্যু আমি মানুষের সেবা করতে চাই।’

Read previous post:
সিলেটে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন: সীমান্তে নজরদারি

তৃতীয় মাত্রা এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের ধরতে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সীমান্ত এলাকায় সর্তকবার্তা পাঠানোর পাশাপাশি জেলা পুলিশ...

Close

উপরে